সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র

ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত দেশ হিসেবে বিখ্যাত। পৃথিবীর বিভিন্ন মনিষী এদেশের অপরূপা লীলাভূমি কে চিরসবুজ গালিচার সাথে তুলনা করেছেন। প্রায় প্রতিটি জেলায় রয়েছে নানান দর্শনীয় স্থান এবং প্রতিদিন হাজার মানুষ ভিড় জমান এসব পর্যটন কেন্দ্রে। তাই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি বাংলাদেশের সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে।

আজকের লেখায় যা থাকছে

তবে দেরি না করে চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক –

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

নিঃসন্দেহে আমাদের তালিকার প্রথমে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। লম্বা একসারি ঝাওবন নিয়ে সুনীল সৌন্দর্যে সাজানো এই সমুদ্র সৈকত প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। ভ্রমন পিপাসুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই সমুদ্র সৈকতটি অবস্থিত বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বের জেলা কক্সবাজারে। সমুদ্রের শো শো গর্জন আপনার মনকে পুলকিত করতে বাধ্য। অপরূপ সৌন্দর্যে সাজানো এই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখতে প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন সমুদ্রের বিশালতাকে আলিঙ্গন করতে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

কিভাবে যেতে পারেন?

রাজধানী ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এর দূরত্ব প্রায় ৪২০ কিলোমিটার। সড়ক, রেল কিংবা আকাশপথে সহজেই পৌঁছানো যাবে।

সড়ক পথ: ঢাকা থেকে যেসব বাস কক্সবাজারে যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ্যালো শ্যামলী পরিবহন, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, গ্রীন লাইন, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি।

রেলপথ: সুবর্ণা এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, কিংবা মহানগর প্রভাতী নিয়মিত কক্সবাজার যাওয়া আসা করে থাকে।

আকাশপথ: ইউ এস বাংলা, বিমান বাংলাদেশ এবং নভোএয়ার সহ আরো কয়েকটি বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে।

যাত্রার খরচ: সড়ক পথে ভ্রমণ করলে সর্বোচ্চ ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগতে পারে। রেল পথে প্রতি টিকিট মূল্য  ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। আর আপনি যদি আকাশ পথে ভ্রমণ করতে চান তাহলে আপনাকে ২০০০ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত ফ্লাইট অফার করা হতে পারে।

স্থানীয় রিসোর্ট ও হোটেল এবং ভাড়া: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল এবং পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ হোটেল এবং রিসোর্ট পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিঃসর্গ হোটেল এন্ড রিসোর্ট, লেগুনা বীচ হোটেল এন্ড রিসোর্ট, সাইমন বিচ রিসোর্ট, গ্র্যান্ড বিচ রিসোর্ট ইত্যাদি। হোটেল এবং এর ফ্যাসিলিটি অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২০০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম বুকিং পাওয়া যায়।

সুন্দরবন

বাংলাদেশের আরেকটি জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র হলো পৃথিবীর একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। প্রায় দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে চেনা অচেনা লক্ষাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে মহা বৈচিত্র সমৃদ্ধ সুন্দরবনের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে সাতক্ষীরা খুলনা ও বাগেরহাট জেলায়। পদ্মা মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র এই তিনটি নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে সুন্দরবন। এই বনের প্রায় 66% বাংলাদেশে এবং বাকি ৩৪% ভারতে অবস্থিত। ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থান হল সুন্দরবন। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ হতে হাজার হাজার পর্যটক প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে উঠে আসেন বাংলাদেশে।

সুন্দরবন

সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী:

সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এছাড়াও শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে সুন্দরবন। উইকিপিডিয়ার মতে প্রায় ৪৫৩ টি প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল এই বন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাঘ,হরিণ, বন্য হাতি, বিভিন্ন সরীসৃপ, পাখি, মাছ ইত্যাদি। সুন্দরবনের অন্যতম দুটি উদ্ভিদ হল সুন্দরী এবং গেওয়া। এই সুন্দরী উদ্ভিদের নাম অনুসারেই বনের নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এখানে প্রায় ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল পাওয়া যায়। মৎস্য সম্পদেও সুন্দরবন প্রাচুর্যমন্ডিত। প্রায় ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণীর বসবাস এখানে। তাছাড়া সুন্দরবনের মধু বিশ্বখ্যাত।

কিভাবে যেতে পারেন?

আপনি যদি ঢাকা থেকে সুন্দরবন যেতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে খুলনা যেতে হবে। তারপর খুলনা, কিংবা বাগেরহাটের মংলা অথবা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সহজেই সুন্দরবন যেতে পারবেন। ট্রলারে করে সুন্দরবনের বেশ কিছু জায়গায় ঘুরে আসা সম্ভব।  তবে জেনে রাখা ভালো সুন্দরবন যেতে হলে বন বিভাগের অনুমতি প্রয়োজন হয়। নিজ ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই উচিত হবে কোন ট্যুর অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করে ভ্রমনে যাওয়া।

সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহ:

বাংলাদেশ বন বিভাগ সুন্দরবনের সকল জায়গা ভ্রমণের অনুমতি দেয়না। তবে বেশ কিছু জায়গা বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে আপনি ভ্রমণ করতে পারবেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল করমজল ও হারবারিয়া। এই দুটি স্থান মংলা বন্দর থেকে সবচেয়ে কাছে। এছাড়াও রয়েছে কটকা ও কটকা বীচ, দুবলার চর, হীরণ পয়েন্ট ইত্যাদি। হিরণ পয়েন্ট সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্য। আপনার ভাগ্য যদি সহায় হয় তাহলে এখানেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা পেতে পারেন।

যাতায়াত খরচ কত হতে পারে?

সুন্দরবন যেতে হলে আপনাকে লঞ্চ, জাহাজ কিংবা ট্রলারযোগে যেতে হবে। আর যদি গহীন বনে যেতে চান তাহলে যেতে হবে নৌকায়। দেশি, বিদেশি ও শিক্ষার্থী ভেদে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা রয়েছে। ট্রলার ভ্রমণ মাথাপিছু ২৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। আর যদি আপনি শেখরটেক, হারবারিয়া অথবা দোবেকির মত গহীন স্থানে ঘুরতে চান তাহলে প্রায় ৭ হাজার থেকে ১৫০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

সুন্দরবন ভ্রমণে যা না জানলেই নয়:

  • গমনের অন্তত তিন দিন আগে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে।
  • কখনোই দলছুট হওয়া যাবে না।
  • সাধারণত শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণ বেশি উপভোগ্য হয়ে থাকে।
  • ট্যুর গাইড এর কথা মেনে চলা ভালো।
  • সুন্দরবন এর ভিতরে কোন মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই।
  • কোন বন্যপ্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষতি করা যাবে না।
  • প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।
  • যেহেতু লোকালয় থেকে দূরে যাবেন। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস এবং ওষুধপত্র গুছিয়ে নিতে হবে।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন একই সাথে সূর্যাস্ত দেখা যায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকত দেখতে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন এবং সমুদ্রের বিশালতাকে কাছে টেনে নেন। বাংলাদেশের একটি অন্যতম ভ্রমণ স্বর্গ হলো কুয়াকাটা। একে সাগর কন্যা নামেও অনেকে চিনে থাকেন। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণের পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। সৈকতের পূর্ব দিকে রয়েছে সারি সারি ঝাউবন ও নারকেল বাগান যা এর সৌন্দর্যকে আরো কয়েকগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

কুয়াকাটা

কিভাবে যেতে পারেন?

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর অবস্থান ঢাকা থেকে সড়ক পথের প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার এবং বরিশাল থেকে মাত্র ১০৮ কিলোমিটার। বাসযোগে অতি সহজেই ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নৈসর্গিক এই সমুদ্র সৈকত থেকে।

স্থানীয় আরো বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান:

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত গেলে আপনি আরো বেশ কয়েকটি ভ্রমণ কেন্দ্র ঘুরে আসতে পারেন। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির, কাউয়ারচর, ঝাউবন, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, রাখাইন পল্লী, সুন্দরবনের পূর্বাংশ বা ফাতরার বন, চর গঙ্গামতি, তিন নদীর মোহনা, কুয়াকাটার কুয়া, মিষ্টি পানির কূপ, ঝিনুক বীচ এবং আরো বেশ কিছু স্থান।

কুয়াকাটা গেলে কোথায় থাকবেন?

কুয়াকাটার পাশেই পাবেন দুটি সরকারি ডাকবাংলা এবং বেশ কয়েকটি রেস্ট হাউস। এছাড়াও পাবেন সাগরকন্যা পর্যটন হলিডে হোমস। তাছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগেও গড়ে উঠেছে আরো বেশ কয়েকটি হোটেল এবং রিসোর্ট। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য

  • হলিডে হোমস (০১৭১৫০০১১৪৮৩),
  • হোটেল স্কাই প্যালেস (০১৭১৬৭৪৯০২৭),
  • ইউথ ইন (০১৪৪২৮৫৬২০৭),
  • হোটেল নীলাঞ্জনা (০১৭১২৯২৭৯০৪),
  • হোটেল বনানী প্যালেস (০১৭১৩৬৭৪১৯২)
  • সাগরকন্যা রিসোর্ট লিমিটেড (০১৭১১১৮১৮৯৮)
  • কিংস হোটেল (০১৭১৩২৭৭৬৪০) ইত্যাদি।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ খ্যাত সেন্টমার্টিন দ্বীপ এদেশের আরেকটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে এর অবস্থান প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে এবং টেকনাফ থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র এই দ্বীপের আয়তন প্রায় ১৭ বর্গ কিলোমিটার। স্থানীয়রা একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলে ডেকে থাকেন। সমুদ্রের নীল পানি দেখতে হলে আপনাকে ছুটে যেতে হবে সুদূর সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। পর্যটন মৌসুমে শত শত লোকের ভিড় জমে যায় এই দ্বীপে। তাই এই সময়টাতে প্রতিদিন ৫ টি করে লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা-যাওয়া করে। আকাশ এবং সমুদ্রের নীলিমা যেখানে নিত্য খেলাধুলা করে তাহলে একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

কিভাবে যেতে পারেন?

সেন্ট মার্টিন যেতে হলে প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার তারপর সেখান থেকে টেকনাফ যেতে হবে। মাত্র ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যেই ঢাকা থেকে প্রতিদিন শ্যামলী, হানিফ পরিবহন, গ্রীন লাইন ইত্যাদি বাস টেকনাফ আসা যাওয়া করে। এছাড়া ট্রেনে করেও যেতে পারেন। এক্ষেত্রে সোনার বাংলা, সুবর্ণা এক্সপ্রেস কিংবা মহানগর প্রভাতী পছন্দ করতে পারেন। শীতকালে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ট্রলার ও ছোট ছোট শিপ আসা-যাওয়া করে। বিভিন্ন ক্লাস অনুযায়ী এসবের প্রতি টিকিটের ভাড়া ৮৫০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ভ্রমণ আনন্দময় করতে যা করবেন:

পরবর্তীতে আফসোস করতে না চাইলে আপনি কখনোই একদিনে সেন্টমার্টিন ঘুরে আসার প্ল্যান করবেন না। অন্তত একদিন থাকার প্ল্যান করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাওয়া উচিত। ইচ্ছে করলেই বের হতে পারবেন ডে লং ট্রিপে। এর জন্য পশ্চিমের মেইন বিচে ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দিয়ে ভ্যান ভাড়া করতে হবে। এখানে আপনি হুমায়ূন আহমেদের কটেজ ঘুরে আসতে পারবেন। আর যদি দুই দিনের প্ল্যান করে থাকেন তাহলে ইচ্ছে করলেই ঘুরে আসতে পারবেন ছেঁড়াদ্বীপ থেকে। সূর্যাস্ত দেখার জন্য অনেকেই ছুটে চলে যান এই দ্বীপে। এছাড়াও আপনি ইচ্ছে করলেই এখানে পাবেন স্কুভা ডাইভিং কিংবা স্নোরকেলিং এর বিশেষ সুবিধা। এক্ষেত্রে ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যেই প্যাকেজ আকারে পেয়ে যাবেন দুটোরই সুযোগ।

সেন্ট মার্টিনে কোথায় থাকবেন?

সেন্ট মার্টিন সমুদ্র সৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক হোটেল এবং রিসোর্ট। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –

  • হুমায়ূন আহমেদের সমুদ্র বিলাস (০১৯১১৯৩০৬৬৬)
  • ব্লু মেরিন রিসোর্ট (০১৭১৩৩৯৯০০১)

রুম ভাড়া ১৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা।

  • শায়রি ইকো রিসোর্ট (০১৭১১২৩২৯১৭)

ভাড়া ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা ।

  • ডায়মন্ড সি রিসোর্ট ( ০১৬৭৭৫৭৭৮৯৯)

ভাড়া ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা।

  • সমুদ্র কুটির (০১৬১৬৫০৩১২৯)

ভাড়া ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

এগুলো ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি হোটেল আপনি খুব সহজে খুঁজে পাবেন। যেগুলোর ভাড়া এবং থাকার খরচ প্রায় একই রকম।

স্পেশাল কি কি খাবার পাবেন?

সেন্টমার্টিনের ডাব আপনাকে অবশ্যই একবার হলেও টেস্ট করে দেখতে বলবো। একাধারে মিষ্টি এবং সুস্বাদু এই ডাবের পাশাপাশি এখানে আপনি পাবেন বিভিন্ন রকম এবং বাহারি স্বাদের সামুদ্রিক মাছ। যেমন: কোরাল, ইলিশ, রূপচাঁদা, সুন্দরী পোয়া, কালাচাঁদা, লবস্টার, লাইট্টা নানা রকম শুটকি। এই সকল খাবার আপনি স্থানীয় হোটেল এবং রিসোর্টেই পেয়ে যাবেন।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে কিছু সতর্কতা ও টিপস:

  • খরচ বাঁচাতে আগেই শিপের টিকিট কেটে নিতে পারেন।
  • পর্যটন এলাকা তাই জিনিস কিনতে দরদাম ঠিকভাবে করবেন।
  • রাত বারোটার পর সৈকতে চলাফেরা নিষেধ।
  • সেন্ট মার্টিনে অন্যান্য মোবাইল নেটওয়ার্কের তুলনায় টেলিটক ব্যবহার করা ভালো।
  • যেখানে সেখানে ময়লা কিংবা প্লাস্টিক পলিথিন ফেলবেন না।
  • কক্সবাজার থেকেও বিভিন্ন প্যাকেজ আকারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করা যায়।
  • সমুদ্রে নামার সময় ধারালো প্রবাল হতে সাবধান থাকবেন।
  • দালালের খপ্পরে না পড়ে নিজেই সবকিছু করবেন।

ষাট গম্বুজ মসজিদ

এতক্ষণে তো আমরা প্রাকৃতিক অনেক স্থান ঘুরে এসেছি। চলুন এবার বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহাসিক স্থান তথা ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট থেকে ঘুরে আসা যাক। মসজিদটির অবস্থান বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ পশ্চিম দিকে। অত্যন্ত প্রাচীন এই মসজিদের গায়ে কোনরকম শিলালিপি নেই। এই মসজিদটি কে নির্মাণ করেছেন সে সম্পর্কে নির্ভুল কোন তথ্য বা প্রমাণ কোথায় পাওয়া যায় না। তবে মসজিদের গঠন এবং অন্যান্য বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য থেকে ঐতিহাসিকদের মতে আন্দাজ করা হয়েছে এটি নির্মাণ করেছেন খান-ই-জাহান।সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ এর আমলে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে একটি রাজ্য গড়ে তোলা হয় যার নাম খলিফাবাদ। খান জাহান প্রথম দিকে দরবার করার জন্য একটি বৈঠকশালা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে এটিই ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়ে ওঠে।

সেরা ১০টি রিসোর্ট

মসজিদটির কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য:

  • এই মসজিদের পাথরগুলো সরাসরি রাজমহল থেকে আনা হয়েছিল।
  • নাম ষাট গম্বুজ মসজিদ হলেও এর মোট গম্বুজের সংখ্যা কিন্তু ৮১ টি। প্রত্যেক লাইনের ১১ টি করে মোট সাতটি লাইনে ৭৭ টি এবং চারটি কোনায় আরো চারটি গম্বুজ মিলে সর্বমোট ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে এই মসজিদে।
  • তাই ষাট গম্বুজ মসজিদ নামটি এসেছে গম্বুজের সংখ্যা অনুযায়ী নয়। লোকমুখে অনেকগুলো গম্বুজ বোঝাতেই ধীরে ধীরে ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে এটি।
  • এ মসজিদের ভিতরের পশ্চিম দিকের দেয়ালে মোট দশটি মিহরাব রয়েছে। উত্তরে চারটি এবং দক্ষিনে পাঁচটি ও মাঝে আরেকটি নিয়ে মোট দশটি মিহরাব।
  • অনেকেই বলেন মসজিদটিকে মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
  • মসজিদের পশ্চিম দেয়ালের উত্তর পাশে যেখানে আরেকটি মিহরাব থাকার কথা ছিল সেখানে একটি ছোট দরজা রয়েছে। খান-ই-জাহান সেই দরজা দিয়েই দরবার হলে প্রবেশ করতেন।
  • ইউনেস্ক ষাট গম্বুজ মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা ১৯৮৫ সালে।
  • মসজিদে মোট দরজার সংখ্যা ১৮টি। পূর্ব দেয়ালে ১১ টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা এবং উত্তরা দক্ষিণে আরো আছে ৭ টি দরজা।
  • মসজিদের ভিতরে রয়েছে ষাটটি স্তম্ভ বা পিলার। আর স্তম্ভগুলো বসানো হয়েছে বিভিন্ন রকম পাথর দিয়ে। তাই অনেকেই মনে করেন ৬০ টি স্তম্ভের উপর মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে বলেই ষাট গম্বুজ নামটি এসেছে।
  • ধারণা করা হয় মসজিদটির প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো।

মসজিদে প্রবেশের সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য:

দর্শনার্থীদের জন্য মসজিদে প্রবেশের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। তবে আপনি যদি জাদুঘরে প্রবেশ করতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে যদি গরমকালে গিয়ে থাকেন। আর শীতকালে গেলে ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। আবার দুপুরে একটার পর আধা ঘন্টা জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়।

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য জাদুঘরে প্রবেশের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছরের অধিক প্রত্যেকের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশীদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ২০০ টাকা প্রবেশ ফি। তবে সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ১০০ টাকা ছাড় রয়েছে।

পার্শ্ববর্তী আরো বেশকিছু দর্শনীয় স্থান:

ষাট গম্বুজ মসজিদের সামনেই পাবেন বাগেরহাট জাদুঘর। যেখানে পাবেন বিভিন্ন রকম নিদর্শন যার বেশিরভাগই সুলতানি আমলের। একটু দূরেই রয়েছে ঘোড়াদিঘি। মসজিদে সৌন্দর্যকে কয়েক করে বাড়িয়ে দিয়েছে এই দৃষ্টিনন্দন দিঘিটি। মসজিদের উত্তর পূর্বকোণে আরেকটি দিঘী রয়েছে যার নাম কোদাল ধোয়া। উত্তর দিকে ৩০০ মিটার এগোলে পাবেন খান জাহানের ঢিবি বা বসতভিটা। আর ষাট গম্বুজ মসজিদ থেকে দুই কিলোমিটার দূরে শহরের দিকে এগুলে পাবেন খান জাহান আলীর বাজার দরগাহ। মসজিদের ৫০০ মিটার পিছনে রয়েছে আরেকটি বিবি বেগনির মসজিদ। এছাড়াও চুলাখোলা ও সিঙ্গাইর মসজিদ তো রয়েছেই।

কিভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?

খুলনা শহর থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে বাগেরহাট শহরে ষাট গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। তাই সড়ক ও রেলপথে সহজেই আপনি খুলনা যেতে পারেন। তারপর সেখান থেকে বাস বা সিএনজি যোগে মসজিদে চলে আসতে পারবেন।

আর থাকার জন্য বাগেরহাট শহরেই অনেকগুলো হোটেল রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারি গেস্ট হাউস।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

ঢাকার বাসিন্দাদের কাছে ছুটি কাটাতে এবং কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত পার করার জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি জায়গা হল বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা। অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক একটি পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে চিড়িয়াখানাটি। ঢাকার মিরপুরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানাটি প্রথম যাত্রা শুরু করে ১৯৫০ সালে গুটি কয়েক বন্যপ্রাণী নিয়ে। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয় মিরপুরে চিড়িয়াখানাটি স্থাপনের জন্য। সব শেষে ১৯৭৪ সালের ২৩শে জুন সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা

যেসব প্রাণীর দেখা পাবেন:

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার মূল আকর্ষণ যদিও রয়েল বেঙ্গল টাইগার তবুও এখানে গন্ডার, সারস, জিরাফ, ময়ূর, হরিণ, কুমির সহ আরো নানান প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এখানে রয়েছে প্রায় ৯১ প্রজাতির ১৫০০ টিরও বেশি পাখি। এসবের মধ্যে ময়ূর, উটপাখি, পেঁচা, শকুন ঈগল ইত্যাদি অন্যতম। আরো রয়েছে প্রায় ১৩ প্রজাতির ২৮ প্রজাতির মাছ। সর্বমোট এখানে টাকা মিলবে ১৩৪ প্রজাতির প্রায় ২১৫০ টি প্রাণী।

প্রবেশের টিকিট মূল্য ও সময়সূচি:

জেনে রাখা ভালো বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রতি রবিবার বন্ধ থাকে। তবে যদি সেদিন কোন সরকারি ছুটি থাকে তাহলে চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। শীতকালে সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এবং গরম কাল সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানার গেট খোলা থাকে।

দুই বছর থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য প্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভেতরের জু মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে হলে আরো দশ টাকা লাগবে। আর আপনি যদি স্কুল কলেজ কিংবা ইনভারসিটির স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য রয়েছে অর্ধেক ছাড়।

কিভাবে যাওয়া যায়?

ঢাকার যে কোন স্থান থেকে মিরপুর-১ অথবা জাতীয় চিড়িয়াখানায় যেকোনো প্রকার ট্যাক্সি, পিএনজি, প্রাইভেট কার কিংবা বাসযোগ সহজেই যাওয়া যায়। আর ঢাকার বাইরে থেকে হলে নিঃসন্দেহে আপনাকে প্রথমে ঢাকা আসতে হবে।

গাড়ি পার্কিং সুবিধা:

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে গাড়ি পার্কিং সুবিধা প্রদান করে থাকে। বাস অথবা ট্রাক সাইজের যানবাহনের জন্য ৪০ টাকা, ট্যাক্সি কিংবা প্রাইভেট কারের জন্য বিশ টাকা, আর মোটরসাইকেল এর জন্য ৫ থেকে ১০ টাকা লাগতে পারে।

বান্দরবান

অসংখ্য পাহাড় এবং ঝর্ণা ঘেরা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত একটি জেলা হল বান্দরবান পর্যটন কেন্দ্র। বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানের দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিলোমিটার।  বান্দরবানে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার পাহাড় তাজিংডং। এছাড়াও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান রয়েছে বান্দরবানে। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে আলিঙ্গন করতে হলে আপনাকে ছুটে যেতে হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড় ঘেরা পার্বত্য জেলা বান্দরবানে।

বান্দরবান

বান্দরবানের বেশ কিছু ভ্রমণ কেন্দ্র:

  • নীলাচল: প্রকৃতি পিপাসুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান হলো নীলাচল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২০০০ ফুট। আকাশ যদি মেঘহীন থাকে আর ভাগ্য যদি সহায় হয় তাহলে আপনি নীলাচল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করতে পারবেন। আর চারিদিকের ছিন্নভিন্ন পাহাড়গুলো আপনার দৃষ্টি কেড়ে নিতে বাধ্য।
  • নিলগিরি: কিছুটা দূরেই নীলাচলের মতো আরেকটি পাহাড় ঘেরা স্থান হল নীলগিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪০০০ ফুট। নীলগিরি এলাকার পাশে সব সময় মেঘে ঢাকা থাকে বলে অনেকেই নীলগিরিতে মেঘের দেশ বলে থাকেন। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ গুলোর মধ্যে নীলগিরির হ্যালিপ্যাড অন্যতম।
  • শৈলপ্রপাত ঝর্ণা: বান্দরবানের থানচি থানা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। এর পানি অত্যন্ত ঠান্ডা এবং প্রচুর স্বচ্ছ পাথর থাকায় স্থানীয়দের কাছে জলের একটি বড় উৎস শৈলপ্রপাত ঝর্ণা।
  • চিম্বুক পাহাড়: বান্দরবান জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পাহাড় হল চিম্বুক পাহাড়। প্রতিদিন শত শত মানুষ দূর দূরান্ত থেকে মেঘের ভেলা দেখতে ছুটে আসেন এই পাহাড়ে। তবে মনে রাখবেন বিকাল ৪ টার পর চিম্বুক-থানচি রোডে কিন্তু কোন যানবাহন চলবে না।
  • বগালেক: বান্দরবানের আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র হল বগালেক। লেকটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর পানি সম্পূর্ণ নীল। তাই দর্শনার্থীদের কাছে বগালেক অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা।
  • স্বর্ণমন্দির: বান্দরবান সদরে অবস্থিত এই স্বর্ণমন্দির এ রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তি। তবে স্বর্ণমন্দিরে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই সকাল সাড়ে আটটা এগারোটার মধ্যেই যেতে হবে। এর প্রবেশ কি মাত্র ২০ টাকা।

এগুলো ছাড়াও বান্দরবানে রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি লেক, ঝরনা ও পাহাড়। এসবের মধ্যে অন্যতম মায়া লেক, ফাইপি ঝর্ণা, সাইংপ্রা ঝর্ণা, থানকোয়াইন ঝরনা, তাজিংডং ও ক্রেউকাডং পাহাড়, বড়ইতলি ট্রেইল ইত্যাদি।

কিভাবে যেতে পারবেন?

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য সরাসরি বাস ট্রেন কিংবা বিমান রয়েছে। তবে বান্দরবান যাওয়ার জন্য সরাসরি শুধু বাস রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে লোকাল বাসে করে আপনি সহজেই বান্দরবান পৌঁছতে পারবেন। বান্দরবান শহর থেকে উপরে বর্ণিত এলাকাগুলোতে আপনি ইচ্ছে করলে অটোরিকশা, জীব কিংবা চাঁদের গাড়িতে যেতে পারবেন। চাঁন্দের গাড়ি সকাল আটটা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত পাওয়া যায়।

বান্দরবানে কোথায় থাকবেন?

বান্দরবান জেলার পর্যটন স্থানগুলোর আশেপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি নামিদামি হোটেল এবং রিসোর্ট। এসবের মধ্যে অন্যতম-

  • হোটেল হিল ভিউ (০১৩৬১৬৩০৪৫)

রুম ভাড়া ১০০০ থেকে ৪ হাজার টাকা।

  • হলিডে ইন (০১৩৬১৬২৭৪২)

প্রতি রুম ১৫শ থেকে তিন হাজার টাকা।

  • হিল সাইড রিসোর্ট ( ০১৫৫৬৫৩৯০২২)

প্রতি রুম ১৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

  • হোটেল থ্রি স্টার (০১৫৫৩৪২১০৮৯)

বান্দরবান বাস স্ট্যান্ডের পাশেই অবস্থিত এই হোটেলের রুম ভাড়া প্রতিষ্ঠা থেকে ত্রি হাজার টাকা।

বান্দরবান ভ্রমণে কিছু সাবধানতা:

  • দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে আর্মিদের চেকিং পার করতে হবে। আর সেজন্য সব রকমের পরিচয় পত্র সাথে রাখা ভালো।
  • গাইড নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার কর্তৃক কিংবা সমিতি থেকে ভাড়া করা গাইড নিবেন।
  • তবে বিকাল ৪ টার পর আর আর্মি থেকে অনুমতি পাওয়া যায় না।
  • বর্ষাকালে ভ্রমণ করতে সব সময় সাবধান থাকবেন।
  • স্থানীয়দের প্রতারণা হতে সজাগ থাকবেন।
  • যে কোন জিনিস কেনার সময় খুব ভালোভাবে দরদাম করে নেবেন।রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটি

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আরেকটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত জেলা হলো রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্র। আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলাও এটি। বান্দরবানের মত পাহাড়ে ঘেরা ও ঝরনা দিয়ে সাজানো এই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ঘেরা রাঙ্গামাটি দেখতে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন।

 

রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানসমূহ:

চলুন রাঙ্গামাটির বেশ কিছু ভ্রমণ কেন্দ্র থেকে ঘুরে আসা যাক-

  • কাপ্তাই লেক: পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হলো কাপ্তাই লেক। অপরূপ প্রকৃত নৈসর্গ সমৃদ্ধ চোখ জুড়ানো সবুজের মায়ায় ঘেরা এবং অথৈ জলরাশি নিয়ে সাজানো কাপ্তাই লেকের আয়তন প্রায় ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। জেনে রাখা ভালো এশিয়ার মধ্যে সর্ববৃহৎ কৃত্রিম হ্রদ এটি।
  • ঝুলন্ত ব্রিজ: কাপ্তাই লেকেই রয়েছে বিশ্বখ্যাত ঝুলন্ত ব্রিজ। আপনি ইচ্ছে করলে স্পিডবোর্ড কিংবা নৌকা রিজার্ভ করে কাপ্তাই লেকের ঝুলন্ত ব্রিজ সহ আরো বেশ কয়েকটি স্পট ঘুরে আসতে পারেন। এখানে রয়েছে শুভলং ঝর্ণা ও কর্ণফুলী নদী।
  • রাজবন বিহার: এটি বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে বৃহত্তম বিহার। সাত তলা বিশিষ্ট এই স্বর্গঘরে রয়েছে একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং অনেকগুলো ভাবনাকুটির ছাড়াও বেশ কিছু রন্ধনশালা ও ভোজনালয়। এছাড়াও রয়েছে লাইব্রেরী ও প্রেস। এর চারদিকে উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।
  • লেক ভিউ আইল্যান্ড: রাঙ্গামাটি ভ্রমণকারীদের কাছে আরেকটি জনপ্রিয় স্থান হল লেক ভিউ আইল্যান্ড। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণাধীন এই আইল্যান্ডে পাবেন দৃষ্টিনন্দন কটেজ, বজরা, মাছ ধরার সুব্যবস্থা, সুইমিং পুল ও অ্যাডভেঞ্চার পার্ক।
  • সাজেক ভ্যালি: বর্তমানে বাংলাদেশের আরেকটি জনপ্রিয় স্থান হল সাজেক ভ্যালি। এটিও রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত। পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা কাছ থেকে উপভোগ করার জন্য শত শত ভ্রমণকারী প্রতিদিন এখানে ভিড় জমান। এর পাশেই রয়েছে কমলক ঝর্ণা
  • আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট: রাঙ্গামাটির সেনানিবাস এলাকায় বাংলাদেশের অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক একটি পরিবেশে গড়ে উঠেছে আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট। বিলাস বোলে রিসোর্টে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাইড,হ্যাপি আইল্যান্ড, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, বেশ কিছু ভাস্কর্য এবং স্পিডবোর্ড কিংবা প্যাডেল বোটে চড়ার বিশেষ সুবিধা।

উপরে বর্ণিত স্থানগুলো ছাড়াও রাঙ্গামাটিতে আপনি আরো অসংখ্য স্থান খুঁজে পাবেন যেখানে আপনার মন এবং আত্মাকে প্রশান্তি দিতে পারবেন। এসবের মধ্যে অন্যতম রিলিতে লেক, ফুরমোন পাহাড়, তিনমুখ পিলার, গাছকাটা ঝর্ণা, ঘাগড়া ঝর্ণা, জুরাছড়ি, ঐতিহ্যবাহী চাকমা রাজবাড়ি ইত্যাদি।

রাঙামাটি কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম আপনি বিমান, রেল কিংবা সড়ক পথে সহজেই যেতে পারবেন। তারপর সেখান থেকে মাত্র ১১০ টাকা ভাড়ায় আধা ঘন্টার মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা সদরে চলে আসবেন। এখানে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাস পাওয়া যায়।

রাঙ্গামাটি কোথায় থাকবেন?

রাঙ্গামাটির মধ্যে পর্যটকদের জন্য অসংখ্য বিলাসবহুল হোটেল এবং রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব হোটেলের মধ্যে সুফিয়া হোটেল, নীডস হিল ভিউ হোটেল, শাইনিং হিল গেস্ট হাউস, হোটেল আনিকা, হোটেল গ্রীন ক্যাপেল, টুকটুক ইকো ভিলেজ ইত্যাদি অন্যতম। এসব হোটেলে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া হতে পারে।

শ্রীমঙ্গল

পরিবার পরিজন কিংবা প্রিয়জন নিয়ে কিছু নিরিবিলি সময় পার করার জন্য শ্রীমঙ্গলের চা বাগান হতে পারে অন্যতম একটি পছন্দ। মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বাংলাদেশের সর্বাধিক চা বাগান। আপনার চোখে যতদূর যাবে শুধু দেখবেন সবুজের সমারোহ আর সারি সারি টিলা, অসংখ্য আঁকাবাঁকা পথ এবং অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এছাড়াও দেখা মিলবে স্থানীয় আদিবাসী যেমন খাসিয়া, মনিপুরী, গারো ও ত্রিপুরা এদের বিচিত্র ধর্মী ঘরবাড়ি।

শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানসমূহ:

চা বাগান ছাড়াও শ্রীমঙ্গল পর্যটন কেন্দ্র এ গেলে খুঁজে পাবেন আরো অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • লাওড়া ছাড়া জাতীয় উদ্যান: গবেষণায় দেখা গেছে শ্রীমঙ্গলে যাওয়া পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় স্থান হল লাউড়া ছাড়া জাতীয় উদ্যান। সরুপথের দুপাশে দেখা মিলবে ঘন জঙ্গল এবং অসংখ্য প্রকার বন্যপ্রাণী। তবে দশরথ থেকে কাছে সবচেয়ে বাগানটির মাঝ পথ দিয়ে বয়ে চলা রেললাইন।
  • মাধবপুর লেক: ছোট পাহাড়ের উপর চা বাগান দিয়ে ঘেরা এই লেকটি দেখতে ছুটে আসেন শত শত মানুষ। শ্রীমঙ্গল থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। এখানে প্রবেশের জন্য আলাদা করে কোন প্রবেশ ফি লাগেনা।
  • বাইক্কা বিল: বলা হয়ে থাকে বাইক্কা বিল না গেলে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ সম্পূর্ণ হয় না। আপনি যদি নীরবতা পছন্দ করেন এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে আলিঙ্গন করতে চান তাহলে ভূমি ও জলের মিতালীতে আচ্ছাদিত বিলের পাশে একটি পড়ন্ত বিকেল কাটানো কখনোই মিস করবেন না। এখানে গেলে অতিথি পাখিদের দেখা মিলতে পারে।
  • চা-রিসোর্ট ও জাদুঘর: ইংরেজ আমলের গোড়াপত্তন থেকে শুরু করে শ্রীমঙ্গলে চায়ের যে ইতিহাস গড়ে উঠেছে সেই ইতিহাস জানতে অবশ্যই এখানে আপনাকে যেতে হবে। ইংরেজদের অত্যাচার নিপীড়ন এবং বাঙালি শ্রমিকদের আত্মগাঁথা তুলে ধরে এই জাদুঘর।
  • হামহাম ঝর্ণা: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে অবস্থিত এই ঝর্ণা মাধবকুণ্ড ঝাঁটা থেকে প্রায় তিন গুন বড়। তবে গবেষক দলের এখানে তেমন কোন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
  • লাসুবন গিরিখাদ: শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরবর্তী ত্রিপুরা সীমান্তের কাছাকাছি জঙ্গল ঘড়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত লাসুবন গিরিখাদ। দুঃসাহসি অভিযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান হল এটি।
  • রাবার বাগান: চা বাগান দেখতে গিয়ে রাবার বাগান পেয়ে গেলেন! বিষয়টা চমৎকার হলো না? শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বেশ কয়েকটি রাবার বাগান। ইচ্ছে করলে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ের অসমতল জায়গায় গড়ে ওঠা এই সাদা সোনার ভান্ডার গুলিতে।

এছাড়াও শ্রীমঙ্গলে রয়েছে স্বর্ণালী ছড়া, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, শীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, সাত রঙের চা এবং আরো অনেক কিছু।

শ্রীমঙ্গল কিভাবে যাবেন?

ঢাকা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৮২ কিলোমিটার। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার একটি থানা হলো শ্রীমঙ্গল। বাস কিংবা ট্রেনে সহজেই সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। আকাশ পথে চাইলে আপনাকে প্রথমে সিলেট বিমানবন্দরে জানতে হবে। তবে আমি আপনাকে ট্রেন জার্নি করার জন্য উপদেশ দিব। কেননা সিলেটের আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে এর জানালা দিয়ে বাইরের প্রকৃতিকে অবলোকন করার মত সৌভাগ্য আপনি ট্রেনে ছাড়া আর কোথাও পাবেন না।

শ্রীমঙ্গলে যেখানে থাকবেন

চিন্তার কোন কারণ নেই। যেহেতু এটি একটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান, তাই এর আশেপাশে গড়ে উঠেছে মধ্যমানের থেকে বিলাসবহুল বেশ কয়েকটি হোটেল এবং রিসোর্ট। যেমন:

  • হোটেল ইউনাইটেড (০১৭২৩০৩৩৬৯৫)
  • হোটেল প্লাজা (০১৭১১৩৯০০৩৯)
  • হোটেল টি টাউন (০১৭১৮৩১৬২০২)
  • গ্রিন ভিউ রিসোর্ট (০১৭৩৯৪৬৩৯৯৮)
  • হোটেল মেরিনা (০১৭৮৭৩৩৩৫৪৪)

এ সকল হোটেলে বাজেট প্রায় একই রকম অর্থাৎ ১০০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যেই আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী হোটেল বুকিং পেয়ে যাবেন।

সোনারগাঁও

আপনি কি জানেন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন রাজধানী কোনটি? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন সোনারগাঁও। ঢাকার আদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত বাংলার এই প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও পর্যটন কেন্দ্র। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৬ কিলোমিটার। পরিবার-পরিজন নিয়ে একদিনের মধ্যে ঘুরে আসার জন্য একটি অন্যতম স্থান হলো নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও। বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে লালন করে বলে প্রতিদিন এখানে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ভিড় জমান। আপনার সন্তানদের প্রাচীন এই ইতিহাস সম্পর্কে স্বচক্ষে ধারণা দেবার জন্য সোনারগাঁও হতে পারে ভালো একটি অপশন। ১২৮১ সালে মুসলিম আধিপত্যের সূচনার আগ পর্যন্ত বাংলার সুলতানদের রাজধানী ছিল এই সোনারগাঁও। তবে তখনকার আমলে এর নাম ছিল পানাম নগর। আর বর্তমানে এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।

সোনারগাঁও

সোনারগাঁও গেলে যা যা পাবেন:

এখানে আপনি বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ভ্রমন করতে পারবেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

  • সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর: বাংলাদেশে যেসব প্রাচীন পর্যটন স্পট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর। দারুণ স্থাপত্য শৈলীতে সমৃদ্ধ এবং ইতিহাস ঐতিহ্য প্রাচুর্যমন্ডিত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই সোনারগাঁও লোক শিল্প জাদুঘর। এই জাদুঘরে রয়েছে মোট ১১ টি গ্যালারি। এছাড়াও রয়েছে সেমিনার কক্ষ, লোকজ মঞ্চ এবং কারুশিল্প গ্রাম। পোড়ামাটির নানা রকম নিদর্শন ছাড়াও এখানে আরো খুঁজে পাবেন পিতল, তামা ও কাসার তৈরি তজসপত্র এবং শিলপাটি, বাঁশ ও বেতের তৈরি প্রাচীন কিছু নিদর্শন। এছাড়াও এখানে একটি কৃত্রিম হ্রদ রয়েছে। সেখানে ইচ্ছে করলেই চার-পাঁচজন ১৫০ টাকা করে নৌকা ভ্রমণ করতে পারবেন। জেনে রাখা ভালো প্রতি বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে। আর প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিতরে ঢুকতে দেয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়। প্রতি টিকিটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা।
  • পানাম নগর: জাদুঘর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার সামনে এগুলোই আপনি পাবেন চোখ জুড়ানো অপূর্ব নির্মাণশলীতে সাজানো বাংলাদেশের প্রাচীন রাজধানী পানাম নগর। সুলতানি আমলের তাঁত ব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র ছিল এটি। এখানে গেলে দেখা মেলে প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো মঠবাড়ি। আর রাস্তার দুপাশে দেখতে পাবেন সুরাম্য অট্টালিকা সারি সারি রয়েছে। পঙ্কিরাজ খাল নামে একটি জলাশয় পানাম সিটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এছাড়াও পাবেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নির্মিত বাণিজ্য কুঠি যার নাম নীলকুঠি। আর রয়েছে বেশ কিছু প্রাচীন ভবন যেমন: পোদ্দার বাড়ি। এখানে প্রবেশের টিকিট মূল্য জনপ্রতি ১৫ টাকা।
  • বাংলার তাজমহল: শাহজাহান তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে নির্মাণ করেন তাজমহল। আর এটি অবস্থিত ভারতের আগ্রায়। এই তাজমহলকে ঘিরে দেশে-বিদেশে প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। আর তাকে কেন্দ্র করেই নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশ বাংলার তাজমহল। এটি নির্মাণ করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার আহসানুল্লাহ মনি। নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখানকার মার্বেল পাথরগুলো আমদানি করা হয়েছিল ইতালি থেকে এবং বেলজিয়াম থেকে আনা হয়েছিল হীরা। এছাড়াও ১৬০ কিলোগ্রাম রোলতে বানানো হয় তাজমহলের গম্বুজ। তাজমহলে প্রবেশের প্রথমেই দেখা যায় ১০ টি চোখ জুড়ানো ঝরনা। এর পাশেই রয়েছে আরেকটি পিরামিড। তাজমহল ও পিরামিড একত্রে ভ্রমণ করতে চাইলে জল প্রতিটি টিকিট মূল্য ১০০ টাকা গুনতে হবে। পিরামিড টি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। যাদের মিশরে কিংবা ভারতের আগ্রায় যাবার সামর্থ্য নেই তাদের জন্য বানানো হলেও মনমুগ্ধকর এই দুটি নিদর্শন আপনার স্মৃতিপটে ডাগ কাটতে বাধ্য।
  • গোয়ালদি মসজিদ: সোনারগাঁয়ে অবস্থিত এই মসজিদটি বাংলার ইতিহাসকে বুকে লালন করে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৫১৯ সালে। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নির্মিত এই মসজিদের দারুণ স্থাপত্য শইলী আপনাকে মুগ্ধ করবে। মসজিদের বাইরের দেয়াল একটি শিলালিপি রয়েছে আর সেখানে এটি নির্মাণের যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা আছে। পানাম নগরে যেসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় তার মধ্যে গোয়ালাদি মসজিদ অন্যতম।

এছাড়াও সোনারগাঁও পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে আপনার জন্য থাকছে পাঁচ পীরের মাজার, বারদী গ্রাম, কার্তিক ব্রত ইত্যাদি।

সোনারগাঁও ভ্রমণে যেসব বিষয়ে মাথায় রাখবেন:

  • সোনারগাঁওয়ে ভালো কোন খাবারে ব্যবস্থা না থাকায় আপনি ইচ্ছে করলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারেন।
  • লোকশিল্প জাদুঘরের পাশে পিকনিক আমেজে খাওয়া দাওয়া করার জন্য বিশেষ পরিবেশ সাজানো রয়েছে।
  • অন্যান্য পর্যটন স্থানের মত এখানে ছবি তোলার আলাদা ব্যবস্থা নেই। তাই বাড়ি থেকে নিজস্ব ক্যামেরা সঙ্গে নিতে পারেন।
  • পর্যটন এলাকা বলে যে কোন জিনিস কেনার আগে ভালোমতো দরদাম এবং কোয়ালিটি চেক করে নেবেন।
  • জাদুঘরের ভিতর কোন নিদর্শন যেন আপনার হাতে নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন এবং ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার চেষ্টা করবেন।

আপনি যদি পুরো সময় আমাদের সাথে থাকেন। তাহলে নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছেন বাংলাদেশের মধ্যেও এমন শত শত জায়গা রয়েছে যেগুলোতে ভ্রমন করলে আপনার মন ভালো হতে বাধ্য। সেজন্য আপনার টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করেছি বাংলাদেশের সেরা দশটি পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে। আশা করি, এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও আপনাদের উপকার করতে পেরেছি। ধন্যবাদ।

Previous articleবাংলাদেশের সেরা ১০ টি রিসোর্ট: ছুটি কাটানোর সর্বোত্তম জায়গা
I am zakaria. I am small blogger. Side by side I am writing for others blog also. Feel free to knock me if you need me.