আত্মসম্মান নিয়ে কিছু কথা

বাংলা সিনেমাতে একটা ডায়লগ আমরা প্রায়ই শুনে থাকি – গরীবের আর কিছু না থাকুক আত্মসম্মান আছে। কাথাটি আসলে মোটেই সঠিক নয়। আত্মসন্মানবোধ গরীব,ধনী, ছোট, বড় সবারই আছে। যেটা আসলে সবার মাঝে নেই সেটি হল নীতি। বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশের বেশীরভাগ মানুষের এই জিনিষটারই খুব অভাব। সে যাই হোক, আত্মসম্মান নিয়ে কিছু কথা বলার জন্যই আজকের আমার এই ব্লগ। আসুন একটু চিন্তা করে দেখি, আমাদের কার আত্মসন্মান কতটুকু?

আত্মসম্মান কি

আমাদের প্রত্যেকেরই আসলে নিজস্ব একটা সংজ্ঞা আছে আত্মসম্মানের। বেশিরভাগ মানুষই তার মনের ভেতরে আত্মসম্মানের একটা সংজ্ঞা নিয়ে বড় হয়। যখনই কোন ঘটনা তার নিজস্ব সংজ্ঞার সাথে অমিল তৈরি করে, মানে তার সংজ্ঞার সাথে সংঘাত ঘটায়, আমরা বলি ব্যাপারটি তার আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছে।

জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলেন, আত্মসম্মান ছাড়া মানুষ হয়না, প্রতিটা মানুষের আত্মসম্মান রয়েছে।

আবার, এই আত্মসম্মানের সাথে আরেকটি জিনিষও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তা হল আপনার স্বার্থ। কোন ঘটনায় আপনার স্বার্থ কতটুকু সংরক্ষিত হচ্ছে তার উপরেও আপনার আত্মসম্মানবোধ কতটুকু কাজ করবে তা নির্ভর করবে।

তারমানে হল, আত্মসম্মান কোন একক সত্ত্বা নয়, এটা একটা পরনির্ভরশীল মানবিক গুন। তারপরেও আমি আত্মসম্মানকে দুইটি আলাদা অংশে ভাগ করতে চাই।

  • পরম আত্মসম্মান
  • নির্ভরশীল আত্মসম্মান

পরম আত্মম্মান

এটাই মূলত আসল আত্মসম্মান, এই বোধের কারনেই আপনি আত্মমর্যাদা লাভ করে থাকেন। কোন ঘটনা বা কোন বিশেষ সময়ে এই বোধটি আপনার মাঝে জাগ্রত হতে পারে। যা আপনাকে কোন কাজ করতে বাধা প্রদান করতে পারে।

পরম আত্মসম্মান কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে আপনাকে সামনে পেছনে ভাবার সময় দিবেনা। আপনি হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবেন যা হয়ত আপনাকে ভবিষ্যতে সাময়িক বিপদেও ফেলে দিতে পারে।

পরম আত্মসম্মান আসলে একবারে আপনার মাঝে তৈরি হয় না। এটা আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে তৈরি হয়। আপনি আপনার জীবনে যতটা সফল, পরম আত্মসম্মান তত বেশি সয়ংক্রিয় থাকবে।

নির্ভরশীল আত্মসম্মান

এটা আপনার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলা যায়। এটি আপনাকে হুট সিদ্ধান্ত নিতে দিবেনা। আপনাকে সামনে পেছনে ভাবতে বলবে। আসন্ন বিপদ দেখলে আপনার আত্মসম্মানের ঘন্টা বাজতে দিবেনা। আমাদের বেশিরভাগ মানুষের আত্মসম্মানবোধ আসলে নির্ভরশীল আত্মসম্মান।

কোন ঘটনা আমাদের স্বার্থে আঘাত হানলেই  আমরা একে আত্মসম্মানের মোড়ক লাগিয়ে সবার সামনে উন্মোচিত করে দেই।

আত্মসম্মান এবং এর সাথে আপনার সম্পর্ক

নৈতিকতা এবং আত্মসম্মান

নৈতিকতা মূলত আপনার আত্মসম্মানের মূল ক্রিড়ানক। আপনি কতটুকু নৈতিক, বা আপনি কতটুকু ন্যায়বান, কিংবা বলা যায় আপনার ন্যায়-পরায়নতা আপনার আত্মসন্মানবোধকে জাগ্রত করে।

আপনি যদি ন্যায় নীতির ধার না ধারেন তাহলে আমি বলব আপনার আত্মসম্মান আসলে নির্ভরশীল আত্মসম্মান। আপনার আত্মসম্মান আসলে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

যেখানে আপনার স্বার্থ লুকিয়া আছে সেখানে আপনার আত্মসম্মানবোধও আঁধারে লুকিয়ে থাকে। আপনি পঙ্গু আত্মসম্মানবোধের অধিকারি।

একজন আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ কখনোই অন্যায় কিংবা দুর্নীতির সাথে আপোষ করতে পারেনা।

আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিত্ব

হ্যা, এই দুইটি ব্যাপার, মানে হল আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিত্ব দুইটি জিনিষই খুব কাছের বলে আমার কাছে মনে হয়। আপনার আত্মসম্মান যদি বেশ প্রকট হয় তা আপনার ব্যক্তিত্বের মাঝে ফুটে উঠবে। আপনার ব্যক্তিত্বকে আরও বেশি বিকশিত করে তুলবে।

তার মানে হল আপনার বক্তিত্বকে গড়ে তোলে আত্মসম্মানবোধ।

সফলতা এবং আত্মসম্মানবোধ

আপনার অতীত জীবনের সফলতা আপনার ভবিষ্যতের আত্মসম্মানবোধকে জাগ্রত হতে সহায়তা করে। একজন ব্যর্থ মানুষের খুব বেশি আত্মসম্মানবোধ থাকার কথা নয়, কিন্তু এর ব্যতিক্রম যে নেই তাও নয়।

তবে ব্যাপারটি তার জিন ঘটিত বলতেই হবে।

সামাজিক মর্যাদা এবং আত্মসম্মান

আপনার সামাজিক মর্যাদা আপনার আত্মসম্মানের পরিমাপক হতে পারে। আপনি যদি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কেও হয়ে থাকেন তাহলে আপনার অত্মসন্মানবোধ বেশ টনটনে হতে পারে আবার আপনি যদি সামাজিকভাবে কিছুটা কম প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার আত্মসন্মানবোধ কিছুটা কম হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।

কিভাবে গড়ে উঠে আত্মসম্মান?

এই আত্মসন্মান কখনই একদিনে তৈরি হয় না, আপনার জন্মের পর থেকেই আপনার মধ্যে এই বোধ জাগ্রত হতে শুরু করে, সময়ের সাথে যেমন বয়স বাড়তে থাকে ঠিক তেমনি আপনার আত্মসন্মানঅ বড় হতে থাকে।

আপনার যে পরিবেশে বড় হচ্ছেন মানে আপনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আপনার মাঝে এই বোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

অনেক সময় কোন কাজে আপনার সফলতা আপনার আত্মসন্মান বোধকে গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। ঠিক তেমনি কোন কাজে আপনি যদি বিফল হল তা আপনার আত্মসন্মানবোধকে কমিয়ে দিতে পারে।

আত্মসন্মান বিসর্জন

অনেক সময় আমরা নিজের আত্মসন্মানকে বিসর্জন দিয়ে থাকি। এটা হতে পারে সারভাইবাল ইস্যু কিংবা নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের অভাব।

এছাড়াও যে যেকারনে সবচেয়ে বেশি আমরা আত্মসন্মান বিসর্জন দেই তা হলঃ লোভের কারনে। অতিরিক্ত লোভ আমাদেরকে আত্মসন্মান বিলিয়ে দিতে সহায়তা করে থাকে।

আরও অনেক কিছু লেখার ইচ্ছা থাকেও আজ এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে। আমাদের সাথেই থাকবেন।

Previous articleকিভাবে এসইও-এর জন্য কন্টেন্ট লিখতে হয় – SEO friendly কন্টেন্ট লেখার টিপস
যে ব্যর্থ সে অজুহাত দেখায়, যে সফল সে গল্প শোনায়। আমি অজুহাত নয় গল্প শোনাতে ভালবাসি। আসুন কিছু গল্প শুনি, নিজের গল্প অন্যকে শুনাই।