পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। আজকে আমরা জানবো বাংলাদেশের সেরা দশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষা খাতকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চমানের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, এবং সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, বৈচিত্র্যময় শিক্ষা কার্যক্রম, এবং গবেষণার অপার সম্ভাবনা নিশ্চিত করে, এসব বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। এসব প্রতিটি কারণেই প্রতিটি শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে। চলুন জেনে আসি বাংলাদেশের সেরা ১০ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে।

ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা এক কঠিন দুঃসময়। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রাচীনতম এবং অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছে। দেশের বিভিন্ন বরেণ্য ব্যাক্তিবর্গ এখানে পড়াশোনা করেছেন।এদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত বিচারপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস, বিশিষ্ট লেখক হুমায়ূন আহমেদ, এবং বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি ফজলুর রহমান খান। এসব গুণী ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানের মাধ্যমে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত কিউ এস র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশবিদ্যালয় বাংলাদেশে প্রথম এবং বিশ্বে ৫৫৪তম অবস্থান পেয়েছে  যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। উল্লেখ্য গত বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  কিউ এস র‍্যাংকিংয়ে ৬৯১ থেকে ৭০০ তম অবস্থানে ছিল। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি কতটা উন্নতি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯২১ সালে মাত্র তিনটি অনুষদ নিয়ে চালু হলেও বর্তমানে এখানে ১৩ টি বিভিন্ন ধরনের অনুষদের মধ্যের রয়েছে ৮৩ টি বিভাগ।যার প্রতিটি অত্যন্ত উন্নত। এখানে আরও রয়েছে ১৩ টি ইন্সটিটিউট, ৫৬ টি রিসার্চ সেন্টার,  ২০ টি ছাত্র ছাত্রী হল।প্রতিটি অনুষদের অধীনে রয়েছে বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে রয়েছে ন্যানো সায়েন্স অ্যান্ড ন্যানো টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, যা আধুনিক গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে রয়েছে সেন্টার ফর এডভান্সড রিসার্চ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস। এই গবেষণা কেন্দ্রগুলো শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে।বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩৭০১৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং প্রায় ১৯৯২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে ৭ টি এফিলিয়েটেড কলেজ রয়েছে যেখানে আরও অনেক শিক্ষার্থী তাদের গ্র‍্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং অতিরিক্ত কার্যক্রমের সুযোগ। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, বিতর্ক ক্লাব, নাট্যদল, সঙ্গীত ও নৃত্য সংগঠন শিক্ষার্থীদের মননশীলতা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এমনকি পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমও খুবই সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সংগঠন এবং ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়মিতভাবে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, এবং বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠিত : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ

অবস্থান : শাহবাগ,  ঢাকা,১১০০, বাংলাদেশ

উপাচার্য: প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

প্রতিষ্টাতা: সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী

স্লোগান: শিক্ষাই আলো

ফোন: +৮৮০৯৬৭২৫৪৫

ইমেইল : vcoffice@du.ac.

ওয়েবসাইট : www.du.ac.bd

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সমৃদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলছে। উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর সপ্নই থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ৭৫৩ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এক অপরূপ সৌন্দর্য্যের আধার। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  ১২টি অনুষদ এবং ৬টি ইন্সটিটিউটে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষাক্রম পরিচালনা করছে। কিছুদিন আগে ৪টি কলেজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে যুক্ত হয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১১ টি হল।বর্তমানে ১০৮১ জন শিক্ষক, ১৭,৫৮২ জন আন্ডারগ্র‍্যাজুয়েট শিক্ষার্থী,  ৩,৬৬৭ মাস্টার্স শিক্ষার্থী এবং ৯৮৬ জন শিক্ষার্থী পিএইচডি এবং এম ফিল করছেন।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিভিন্নভাবে উদ্ভাবনী এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক। প্রতিটি বিভাগের শিক্ষাক্রম আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়। ক্লাসরুম শিক্ষা ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প, গবেষণা কাজ, এবং কর্মশালা যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে।

শুধু তাই নয় এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সংগীতানুষ্ঠান, এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান এবং নিজেদের সৃজনশীলতা উন্নত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ্যতার কথা ভেবে এখানে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয় যেমন ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল, এবং ভলিবল। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম, এবং অন্যান্য ক্রীড়া সুবিধা শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা এবং মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া সংস্থা নিয়মিতভাবে আন্তঃবিভাগীয় এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। এসব প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করার সুযোগ পান এবং বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে। বর্তমানে এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার।

প্রতিষ্ঠা: ৬ জুলাই, ১৯৫৩

অবস্থান: মতিহার, রাজশাহী, ৬২০৫, বাংলাদেশ

উপাচার্য : ড.  গোলাম সাব্বির সাত্তার

যোগাযোগ : +৮৮০২৫৮৮৮৬৫০১১

ফ্যাক্স: ০২৫৮৮৮৬৬৩৬৪

মেইল: registar@ru.ac.bd

ওয়েবসাইট : www.ru.ac.bd

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।এটি বাংলাদেশের তৃতীয় এবং আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা,  গবেষণা সহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশেষ করে সমুদ্র এবং বন এর  পাশে অবস্থিত হওয়ায় এর মৎস এবং বন বিভাগ অন্যতম সাফল্য অর্জন করেছে।  বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী ড.  মুহাম্মদ ইউনুস এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে, চবি চারটি অনুষদ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি অনুষদ এবং ৫৪টি বিভাগ রয়েছে। এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যাম্পাস, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নতমানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। এর ২১০০ একর জমির মধ্যে সুবিশাল হ্রদ, মনোরম উদ্যান এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যকলার সমন্বয় রয়েছে। যা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশে একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েই শাটল ট্রেন রয়েছে যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯৭৪ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন এবং ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়নে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ করা হয়। এখানে গবেষণা কেন্দ্র এবং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা উচ্চমানের গবেষণা করতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়েও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব, যেমন বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাব এবং ক্রীড়া ক্লাব। এসব ক্লাব শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পায়।

শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালটির অভ্যন্তরে রয়েছে নিজস্ব চিকিৎসা ব্যাবস্থা যেখানে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবা নিতে পারে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. মো: আবু তাহের।

প্রতিষ্ঠা: ১৮ আগষ্ট, ১৯৬৬

অবস্থান : হাটহাজারী, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ

উপাচার্য: প্রফেসর ড. মো: আবু তাহের।

যোগাযোগ : +৮৮০৭২৬৩১১১৪

ফ্যাক্স: +৮৮০৩১২৬০৬০১৪

মেইল: registrarcu66cu.ac.bd

ওয়েবসাইট : www.cu.ac.bd

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এবং স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত। এটি ঢাকার সাভার উপজেলায় অবস্থিত এবং তার ৬৯৭.৫৬ একর বিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

শুরুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরবর্তীতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডি এবং এমফিল প্রোগ্রাম চালু করে। বর্তমানে, জাবিতে ৬ টি অনুষদ, ৪টি ইন্সটিটিউট এবং ৩৫টি বিভাগ এবং ৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে, যা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম অত্যন্ত মানসম্মত এবং যুগোপযোগী। এখানে বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, এবং ফার্মেসি সহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। বিশেষত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, এবং পরিবেশবিদ্যায় জাবি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ দেশের মধ্যে অন্যতম সাফল্য অর্জন করেছে এবং করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব, যেমন বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাব, এবং ক্রীড়া ক্লাব। এসব ক্লাব শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর ড. মো: নুরুল আলম।

প্রতিষ্ঠা: ২০ আগস্ট, ১৯৭০

অবস্থান : সাভার, ঢাকা, বাংলাদেশ, ১৩৪২

উপাচার্য : প্রফেসর ড. মো: নুরুল আলম।

যোগাযোগ : ৭৭৯১০৪৫-৫১

ফ্যাক্স: +৮৮০২৭৭৯১০৫২

মেইল: registrar@juniv.edu

ওয়েবসাইট : www.juniv.edu

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যা সাধারণত বুয়েট নামে পরিচিত, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। এটি দেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে সম্মানিত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যা তার উচ্চমানের শিক্ষা, গবেষণা, এবং উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত। ঢাকার পলাশী এলাকায় অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রযুক্তি এবং প্রকৌশলের ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশে যেকোন প্রকৌশল বিভাগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর স্বপ্নই থাকে বুয়েট।

বুয়েটের যাত্রা শুরু হয় ১৯১২ সালে, যখন এটি ঢাকা Survey School নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ সালে এটি ঢাকা কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (ডিসিইটি) হিসেবে পরিবর্তিত হয়। ১৯৬২ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বুয়েট নামে পরিচিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বুয়েট দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।বুয়েটের প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রযুক্তিগত এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রের উন্নয়ন করা। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং শিল্পক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের যোগান দেওয়ার লক্ষ্যে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বুয়েট তার মেধাবী এবং দক্ষ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বুয়েটের ক্যাম্পাসটি ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এর ৮৩.৯ একর জমির মধ্যে বিভিন্ন আধুনিক ভবন, গবেষণাগার, লাইব্রেরি, এবং আবাসিক হল রয়েছে। বুয়েট ক্যাম্পাসটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এবং এর সুসজ্জিত উদ্যান শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক ভবন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ভবন, এবং আর্কিটেকচার ভবন। এছাড়া, ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি উন্নতমানের গ্রন্থাগার, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই এবং গবেষণাপত্র পেতে পারে।

বুয়েট শিক্ষার্থীদের সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানে রয়েছে উন্নতমানের লাইব্রেরি, আধুনিক ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার সেন্টার, এবং বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন। শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া এবং সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব, যেমন বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাব, এবং ক্রীড়া ক্লাব। এসব ক্লাব শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পায়। বুয়েট শুধু বাংলাদেশই নয় সারা পৃথিবীতে এক মর্যাদাপূর্ন অবস্থানে রয়েছে।  এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে  অসংখ্য ব্যাক্তি রয়েছেন যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি যেমন গুগল, ইনটেল, আমাজন, আলিবাবা ইত্যাদিতে উচ্চ পদে কাজ করছেন। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মানের ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অপরিসীম।সম্প্রতি প্রকাশিত  ২০২৪ সালে প্রকাশিত কিউ এস র‍্যাংকিং অনুসারে এশিয়ায় বুয়েটের অবস্থান ৫ম। যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। বর্তমানে এর উপাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন প্রসেফর সত্য প্রসাদ মজুমদার।

প্রতিষ্ঠাঃ ১৮৭৬ (বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর: ১৯৬২)

অবস্থানঃ লালবাগ থানার পলাশী এলাকায় অবস্থিত

উপাচার্যঃ  প্রসেফর সত্য প্রসাদ মজুমদার।

যোগাযোগঃ +৮৮০১২২২৩৩৬৩৬০৫ 

ফ্যাক্সঃ  +৮৮০১২২২৩৩৬৩৬০৫ 

 মেইলঃ headname@name.buet.ac.bd

ওয়েবসাইটঃ www.buet.ac.bd

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। বর্তমানে কৃষির ব্যাপক চাহিদা হওয়ায় বাকৃবি একটি অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কৃষির চাহিদা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশশে। কাজেই অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্নই থাকে এই বিশ্ববিদ্যালইয়ে পড়ার। এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে এর জন্য আলাদা কোটা বরাদ্দ রয়েছে। কেউ গ্র্যাজুয়েশন এর পর চাইলে নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজের বাড়িতেই বিভিন্ন খামার গড়ে তুলতে পারে।

বাকৃবি ক্যাম্পাসটি ১২৫০ একর জমির উপর বিস্তৃত। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ক্যাম্পাসে রয়েছে একাডেমিক ভবন, গবেষণা কেন্দ্র, লাইব্রেরি, হোস্টেল, খেলাধুলার সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ব্যবস্থা। বর্তমানে এখানে ৬টি অনুষদ এবং ৪৪ টি বিভাগ রয়েছে। ৫৬৭ জন শিক্ষকের অধীনে ৮০৮৮ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এই প্রতিষ্টানে রয়েছে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ১২ টি হল।

বাকৃবি বিভিন্ন অনুষদে বিভক্ত। প্রধান অনুষদগুলো হল:

কৃষি অনুষদ: এখানে কৃষি বিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি সম্প্রসারণ ও শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ের উপর শিক্ষাদান করা হয়।

পশুপালন অনুষদ: প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, পোল্ট্রি বিজ্ঞান, ডেইরি বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পড়ানো হয়।

ভেটেরিনারি অনুষদ: পশুচিকিৎসা বিজ্ঞান, এনাটমি, প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

মাছচাষ অনুষদ: মাছচাষ ও জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য রোগ ও স্বাস্থ্য, মৎস্য জীববিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞতা দেওয়া হয়।

কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ: কৃষি প্রকৌশল, যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়।

বিজ্ঞান অনুষদ: রসায়ন, পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেক্য যে, বাকৃবি কেবলমাত্র শিক্ষাদান ও গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের কৃষকদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, কৃষি মেলা, কর্মশালা এবং সেমিনারের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

বাকৃবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ গবেষণা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এখানে শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করে।বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে উন্নতমানের লাইব্রেরি, আধুনিক ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার সেন্টার, হোস্টেল সুবিধা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য আলাদা স্থান। এখানে একটি উন্নতমানের মেডিকেল সেন্টারও রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।  বর্তমানে এর উপাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন

প্রতিষ্ঠাঃ ১৮ আগস্ট, ১৯৬১

অবস্থানঃ বাকৃবি মেইন রোড, ময়মনসিংহ, ২২০২

উপাচার্যঃ প্রসেসর এমদাদুল হক চৌধুরী

যোগাযোগঃ +৮৮০২৯৯৬৬৬৬৮৪৬

ফ্যাক্সঃ +৮৮০২৯৯৬৬৬৬৮৯৬

মেইলঃ registrar@bau.edu.bd

ওয়েবসাইট: www.bau.edu.bd

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:

ঢাকায় অবস্থিত একটি প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জগন্নাথ কলেজ নামে পরিচিত ছিল, যার ইতিহাস শুরু হয় ১৮৫৮ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার একটি অন্যতম কেন্দ্র। জগন্নাথ কলেজের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৫৮ সালে, যা পরে ২০০৫ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। এর নামকরণ করা হয়েছিল প্রিন্সিপাল জগন্নাথ রায়ের নামে, যিনি একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ছিলেন। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর থেকে এটি বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে উচ্চশিক্ষা প্রদান করে আসছে।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৭ টি অনুষদের অধীনে ৩৮ টি বিভাগ এবং ২টি আলাদা ইন্সটিটিউট রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগে বিভক্ত। প্রধান অনুষদগুলো হল:

বিজ্ঞান অনুষদ: এখানে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিদ্যা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের ওপর পড়ানো হয়।

কলা অনুষদ: বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, ইসলামিক স্টাডিজ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ: একাউন্টিং, ফিন্যান্স, ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ: সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

আইন অনুষদ: আইনের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষাদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন বিভাগে উচ্চমানের গবেষণা পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য গবেষণা কেন্দ্র হল:

  •     সমাজবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র
  •     ব্যবসায় শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র
  •     বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্র

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এবং সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, কনফারেন্স এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন নতুন গবেষণা প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে চায়।

প্রতিষ্ঠাঃ ২০ অক্টোবর, ২০০৫

অবস্থানঃ ৯/১০ চিত্তরঞ্জন এভিনিউ, ঢাকা, ১১০০

উপাচার্যঃ প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম

যোগাযোগঃ +৮৮০২৯৫৩৪২৫৫

মেইলঃ info@jnu.ac.bd

ওয়েবসাইট: www.jnu.ac.bd

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের খুলনা শহরে অবস্থিত একটি উল্লেখযোগ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি দেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যা প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেয় কেননা এর পাশেই একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন অবস্থিত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি খুলনা শহরের গল্লামারিতে অবস্থিত এবং প্রায় ১০৫ একর জমির উপর বিস্তৃত। ক্যাম্পাসটি সবুজায়ন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনা।

১৯৯১ সালের ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে চারটি অনুষদের অধীনে আটটি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ৮ টি অনুষদের অধীনে ২৯ টি বিভিন্ন বিভাগ এবং ১ টি ইন্সটিটিউট রয়েছে। প্রায় সারে সাত হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে এবং বিভিন্ন অনুষদে মোট ৫২৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন।

 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অত্যন্ত উচ্চমানের। বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য এখানে অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষকমণ্ডলী নিয়োজিত রয়েছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু গবেষণা কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। এগুলি হল:

  •     ফরেস্ট্রি ও উড টেকনোলজি গবেষণা কেন্দ্র: বনায়ন, কাঠ প্রযুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণা।
  •     বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট: জৈব প্রযুক্তি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উন্নত গবেষণা।
  •     ফিশারিজ ও মেরিন রিসোর্স ইনস্টিটিউট: মৎস্য এবং সামুদ্রিক সম্পদের উন্নয়নে গবেষণা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক হোস্টেল রয়েছে। হোস্টেলগুলোতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথক হোস্টেল থাকায় তাদের জন্য এটি একটি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক আবাসন ব্যবস্থা। বর্তমানে ৫টি হল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে। এই  বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি থেকে মুক্ত তাই শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা এবং গবেষণার কাজে মন দিতে পারে এবং অন্য কোন  বিশ্ববিদ্যালয়ে মতো এখানে তেমন ঝামেলা নেই। বাংলাদেশের মধ্যে জাহাংগিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি অনুষদের পরের অবস্থানেই ধরা হয় খুবি এর ফার্মেসি বিভাগ কে।

 প্রতিষ্ঠাঃ ৩১ আগষ্ট, ১৯৯১

অবস্থানঃ শের ই বাংলা রোড খুলনা, ৯১০৮

উপাচার্যঃ প্রফেসর মাহমুদ হোসেইন

যোগাযোগঃ +৮৮০২৪৭৭৩৪১৪০

মেইলঃ office@registrar.ku.ac.bd

ওয়েবসাইট: www.ku.ac.bd

 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)

 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) বাংলাদেশের সিলেটে অবস্থিত একটি অন্যতম প্রখ্যাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় শাহজালাল (রহ.) এর নামে। এটি দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ১৯৮৬ সালের ২৫ আগস্ট এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে, এখানে শুধুমাত্র দুটি বিভাগ ছিল – রসায়ন ও অর্থনীতি। পরবর্তীতে, বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন নতুন বিভাগ ও অনুষদের  মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি সিলেট শহরের কুমারগাঁও এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ৩২০ একর জমির উপর বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজায়নে ভরপুর। ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, ছাত্রাবাস, ক্রীড়া সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এবং সমাজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, কনফারেন্স এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখে। যৌথ গবেষণা, ছাত্র বিনিময় কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সুনাম বৃদ্ধি করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় এর সি এস ই ডিপার্টেমন্ট এর সুনাম সারা দেশে ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত।

 প্রতিষ্ঠাঃ ২৫ আগস্ট, ১৯৮৬

অবস্থানঃ কুমাড়্গাও, সিলেট, ৩১১৪, বাংলাদেশ

উপাচার্যঃ প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

যোগাযোগঃ +৮৮০২৯৯৬৬৩৬৪৫৪

মেইলঃ registrar@sust.edu

ওয়েবসাইট: www.sust.edu

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) বাংলাদেশের খুলনা শহরে অবস্থিত একটি অন্যতম প্রখ্যাত প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দেশের তৃতীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি উচ্চমানের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রসিদ্ধ। কুয়েট দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে খুলনা প্রকৌশল কলেজ হিসাবে। ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) নামে পরিচিতি লাভ করে। এর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং উচ্চমানের প্রযুক্তিগত জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা।

 খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি খুলনা শহরের ফুলবাড়িগেট এলাকায় অবস্থিত এবং প্রায় ১০১ একর জমির উপর বিস্তৃত। ক্যাম্পাসটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজায়নে ভরপুর। এখানে রয়েছে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, ছাত্রাবাস, ক্রীড়া সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদে উন্নতমানের গবেষণা পরিচালিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে এবং দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অবদান রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি একটি সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এটি শিক্ষার্থীদের একটি সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ প্রদান করে যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও গবেষণা করতে পারে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও গাছপালা রয়েছে যা একে একটি সবুজ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রদান করে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব রয়েছে যেমন ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি। এছাড়াও, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন যেমন নাট্যকলা, সংগীত ও নৃত্যকলা, বিতর্ক ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

 প্রতিষ্ঠাঃ ১৯৬৭ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৩ সাল থেকে

অবস্থানঃ ফুলবাড়িগেট, যশোর-খুলনা মহাসড়ক, খুলনা, বাংলাদেশ

উপাচার্যঃ প্রফেসর ড মিহির রঞ্জন হালদার

যোগাযোগঃ+৮৮০১৭৪৭৬০৮৩০৪

মেইলঃ registrar@kuet.ac.bd

ওয়েবসাইট: www.kuet.ac.bd

উপসংহার

এতক্ষণে আমরা জানলাম বাংলাদেশের সেরা দশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে। আমরা চেষ্টা করেছি বিভিন্ন ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা বানানোর। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের বিভিন্ন খাতের জন্য দক্ষ ও জ্ঞানী জনশক্তি সরবরাহ করে থাকে। তবে, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমান মানের শিক্ষা প্রদান করে না। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার মান, গবেষণা কার্যক্রম, অবকাঠামো এবং শিক্ষকদের দক্ষতার জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এগিয়ে থাকে। আর সেইসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই আমরা আপনাদের সামনে বাংলাদেশের সেরা দশটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা করলাম। এরকম আরো নিত্যনতুন খবরাখবর পেতে আমাদের পেইজের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ। 

Previous articleবাংলাদেশের সেরা ১০ টি ঔষধ কোম্পানি সম্পর্কে জানুন।
Next articleবাংলাদেশের সেরা দশটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়
Md. Zakaria Ahomed
I am zakaria. I am small blogger. Side by side I am writing for others blog also. Feel free to knock me if you need me.