চীন, ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক- কে কতটুকু এগিয়ে

চীন, ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক- কে কতটুকু এগিয়ে

 

বাংলাদেশের সাথে ভারত ও চীন উভয়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।বর্তমান বিশ্বে চীন এবং ভারত শীতল যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে ।এই শীতল যুদ্ধে চীন ও ভারত অন্যান্য দেশকে ব্যবহার করছে।চীন ভারতকে ঘিরে মুক্তমালা পলিসি বাস্তবায়ন করতে চাইছে।চীন নাকি ভারত? বাংলাদেশের বড় বন্ধু কে? চীন, ভারত ও বাংলাদেশ নিয়ে আমার আজকের আয়োজন-

বাংলাদেশে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে 25% শেয়ার কিনে নিয়েছে চীন।তাছাড়া চীন বাংলাদেশে অনেক পণ্য রপ্তানি করে থেকে। বাংলাদেশে প্রধানত চীন থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি করে। চীনের অস্ত্র ব্যবসার একটা বড় গন্তব্য বাংলাদেশ।বাংলাদেশ তার সামরিক প্রতিরক্ষার জন্য চীনের অস্ত্রের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। চীনের  অস্ত্র রপ্তানির 20% বাংলাদেশ ক্রয় করে থাকে ।ইতোমধ্যেই চীন শ্রীলঙ্কায় বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। মালদ্বীপেও বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং মিয়ানমারের রাখাইনে চীন একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ পেয়েছে ।আর পাকিস্তানের কথাটা না বললে নয় ।চীন পাকিস্তানে একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ করেছে ।চীন নেপাল ,ভুটানেও বিনিয়োগ করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশে কেন চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ? বঙ্গোপোসাগরে যদি চীনের আধিপত্য বজায় রাখতে হয় তবে বাংলাদেশ চীনের জন্য জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।তাই চীন বাংলাদেশকে দু’টি সাবমেরিন দিয়েছে ।যে সাবমেরিনগুলো 2030 সাল পর্যন্ত সক্রিয় থাকার কথা রয়েছে। এই সাবমেরিন পাবার ফলে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি কিছুটা বেড়ে গেল বলাই যায়।এছাড়া বঙ্গপোসাগর হতে পারে আগামী বিশ্বের প্রধান বাণিজ্য রুট।চীন সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশকে হাতছাড়া করতে চায় না।

চীন ও ভারতের সামরিক শক্তির তুলনামূলক চিত্র জানতে এই ব্লগটি পড়তে পারেন

বাংলাদেশের কারণে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি অনেকটাই ল্যান্ডলক। তাছাড়া বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উদ্যোগে অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে বর্তমান বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ । এছাড়াও তিনি ভারতকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উদ্যোগে শামিল হওয়ার জন্য জন্য বলেছেন।

চীন নানাভাবে বাংলাদেশে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য সাবমেরিন দিয়েছে। এই সাবমেরিন বিষয়ে ভারতের অনেক সামরিক কর্মকর্তা টিভি চ্যানেলে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছেন। ভারতের অনেক সেনা কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকারে বলেছেন বাংলাদেশের কেন সাবমেরিন কেনার প্রয়োজন হবে সেটা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারছে না ।অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এটার খোলাখুলি বিরোধিতা করতেও পারছেন না ।কারণ সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকার রয়েছে সাবমেরিন ক্রয়ের।স্বাধীন বাংলাদেশকে চীন সাবমেরিন দেওয়ার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশকে তারা একটি শক্তিশালী সামরিক অবস্থানে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর ।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ অত্যন্ত বেশি ।কিন্তু চীনের সাথে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ততটা গড়ে উঠেনি। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের  সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার চীন ।চীন এবং ভারত উভয়‌ই বাংলাদেশকে কিছুটা বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করে থাকে। তবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে চীন বাংলাদেশের 97 শতাংশ পণ্যে কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ বাণিজ্য ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায় ।তাছাড়া বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।পদ্মা সেতু ,কর্ণফুলী ট্যানেল ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে চীনের অবদান রয়েছে ।সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

বঙ্গোপসাগরে চীন ভারতের একাধিপত্য আশা করে না ।সেইজন্য ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশকে সাবমেরিন দেওয়ার মাধ্যমে ভারতকে একটি বার্তা দিল চীন। ভারত‌ও এই শীতল যুদ্ধে চুপচাপ বসে নেই ।ভারতও চীনের বন্ধু মায়ানমারকে একটা সাবমেরিন দিয়েছে।মায়ানমারকে একটি সাবমেরিন দেয়ার মাধ্যমে মূলত ভারত ও চীনের শীতল যুদ্ধ প্রকাশ পেয়েছে। তবে বাংলাদেশকে মাথায় রাখতে হবে যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির মতো ইস্যুতে চীন এবং ভারত কারও পক্ষ থেকেই সেই রকম ভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি । চীনের ভেটোর কারণে নিরাপত্তা পরিষদ মায়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে ।তাছাড়া ভারত‌ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুব বেশি কথা বলেনি।তাই বাংলাদেশকে সব সময় নিজের স্বার্থ বজায় রেখে দুই শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হবে ।এতে  দুই শক্তিই বাংলাদেশকে তাদের পক্ষে রাখার জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেবে । এর ফলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াও সহজ হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আমরা সবাই জানি ।আর সেটা হল সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয় ।এই পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তবে যাই হোক না কেন বাংলাদেশে তার নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য অবশ্যই বিভিন্ন অস্ত্র ক্রয় করবে এবং তাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী চলবে। বাংলাদেশে এখনো দুই দেশের সাথে নিরপেক্ষ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখতে সমর্থ হবে বলে আশা করা যায়।

 


Leave a Reply