বাল্যবিবাহ- স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও হচ্ছে বাল্যবিবাহ

বাল্যবিবাহ- স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও হচ্ছে বাল্যবিবাহ

 

বাল্যবিবাহ এর কথা শুনলেই প্রথমে মনে আসে উপমহাদেশের কথা। কিন্তু আপনি জানেন কি আমেরিকায় বাল্যবিবাহ এর স্বীকার হচ্ছে অনেক মেয়ে।আপনারা জেনে অবাক হবেন যে পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী দেশ আমেরিকার অনেক অল্প বয়স্ক মেয়ের সাথে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বিয়ে হয় । আমেরিকার গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্রতায় এর অন্যতম কারন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাল্যবিবাহ এর আসল চিত্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যারা কিনা নিজেদের উন্নত বলে দাবি করে তাদের দেশে বাল্যবিবাহের পরিসংখ্যানটাও রীতিমতো হকচকিয়ে যাবার মত।2000 সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় 2 লক্ষ নাবালিকার প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সাথে বিয়ে হয়েছিল ।মূলত আমেরিকার গ্রামীণ অঞ্চলে দারিদ্রতার কারণে অনেকেই তাদের নাবালিকা কন্যা সন্তানের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে মেয়েদের বিবাহের নূন্যতম বয়স নেই কেন্দ্রীয়ভাবে।তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যগুলোর বিভিন্ন রকমের  আইন আছে।কিন্তু সামগ্রিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় আইন অত্যন্ত প্রয়োজন। এখনো দক্ষিণ ডাকোটা ও টেক্সাসে 16 বছরের কন্যাকে বিবাহের আইনগত বৈধতা রয়েছে। আবার  যুক্তরাষ্ট্রের আরেক অঙ্গরাজ্য টেনেসিতে মেয়েদের বিবাহের জন্য বিবাহের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে 17 বছর। তবে মিসৌরিতে 15 বছর বয়সের নাবালিকা কন্যাদের বিবাহের আইনগত বৈধতা রয়েছে। তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো নাবালিকা কন্যাদের বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 25 টি রাজ্যের কোন নূন্যতম আইন নেই। সেই কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউনিসেফ এর তরফ থেকে চাপ রয়েছে যে তাদের প্রতিটি রাজ্যকে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স 18 করতে হবে।

বৈশ্বিক বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি

ইউএনএফপিএর তথ্য মোতাবেক দারিদ্রতা, আর্থিক  অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ।প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় 1 কোটি 20 লক্ষ বা 12 মিলিয়ন অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ে হয় অর্থাৎ 18 বছর হবার পূর্বেই তাদের বিয়ে হয়। বিশ্বের অতি দারিদ্রপ্রবন অঞ্চল যেমন সাব-সাহারান আফ্রিকাতে প্রায় প্রতি 10 জনের মধ্যে 4 জনের‌ই 18 বছর হবার আগেই বিয়ে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাল্যবিবাহ ব্যাপকহারে হয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাধারণত প্রতি দশজনের তিনজন বাল্যবিবাহের স্বীকার হয়।অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে 18 বছরের নিচে কোন মেয়ের বিয়ে হবার পেছনে পারিবারিক দারিদ্রতা অন্যতম কারণ হিসেবে অবতীর্ণ হচ্ছে।

বাল্যবিবাহ এর একাল সেকাল

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে মেয়েদের বয়সন্ধির আগে বিয়ে দেয়া হতো ।প্রাচীন গ্রিসে মেয়েদের কম বয়সে বিবাহ দেওয়া উৎসাহিত করা হতো।বাল্যবিবাহের  আনুষ্ঠানিকতা  প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। পারিবারিক দারিদ্রতা ছাড়াও সামাজিক চাপ বাল্যবিবাহকে  উসকে দেয়।প্রাচীনকালের রোমে মেয়েদের 12 বছরের পরে এবং ছেলেদের 14 বছরের পরে বিবাহ সর্বজন স্বীকৃত ছিল ।মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের 16 বছর বয়সে বিয়ে হওয়া সাধারন ব্যাপার ছিল।বিখ্যাত মনীষী নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছেন একটি সুস্থ জাতি গঠন করতে হলে একজন শিক্ষিত মা দরকার। কিন্তু মেয়েরা যদি বাল্যবিবাহের শিকার হয় তবে তারা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তাদের এই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হ‌ওয়া তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পেছনে বড় বাধা। এর ফলে একটি শিক্ষিত জাতি বা সুস্থ জাতি গড়ার পরিকল্পনা অধরাই থেকে যাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে বাল্যবিবাহ প্রচলিত হয়ে আসলেও এই প্রথা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে যখন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি প্রভূত মাত্রায় সাধন হয় এবং মানুষ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জানতে পারে।তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারণার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

বাল্যবিবাহ এর ক্ষতি

অপরিণত বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয় ।তারা অর্থনৈতিকভাবে  পরনির্ভরশীল হয়ে ওঠে।15 থেকে 19 বছর বয়সী গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর সম্ভাবনা 20 বছর বয়সী গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর সম্ভাবনার তুলনায় দ্বিগুণ। যেসব নারী 15 বছরের পূর্বে সন্তান ধারণ করে তাদের ফিস্টুলা  বিকাশিত হ‌বার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অপরিনত বয়সে গর্ভবতী মায়েদের সন্তানেরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে ।তারা কম ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহন করে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।ওইসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। তাছাড়া বাল্যবিবাহ  বারবার গর্ভধারনকে উৎসাহিত করে।অপরিণত বয়সে বিয়ে হওয়া মেয়েদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত হয়।অপরিণত বয়সে মেয়েদের বিবাহ হলে বিভিন্ন রকমের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।অনেক ক্ষেত্রে অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া মেয়েদেরকে তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

ইউনিসেফের তথ্যমতে 18 বছরের নিচে বিয়ে হলে সেটা বাল্যবিবাহ নামে পরিচিত এবং এটা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দারিদ্রতা মেয়েদেরকে বাল্যবিবাহের মতো পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। কোন দেশ যত‌ই উন্নত হোক না কেন পরিবারের দারিদ্রতা থাকলে মেয়েরা বাল্যবিবাহের চরম ঝুঁকিতে থাকে।তাই বলা যায় এই সমস্যা শুধু দেশ বা নির্দিষ্ট গণ্ডির মানুষের না । এটা সমগ্র মানবজাতি সমস্যা।

এই লেখাটি পড়ে উপকৃত হয়ে আপনি যদি রেডিটুরিডিং ব্লগকে ডোনেট করতে চান তাহলে বিকাশ-০১৬১৪১৭১৭৬৫ অথবা নগদ-০১৭১৪১৭১৭৬৫ অথবা ইউক্যাশ-০১৭১৪১৭১৭৬৫ এ আপনার ডোনেশন পাঠাতে পারেন।

অথবা,

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করেও আমাদের উৎসাহিত করতে পারেন। ইউটিউব চ্যানেল লিংক এখানে। আশা করি অবশ্যই ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সহযোগীতা করবেন। তাহলে আমরা উৎসাহিত হয়ে আরও লেখা পাবলিশ করব।

তথ্যসয়ত্রঃ এখানে


Leave a Reply