চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে – দু’টি পাতা ও একটি কুঁড়ির গল্প

চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে – দু’টি পাতা ও একটি কুঁড়ির গল্প

চা পাতায় কোন কোন ভিটামিন থাকে – কথাটি শুনেই নিশ্চই অবাক হচ্ছেন? চায়ে আবার ভিটামিন কিসের? চা তো একটা নেশা । কথায় কথায় আমরা বলি, আমার চায়ের নেশা পেয়েছে, তাই না? আবার বলি- সকাল বেলা এক কাপ চা না হলে আমার চলেই না। সেই সব চা প্রেমীদের জন্য আমার আজকের ব্লগ- “চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে”। আসুন সবিস্তারে জেনে নেই চা পাতা নিয়ে জানা অজানা সবকিছু।

চা কি তা আগে জেনে নিন

চা বলতে আমরা সাধারণত একপ্রকার সুগন্ধযুক্ত এবং স্বাদবিশিষ্ট কোমল পানীয়কে বুঝাই যা কখনও গরম আবার কখনও বা ঠান্ডা অবস্থায় পান করা হয়। কখনও এর স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সাথে দুধ, আদা কিংবা হরেক রকম মশলা মিশিয়ে তৈরি করা হয়।

ইংরেজিতে চা এর প্রতিশব্দ Tea বা টি, গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে এর নামকরন করা হয়। আর চায়নাতে এই টি এর উচ্চারনই ছিল চি, যা পরবর্তীতে চা হয়ে যায়।

জানলে অবাকই হবেন, সারা বিশ্বে পানির পরেই সবচেয়ে জনপ্রিয় উপভোগ্য পানীয় হল চা। যার কারণ হিসেবে বলা যায় চায়ের একধরনের স্নিগ্ধ এবং প্রশান্তিদায়ক চরিত্র রয়েছে যা আমরা অনেকেই উপভোগ করি।

চা আসলে এক প্রকার প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য। আমরা চা পাতার যে পাউডার বা গুড়া দেখে থাকি তা আসলে চা গাছের পাতা থেকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। যা বিভিন্ন ব্রান্ডের নামে প্যাকেটজাত অবস্থায় বাজারে পাওয়া যায়।

চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে জানতে চাইলে আরও পড়তে থাকুন, মজার মজার তথ্য আপনার সামনে অপেক্ষা করছে।

চা এর উৎপত্তি কোন দেশে

চাইনিজ পণ্যের প্রতি আপনার যতই অনিহা থাকুক না কেন আপনাকে মান্তেই হবে চায়ের উতপত্তি কিন্তু সেই সুদূর চীন দেশেই। চায়ের আবিস্কার নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে।

চীন দেশের এক সম্রাট ছিলেন “শেন নাং”। জনশ্রুতি আছে তিনি ছিলেন মারাত্মক স্বাস্থ্যসচেতন। তিনি একদিন গরম পানি পান করছিলেন এর মাঝেই ঘটে গেল এক ঘটনা। কোথা থেকে এক পাতা এসে পরল তার গরম পানির পাত্রে। সম্রাট ভেবে দেখলেন- একটু এই পাতার নির্যাস পান করেই দেখা যাক।

সম্রাট এই পাতার নির্যাস পান করে একটু চনমনে বোধ করলেন। ঘুম ঘুম ভাবটাও কেমন কেটে গেল, ক্লান্তিও দূর হয়ে গেল। সম্রাট তো মহা খুশি। বাহ, খুঁজে বের করার আদেশ দিলেন কোন সে পাতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল এই পাতার নাম ক্যামেলিয়া সিনেন্সিস। সেই থেকেই শুরু বলা যায়। চীনারা চায়ে এমনই অভ্যস্থ হয়ে গেল যেন চা ছাড়া আর তাদের চলেই না। প্রাচীন চীনারা এমন বলতে থাকল “চায়ের মত এমন প্রাকৃতিক সুঘ্রাণ আর কিছুতেই নেই”।

অনেক চাইনিজ মনিষী তো চা কে ঘোষনা দিয়ে দিল মহৌষধ। প্রাচীন আমলে তাই চা কে ঔষধ হিসেবেই পানের প্রচলন শুরু হয়।

চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লোকেরাই প্রথম চা সিদ্ধ করে ঘন লিকার তৈরি করতে শেখে। ১৬১০ সালের দিকে পর্তুগীজদের হাত ধরেই প্রথম চায়ের প্রবেশ ঘটে ইউরোপে। আর ১৬৫০ সালে চীন নিজেই বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে দেয়।

১৭০০ সালে গ্রেট ব্রিটেনে চায়ের জনপ্রিয়তা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায় সেখান থেকেই ভারত উপমহাদেশে চায়ের প্রবেশ। মজার তথ্য হল- ইংরেজরা প্রথমে স্বর্ণের বিনিময়ে চীন থেকে চা আমদানী করে যা দরুন ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে তারা ভারতীয় উপমহাদেশে আফিমের চাষ করে এবং আফিমের বিনিময়ে চীঙ্কে বাধ্য করে চা রপ্তানী করতে।

চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে

চা পাতায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।

খুব সাম্প্রতিক সময়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে, “ব্লাক টি, ওলং টি এবং গ্রীন টি” তে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ভিটামিন সি’ থাকে, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও বটে। এবং, ‘ক্যারোটিন’ নামে স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসম্পন্ন আরেকটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান থাকে, যা ‘ভিটামিন এ’ তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

সবুজ চায়ে কোন ভিটামিন থাকে

সবুজ চায়ে বা গ্রীন টিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যালকালয়েড। যা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে অনেক ভিটামিন রয়েছে, যার মধ্যে কিছু ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি অন্যতম। গ্রিন টি-এর স্বাস্থ্যকর খনিজগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক এবং ক্রোমিয়াম।

তাছাড়া সবুজ চা কালো চায়ের তুলনায় কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তাই আপনি অনায়াসে গীন টি পান করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন গ্রীন টি চিনি ছাড়া পান করাই বাঞ্ছনীয়। অনেকেই গ্রীন টি চিনি দিয়ে পান করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখান, যা উপকারি নয় মোটেই।

চা পানের উপকারীতা

  • চায়ে রয়েছে এপিগ্যালোক্যাটেচিন-গ্যালেট যা এক প্রকার অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। এটি ভিটামিন ‘সি’-এর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ফলদায়ক। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এটি কাজ করে।
  • গ্রিন টি তুলনামূলক বেশি উপকারী কারিন এটি শুধু ভাপে সিদ্ধ করে শুকিয়ে তৈরি করা হয়। গ্রিন টি ইউরোকিনেজ নামের এনজাইম তৈরিতে বাধা দেয় যা ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  • দুধ চা স্বাদে ভাল হলেও রঙ চা বেশি উপকারী। বিজ্ঞানীরাও হাল্কা লাল চা কেই ভাল বলেন।
  • নিয়মিত চা পান হার্টের সমস্যা কমায় ২০ শতাংশ আর ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেয় হার্ট এটাক বা স্ট্রোকের প্রবণতা।
  • গ্রিন টি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • জাপানি গবেষনায় প্রমাণিত চা পান দাতকে সুরক্ষিত রাখে।

সৌন্দর্য সচেতনতায় চায়ের ব্যবহার

  • টি ব্যাগকে বরফ পানিতে ভিজিয়ে রেখে ঠান্ডা টি ব্যাগ চোখের উপর দশ মিনিট রাখুন , প্রতিদিন এটা করলে দু সপ্তাহের মধ্যে চোখের তলার কালী দূর হয়ে যাবে।
  • চা এর লিকার দিয়ে ঘরে বসেই ট্যান তাড়াতে পারেন। কড়া লিকার এ তুলো ভিজিয়ে সেই তুলো ট্যান হওয়া স্কিনে লাগালে ট্যান দূর হয়ে যায়।
  • ত্বক তেলতেলে? চায়ের লিকারে লেবুর রস মিশিয়ে টোনারের মত ব্যবহার করুন। তেলতেলে ভাব দূর হবে।
  • শ্যাম্পু করা চুল একদম শেষে চায়ের লিকারে রাখুন দেখবেন আপনার রুক্ষ চুল ভীষণ সফ্ট আর সিল্কি হয়ে যাবে।
  • ফেলে দেয়া চায়ের টি ব্যাগ ব্যাবহার করতে পারেন ভাল স্ক্রাব হিসেবে। ভাবুন কি দারুন সাশ্রয়।
  • চায়ের পাতায় থাকা ট্যানিন চোখের ফোলা ভাব কমায়।

হরেক রকমের চা

আজকাল রাস্তার টং দোকানেও বিভিন্ন রকম চায়ের বাহার দেখা যায় যদিও আগে শুধু মাত্র রঙ চা আর দুধ চায়ের প্রচলনই ছিল।

আগে চায়ে দুধ আর আদা-লেবুর মিশ্রন করলেও এখনকার দিনে চায়ের সাথে নানা রকম মশলা যেমন, এলাচ, দারচিনি, কালোজিরা, মধু, জিরা, পুদিনা পাতা, মাল্টা, মরিচ ইত্যাদি দেয়ার প্রচলন দেখা যায় যা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একে মসলা চা বলা হয়।

দুধ চায়ের সাথে হাল্কা কফি মিক্সও খুবই জনপ্রিয়। নিচে কিছু চায়ের নামের তালিকা দেয়া হল। আপনি টেস্ট করে দেখতে পারেন।

রসুন চা
আদা লেবুর চা
আদা, পুদিনা ও লেবু চা (রং চা)
মসলা লেবু চা
মালাই চা
জাফরানি মালাই চা
পুদিনা পাতার চা (গ্রীন মিন্ট টি)
গুড়ের চা
মরিচ চা বা ঝাল চা
তুলসী বা তুলসি চা
রাশিয়ান চা
মাল্টা চা
চকলেট চা
মধু চা
আতাই বা মরক্কোর চা
মশলাদার চা
ভেষজ চা বা হারবাল চা
বরফ চা বা আইস চা
শ্রীমঙ্গলের সাত রঙ এর চা
কমলা চা বা কমলার স্বাদে পিকো চা
সাত রং চা হল বাংলাদেশের সাত রং চা নীলকণ্ঠ টি কেবিনে পাওয়া যায়, এ‌টি একটি বিখ্যাত চায়ের দোকান, যা শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজা‌রে অবস্থিত। রমেশ রাম গৌড় হচ্ছেন এই সাত রং চায়ের উদ্ভাবক। 
সাত রং চাএর অন্যান্য নাম : সাত তালা চা, সাত স্তর চা।
চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে আশা করি আপনি জানতে পেরেছেন। আরও কিছু জানতে চাইলে পড়তে থাকুন শেষ পর্যন্ত।

চা কিভাবে উপমহাদেশে জনপ্রিয় হল

এই নিয়ে একটা মজার গল্প আছে যা আসলে সত্য ঘটনা। ইংরেজরা চেয়েছিল এই উপমহাদেশে চা কে জনপ্রিয় করে তুলতে। এজন্য তারা কম পরিশ্রম করেনি। ১৮১৮ সালের দিকের ঘটনা।

চা কে এই উপনহাদেশে জনপ্রিয় করে তুলতে তারা প্রথম দিকে বিনামূল্যে সাধারন জনগণকে চা সরবরাহ করেছে। তারা চেয়েছিল চা যেন আমাদের দৈনন্দিন জীবেনের অংশ হয়ে যায়। এবং তারা সম্পূর্ণই সফল বলা যায়। ধীরে ধীরে চা আমাদের জীবনের অংশই হয়ে গেছে।

এরজন্য তারা প্রচুর বিজ্ঞাপন চালায়। চায়ের নানাবিধ উপকারিতা গবেষনা করে বের করে মানুষের মাঝে চা কে ছড়িয়ে দেয়। সহজলভ্য করে দেয়।

১৮৫৫ সালে ব্রিটিশরাই প্রথম সিলেটে চা গাছের অস্তিত্ব খুঁজে পায়। তারাই প্রথম ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় চায়ের বানিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে দেয়।

চা গাছের প্রকারভেদ

চায়ের গাছ অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে চা কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক চাইনিজ জাতীয় চা গাছ আরেক হল আসাম জাতীয় চা গাছ। চীনের গাছ ছোট হয় আর আসাম জাতীয় চা গাছ একটু বড় হয় যা ছেটে ছোট রাখা হয়। এতে চা পাতা সংগ্রহ করতেও সুবিধা হয়।

চা পাতা সংগ্রহ করার সময় গাছের দুইটি পাতা ও একটি কুড়ি সংগ্রহ করতে হয় যা পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চায়ের সঠিক আমেজ পাবার জন্য এর কোন বিকল্প নেই।

চা পাতা চীন ও জাপানে বছরে তিনবার সংগ্রহ করা হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকায় বছরে ষোল থেকে বিশবার সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

চা প্রস্তুতির ধরনের উপর ভিত্তি করে প্রধানত চা কে প্রধানত পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। কালো চা, সবুজ চা, ইষ্টক চা, উলং চা ও প্যারাগুয়ে চা।

চা কে সহজে পান করার জন্য এখনকার দিনে টি ব্যাগ আকারেও বাজারে পাওয়া যায়। ১৯০৯ সালে টমাস সুলিভ্যান সর্ব প্রথম টি ব্যাগের প্রবর্তন করেন যা আজ আমাদের দেশেও বহুলঅভাবে ব্যবহৃত হয়।

চা চাষের পদ্ধতি

চা মূলত মৌসুমী জলবায়ু এলাকার ফসল হলেও উপ ক্রান্তীয় জলবায়ু এলাকাতেও এর চাষ করা যায়। পাহাড়ের ঢালে চায়ের চাষ করা হয় কারণ- চা গাছে প্রচুর পানি দিতে হয় কিন্তু পানি কোন মতেই জমে থাকা যাবেনা। পাহাড়ের ঢালের চেয়ে ভাল জায়গা আর কীই বা হতে পারে।

চা চাষের অন্যতম শর্তই হোল প্রচুর বৃষ্টিপাত (১৭৫ – ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত)। মজার ব্যাপার হল পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে সমতল ভূমিতেও চা গাছের চাষ করা সম্ভব।

চা চাষের জন্য প্রথমে পাহাড়ের ঢাল জমি পরিস্কার করা হয়। তারপর বীজতলায় চারা যখন ২০ সেন্টিমিটার বড় হয় সেখান থেকে চারা পাহাড়ের ঢালে লাগানো হয় সারিবদ্ধভাবে দেড় মিটার পর পর।

যথাসময়ে সার ও পানি দিয়ে যত্ন নেয়া হয়। মাঝে মাঝে কিছু ছায়া বৃক্ষ রোপন করা হয় যা গাছকে সরাসরি সূর্যালোক থেকে রক্ষা করে।

এভাবে দুই থেকে তিন বছর যত্ন নেবার পরেই চা পাতা সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। পাঁচ বছরে গাছগুলো পরিপূর্ণতা লাভ করে এবং মোটামুটি ৩০ থেকে ৪০ বছর চা পাতা এখান থেকে সংগ্রহ করা যায়। এরপর আবার নতুন করে চা গাছ রোপন করতে হয়।

সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে – গণপ্রজাতন্ত্রী চীন, ভারত, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং তুরস্ক অন্যতম। আমাদের দেশ বাংলাদেশও চা উৎপাদনে পিছিয়ে নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকা নিচে দেয়া হলঃ

ক্রম দেশ উৎপাদন (বাৎসরিক)
চীন ২৪,০০,০০০ টন
ভারত ৯,০০,০০০ টন
কেনিয়া ৩,০৫,০০০ টন
শ্রিলংকা ৩,০০,০০০ টন
তুর্কি ১,৭৫,০০০ টন
ইন্দোনেশিয়া ১,৫৭,০০০ টন
ভিয়েতনাম ১,১৭,০০০টন
জাপান ৮৯,০০০ টন
ইরান ৮৪,০০০ টন
১০ বাংলাদেশ ৭৮,১৫০ টন

*** এই ক্রম প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশে চা চাষের গুরুত্ব

চা আমাদের দেশের একটি অর্থকরী ফসল। দেশের চাহিদা মিটিয়ে চা বিদেশে রপ্তানী করা হয়। চা শিল্প বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ শিল্প। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। আমাদের দেশ বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ২৫টি দেশে চা রপ্তানি করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও চায়ের চাহিদা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে তাই রপ্তানির পরিমাণ ইদানিং কমে যাচ্ছে।

প্রতি বছর চা পানকারীর সংখ্যা ৬% হারে বাড়ছে, চা পানে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ১৬তম অবস্থানে আছি।

বর্তমানে ৪৭,৭৮১ হেক্টর জমিতে ১৬৪টি চা বাগানের মধ্যে শুধুমাত্র সিলেটেই রয়েছে ১৪৮টি বাগান। দেশের ৯০% চা সিলেতে এবং ১০% চা চট্রগ্রামে উৎপাদিত হয়। তাই তো সিলেটকে দু’টি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশ বলা হয়।

বেশিরভাগ চা বাগানই ইংরেজদের আমলের। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলায় কিছু নতুন চা বাগান তৈরি হয়েছে। দেশে চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।

দেশের চায়ের চাহিদা বৃদ্ধির কারনে ধীরে ধীরে চায়ের রপ্তানি হুমকির মুখে পরে যাচ্ছে। বলা বাহুল্য আমরা চা আমদানীও করে থাকি।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ি ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে ৮৫.০৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে ৮২.১২ মিলিয়ন কেজি এবং ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে রেকর্ড পরিমাণ ৯৬.০৭ কেজি এবং ২০২০ খ্রিস্টাব্দে ৮৬.৩৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়। এছাড়া ২০২০ খ্রিস্টাব্দে রেকর্ড পরিমাণ ২.১৭ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে চা আমদানির প্রয়োজন হবে না বরং রপ্তানির ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।

কোন গ্রেডের চা পাতা সবচেয়ে ভালো

এটি আসলে একটি মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। বাজারের বেশির ভাগ চা ই তেমন মান সম্পন্ন নয়। চায়ের উতপাদনের উপর ভিত্তি করে একে বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করা হয়ে থাকে।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে চা খেয়ে থাকি সেই চা কে অর্থোডক্স বা সিটিসি (ক্রাশ-টিয়ার-কার্ল) পদ্ধতিতে গ্রেডিং করা হয়। এই গ্রেডিংটা করা হয় চা পাতার সাইজ অনুযায়ি। সম্পূর্ণ অক্ষত পাতা থেকে যে চা বানান হয় সেটাই সবথেকে দামি চা বা টপ গ্রেডের চা।

চায়ে ক্যাফেইনের মাত্রার উপর নির্ভর করেই গ্রেডিং করা হয়। ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি থাকে চা গাছের কচি পাতায়। TGFBOP গ্রেডে OP, FOP গ্রেডের থেকে বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে। বিভিন্ন গ্রেডের নামগুলো জেনে নেই। মনে রাখবেন যত নিচের দিকে যাবেন গ্রেড তত কমবে।

  • FTGFOP1 – Fine Tippy Golden Flowery Orange Pekoe Grade 1
  • FTGFOP – Fine Tippy Golden Flowery Orange Pekoe
  • TGFOP – Tippy Golden Flowery Orange Pekoe
  • TGFOP1 – Tippy Golden Flowery Orange Pekoe Grade One
  • GFOP – Golden Flowery Orange Pekoe
  • FOP – Flowery Orange Pekoe
  • OP – Orange Pekoe
  • OPA – Orange Pekoe A
  • FP – Flowery Pekoe
  • P – Pekoe
  • S – Souchong

সবচেয়ে নিচের গ্রেডের চায়ের দামও সবচেয়ে কম হবে এতাই স্বাভাবিক। আর উপরের দিকের গ্রেদের চায়ের দাম সবচেয়ে বেশি।

পরিশেষে

চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে জানতে এসে জেনে ফেললেন চা নিয়ে সকল ইনফরমেশন।

সকাল সকাল এক কাপ সুগন্ধি, সুমিষ্ট চা আপনার সারাদিনের কাজের জন্য প্রেরনাদায়ক হয়ে থাকুক। এই কামনায় বিদায় নিচ্ছি। আমার এই ব্লগ যদি আপনার ভাল লেগে থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার অনুভূতি জানিয়ে যেতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে।

তথ্যসূত্রঃ

উইকিপেডিয়া, রোর বাংলা, কোরা বাংলা, প্রথম আলো এবং অন্যান্য নানা ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহীত।


Leave a Reply