ক্যান্সার কিভাবে সৃষ্টি হয় ? ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় কি ?

1
214

ক্যান্সার শব্দের সাথে আমরা সবাই পরিচিত হলেও ক্যান্সার আসলে কি তা নিয়ে আমরা অনেকেই সঠিকভাবে জানিনা। জানিনা- ক্যান্সার কিভাবে সৃষ্টি হয় ? ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় কি? আপনার কি দীর্ঘ সময় ধরে কোন নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যাথা বা ক্ষত রয়েছে? তাহলে আর বসে না থেকে অনতিবিলম্বে ডাক্তারের পরামার্শ নিন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ব্যাথা বা কাশি যা কিনা ক্যান্সারের প্রথম উপসর্গ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ক্যান্সার শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। ক্যান্সার শব্দ শোনা মাত্রই যে কেউ আৎকে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা এখন পর্যন্ত এই রোগের মৃত্যু হার সব থেকে বেশি পাওয়া গিয়েছে। আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে বিশ্বে বছরে প্রায় এক কোটি মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় শুধু মাত্র এই ক্যান্সারের কারণে।

ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ না থাকার কারণে ক্যান্সার রোগটি সহজ ধরাও পরে না। রোগটি থেকে এখন অবদি আরোগ্য পাওয়ার শতভাগ সফল কোনো উপায় না জানতে পারায় যখন এ রোগটি ধরা পরে তখন আসলে কিছু করার থাকে না, অর্থাৎ তেমন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তাছাড়া, ক্যান্সারের চিকিৎসাও অনেকটা ব্যয়বহুল যেটা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। তবে আশার খবর হলো ক্যান্সারের কারণ, বা ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্পর্কে অজানা সকল তথ্য সংগ্রহ সহ এখন ব্যাপক গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ক্যান্সার যদি প্রথম স্তরে ধরা পরে তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার সারিয়ে তোলা সম্ভব। এবং এই কথার সত্যতা স্বরূপ অনেকের চিকিৎসাতেই সফল হয়েছেন।

মানুষ ক্যান্সারের সাধারণ উপসর্গ নিয়ে অনেক উদাসীন। বেশির ভাগ মানুষ সাধারণত সর্দি, কাশি বা ব্যাথাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না কারন তাদের কাছে এসব অসুখ বিসুখ খুবই সাধারন ব্যপার বললেই চলে। কিন্তু এ সব ছোট খাটো জিনিস গুলোই ভবিষ্যতে বড় আকার ধারণ করতে পারে যা আমাদের জীবন কে আরও ঝুকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

আমাদের তেমন কোন ধারণাই নেই বললেই চলে এই মরণরোগ্য ক্যান্সারের উপসর্গ সম্পর্কে এবং তাদের এই উদাসীনতাই অন্যতম একটি কারণ হয়ে উঠে।

ক্যান্সার নিয়ে এত ভীতির মাঝেও কিছু ভালো খবর হলো আপনি যদি একটি সঠিক ডায়েট চার্ট এবং আপনার অনিয়ন্ত্রিত জীবনকে পরিবর্তন করতে পারেন একটি পরিকল্পিত জীবন যাপন ব্যবস্থায় তাহলে ক্যান্সার নামক এই রোগটির প্রকোপ থেকে বেচে যেতে পারেন বা এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এর জন্য চাই ক্যান্সার সম্পর্কে সঠিক ধারণা। তাই আজকের এই আয়োজন আপনার জন্য। চলুন তাহলে ক্যান্সার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই!

ক্যান্সার কিভাবে সৃষ্টি হয়

ক্যান্সার একক কোন রোগ নয়। অনেক গুলো রোগের সমষ্টি হলো ক্যান্সার। আমাদের মানব দেহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ দ্বারা গঠিত। এসব কোষ একটি সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে দেহের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয় পূরণ করেথাকে।

কিন্তু দেখা যায় কখনো কখনো কোনো অজ্ঞাত কারণে কোন একটা নির্দিষ্ট কোষ বা সেল হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে শুরু করে এবং বিরামহীনভাবে তা চলতেই থাকে। যার ফলে সেখানে একটি পিণ্ড বা টিউমারের সৃষ্টি হয়।

ক্যান্সার কোষও হচ্ছে স্বাভাবিক শারীরিক কোষের মতোই, যা অস্বাভাবিক কার্য ও আকার ধারণ করে। ক্ষতিকর টিউমার হলে তা স্থানীয়ভাবে আশপাশের কোষে প্রবেশ করে এবং লসিকা বা রক্তের মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী স্থানে গিয়ে নতুন বসতি স্থাপন করে, যাকে বলা হয় মেটাস্টেসিস।

এভাবে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পরে। টিউমারে থাকা সব কোষ একরকম নয়। তবে এটি ক্যান্সার ছড়াতে সহায়তা করে। এভাবে কোষগুলোকে সহায়তা করে নতুন টিউমার তৈরিতে।

কখনই ক্যান্সারকে হালকাভাবে নিবেন না। ক্যান্সারের লক্ষনগুলো দেখতে পেলে আপনাকে অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পারামর্শ ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

ক্যান্সার কেন হয়

ক্যান্সার কোন সংক্রামক রোগ নয়। ডিএনএ মিউটেশন বা রুপান্তর ক্যান্সার সৃষ্টির প্রধান কারণ। এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি কেন বা কি কারনে এটি হয়ে থাকে তবে এই স্বাভাবিক কোষবিভাজন যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে ধারনা করা হয় তখনই এই রোগ টি দেহে আঘাত হানে।

তবে ধারণা করা হয়, ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, ‘হরমোন’ তেজস্ক্রিয়তা, পেশা, অভ্যাস (ধূমপান, তামাক সেবন, মদপান ইত্যাদি), আঘাত, প্রজনন ও বিকৃত যৌন আচরণ, বায়ু ও পানি দূষণ, খাদ্য (যেমন- অত্যধিক চর্বি বা অধিক চর্বিযুক্ত খাদ্য), বিভিন্ন বর্ণগত, জীবন যাপন পদ্ধতিগত, ভৌগোলিক ও পরিবেশগত প্রভাব, প্যারাসাইট ও ভাইরাস সাধারণত সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ।

তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই এড়িয়ে চলা সম্ভব এবং ক্যান্সার থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।

এছাড়াও ক্যান্সার ঝুঁকির আরো কিছু কারণ

  • দীর্ঘমেয়াদি তামাক এবং সিগারেটের খাওয়া মুখ এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে মদ পান করা যকৃতের ক্যান্সারের সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য অঙ্গ ক্যান্সারও কারণ হতে পারে।
  • ত্বকে ক্রমাগত ক্ষতর কারণে, জিহ্বা, ঠোঁট, পিত্তথলি এবং মূত্রাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
  • বেশি পরিমাণে ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ  গ্রহণের ফলে পেট এবং লিভারের ক্যান্সার হতে পারে।
  • অল্প বয়সে যৌন মিলন করা এবং বেশি পুরুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা জরায়ুর মুখের ক্যান্সারের কারণ হয়।

বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার

ক্যান্সারগুলির নামকরণ করা হয় যেখান থেকে তাদের গঠন শুরু হয় এমকি তারা শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পরে। একটি কোষের আশে পাশের কোষ গুলোও এ কারনে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যেমন, একটি ক্যান্সার যদি ফুসফুসে শুরু হয় এবং তা যদি লিভারে ছড়িয়ে যায় তাহলেও তাকে  ফুসফুসের ক্যান্সারই বলে।

কিছু সাধারণ ধরণের ক্যান্সারের নাম

  • কার্সিনোমা – ​​এটি এমন একটি ক্যান্সার যা ত্বকে বা টিস্যুতে শুরু হয় যা অন্যান্য অঙ্গকে প্রভাবিত করে।
  • সারকোমা – ​​সারকোমা হাড়, পেশী, কারটিলেজ এবং রক্তনালীগুলির মতো সংযোগকারী টিস্যুগুলির একটি ক্যান্সার।
  • লিউকেমিয়া – লিউকেমিয়া হাড়ের মজ্জার একটি ক্যান্সার।এর প্রধান লক্ষন রক্তে শ্বেত রক্তকনিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
  • লিম্ফোমা – লিম্ফোমা একপ্রকার ক্যান্সার যা হল কোষের মৃত্যু না হওয়া সত্ত্বেও লিম্ফোসাইটের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। এরফলে রক্তে অত্যধিক সংখ্যায় লিম্ফোসাইট সঞ্চিত হয়।

ক্যান্সারের লক্ষণগুলো কি কি

ক্যান্সারের যেকোন অংশে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এগুলি ছাড়াও ক্যান্সারের ধরণের উপর নির্ভর করে লক্ষণগুলি আলাদা আলাদাও হতে পারে। আমাদের সকলের উচিত এসব লক্ষন গুলো জেনে রাখা। যা আমাদের এ গটি সম্পর্কে সচোতন হতে অনেকাংশে সাহায্য করে। চলুন জেনে আসা যাক ক্যান্সার এর লক্ষন গুলো সম্পর্কে।

 এই লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে

  • ক্লান্তিভাব
  • গিলতে অসুবিধা
  • দুর্বলতা অনুভব করা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • ত্বকের যে কোনও অংশে একটি নীল চিহ্ন
  • ক্রমাগত কাশি
  • ঘন ঘন জ্বর
  • পেশী ব্যথা
  • ঘন ঘন সংক্রমিত হওয়া
  • ত্বক গঠন
  • সংযোগে ব্যথা।

উপরোল্লেখিত ক্যান্সারের লক্ষন গুলোর যেকোনো কিছুই একটি বিপদ সঙ্কেত হিসেবে কাজ করেকারন এ লক্ষন গুলো যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তাহলে আপনার আর দেরি করা উচিত হবে না। যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ শরণাপন্ন হতে হবে।

শুধু মাত্র জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্ধেক ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? কিন্তু এটাই সত্য। অনেকেরই একটি ভুল ধারনা যে এ রোগটি ভাগ্য ছিল কিন্তু সত্যি বলতে গেলে ক্যান্সার হওয়াটা কখনো ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।

চিন্তা ধারার পরিবর্তন করুন এবং এর  সাথে আপনার জীবন ব্যবস্থায় ও পরিবর্তন আনুন দেখবেন আপনি অনেক সুস্থ জীবন যাপন করতে পারবেন। তাই একটি সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য একটি পরিবর্তনশীল জীবন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। এটি শুধু মাত্র আপনাকে ক্যান্সার থেকে নয় অনন্য আরও নানা ধরনের রোগ ব্যাধী থেকে নিরাময় পাওয়া একটি সহজ উপায়।

ক্যান্সার এবং টিউমার কি একই জিনিস

ক্যান্সার ও টিউমার দুটি আলাদা শব্দ কিন্ত অনেকেই এ দুটি শব্দকে একই মনে করে থাকেন। যখন একজন রুগীকে জানানো হয় যে তাদের টিউমার হয়েছে তারা মনে করে যে তাদের হয়ত ইতিমধ্যেই ভয়ঙ্কর ক্যান্সার দ্বারা আক্রান্তিত হয়েছে। যার ফলস্বরূপ তারা সঠিক চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয় কারণ তারা জানে না বা বোঝে না যে তারা কি ধরনের রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

বিষয়গুলি স্পষ্ট করে বলা যাক এটি জানা অবশ্যক যে টিউমারগুলি অনিয়ন্ত্রিত ক্যান্সারের মতো নয়। একটি টিউমার হচ্ছে এমন একটি অস্বাভাবিক সেলুলার বৃদ্ধির যার ফলে ক্ষত তৈরি হয় বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোষের অনিয়মিত বৃদ্ধি। দুটি একই রকম শুনতে হলেও এদের মাঝে রয়েছে পার্থক্য।

এটি উল্লেখিত যে সমস্ত টিউমার দ্বারা ক্যান্সার হয় না। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সকল ধরনের ক্যান্সারই  টিউমার বৃদ্ধির দ্বারা চিহ্নিত করা যায় না। যেমন রক্তের ক্যান্সার বা ব্লাড ক্যন্সার এ টিউমারের উপস্থিতি যায় না। আপনার যখন টিউমারে আক্রান্ত, তখন এটি বৃদ্ধিকারী বা ক্ষতিকারক কিনা তা নির্ধারণ বা জানার জন্য বায়োপসি দ্বারা পর্যবেক্ষন করতে পারবেন।

টিউমার এর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি নিরাময় করা সম্ভব এবং এর দ্বারা আপনার এ রোগটি পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুকি থাকে না। অন্যদিকে ক্যান্সার রোগটি দীর্ঘ স্থায়ী বলা চলে এবং চিকিত্সার জন্য প্রয়োজন হয় সার্জারি, কেমোথেরাপি, এবং বিকিরণ থেরাপি নামক ব্যবস্থা।

এদুটি শব্দ একই মনে হলেও ক্যন্সার ও টিউমার দুটি ভিন্ন বিষয় বা ধারণা এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ভিন্ন ধরনের।

ক্যান্সার ধরার পরীক্ষা পদ্ধতি আছে কি

ক্যান্সারের কোন লক্ষণ দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন কোন রোগ সেরে না উঠলে অতিদ্রুত চিকিৎসকের সরনাপন্ন হবেন। ক্যান্সার পরীক্ষার আগে, চিকিৎসক প্রথমে আপনাকে প্রাথমিক কিছু প্রশ্ন করবেন, যাতে চিকিৎসক  আপনার বয়স, আগের অসুস্থতার ইতিহাস এবং পারিবারিক স্বাস্থ্যের স্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং লক্ষণগুলি সম্পর্কে তথ্য পান।

যদি কোনও চিকিৎসক এর মধ্যে ক্যান্সারের লক্ষণ খুজে পায়  তবে ক্যান্সারের সঠিক নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত কয়েকটি পরীক্ষা করাতে দিতে পারেন।

  • ল্যাব পরীক্ষা – কিডনি ফাংশন পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট, সি রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন, সিবিসি, ইএসআর ইত্যাদি সহ রোগীর রক্ত, লসিকার নমুনা নিয়ে কিছু পরীক্ষা করা হয়।
  • ইমেজিং টেস্ট – ইমেজিং পরীক্ষার মধ্যে সিটি স্ক্যান, এমআরআই স্ক্যান, পিইটি স্ক্যান, ইউএসজি স্ক্যান, হাড়ের ঘনত্ব স্ক্যান ইত্যাদি রয়েছে।
  • বায়োপসি – এটি ক্যান্সারের সঠিক সনাক্তকরণের জন্য নেওয়া প্রভাবিত সাইট বা টিউমারগুলির একটি নমুনা এবং ক্যান্সার রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার একটি পরীক্ষা পদ্ধতি।

উপরোক্ত পরীক্ষাগুলো করে দ্রুত ক্যান্সার ধরা পড়লে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ একটি জীবন পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়।

ক্যান্সারের চিকিৎসা কী

ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়।নিবে কিছু পদ্ধতি সর্ম্পকে আলোচনা করা হলো-

 অস্ত্রোপচার

যে জায়গাটিতে ক্যান্সার হয় সেই জায়গায়র ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশেপাশের কোষগুলোকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে  ফেলা হয়। ক্যান্সার যদি অল্প  জায়গা জুড়ে থাকে এবং ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়।

রেডিওথেরাপি

নিয়ন্ত্রিতভাবে শরীরের অংশবিশেষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে সেই জায়গার কোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়।একে রেডিওথেরাপি বলা হয়।

কেমোথেরাপি

এই পদ্ধতিতে  ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করতে অ্যান্টি-ক্যান্সার (সাইটোটক্সিক) ড্রাগস বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ৫০টিরও বেশি ধরনের কেমিওথেরাপির ওষুধ রয়েছে।  এগুলোর কোনো কোনটা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল হিসেবে খেতে হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ওষুধগুলোকে স্যালাইনের সাথে বা অন্য কোনভাবে সরাসরি রক্তে দেওয়া হয়। রক্তের সাথে মিশে এই ওষুধগুলো শরীরের যেখানে যেখানে ক্যান্সার কোষ রয়েছে সেখানে গিয়ে ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

হরমোন থেরাপি

শরীরের কিছু হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে এই চিকিৎসা করা হয়।আমরা জানি, শরীর বৃদ্ধির সাথে হরমোনের একটা সম্পর্ক রয়েছে, কিছু কিছু ক্যান্সার এই হরমোনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। এজন্য ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হরমোন থেরাপি ব্যবহার করা হয়।

ক্যান্সার সহায়ক চিকিৎসা

ক্যান্সার যেমন শারীরিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন ঠিক তেমন মানসিক চিকিৎসা দেওয়াটাও জরুরি।যেকোনো রোগের সাথে লড়াইয়েত জনু চাই মানসিকভাবে শক্ত থাকা। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী মানসিকভাবে অনকটা বিপর্যস্ত হয়ে পরেন। এতোটাই ভেংগে পরেন যে, তার অবস্থা বেশি গুরুতর না হলেও দ্রুত মারা যান। এজন্য চিকিৎসকরা রোগীদের মানসিক চিকিৎসা বেশ জোরদার করছে।

তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করেন এবং উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন সংগঠন কাজও করে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যান্সার আক্রান্তদের একটি গ্রুপ ,যেখানে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে থাকে। এর পাশাপাশি যোগ, মেডিটেশন ইত্যাদির মাধ্যমেও রোগীদের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাবস্থা করা হয়। একই সাথে মানসিক স্বস্তির জন্য কেউ যদি ধর্মীয় বা সামাজিক কোন কাজে নিয়োজিত হতে চান সে ব্যাপারেও তাদেরকে সাহায্য করা হয়।

বাংলাদেশের ক্যান্সার পরিস্থিতি

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখেরও বেশি লোক ক্যান্সার আক্রান্ত হয়। আর প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার লোক মারা যায় ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে। ক্যান্সারের সার্বিক প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতিই পারে এই সংখ্যা কমিয়ে আনতে। ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার জন্য আমাদেরকে যা করতে হবে-

  • ক্যান্সার প্রতিরোধ বিষয়ে আরো বেশি গণসচেতনতা বাড়াতে হবে।
  • বাংলাদেশে ক্যান্সার নির্ণয় পদ্ধতি আরো উন্নত করতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরনের গণসচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে।
  • মানুষের মাঝে ক্যান্সার বিষয়ে সঠিজ তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে ক্যান্সার কি? ক্যান্সারের কারণ কি?

এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর জেনো মানুষ পেতে পারে তাই ক্যান্সার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচাতনতা বাড়াতে হবে। তবে বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসা আগের থেকে অনেকাংশে উন্নত হয়েছে। ক্যান্সার ইন্সটিটিউট এ যাত্রায় যোগ করেছ আরেক নতুন মাত্রা।

ক্যান্সারের প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায়

রোগ প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ উত্তম। ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও তাই। কিছু বিষয় পরিহার করে চললে ক্যান্সার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। জীবনযাপনের পরিবর্তনই পারে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে। ক্যান্সার প্রতিরোধে আমাদের যা জীবন যাত্রায় যে যে পরিবর্তন আনতে হবে। যেমনঃ

ধূমপান পরিহার করুন

সারাবিশ্বে ধূমপান ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ, যা কিনা সব ধরনের ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ। এ ছাড়াও ধূমপানের ফলে হতে লারে মুখ ও গলা, শ্বাসনালী, মূত্রথলি, অন্ত্রের ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগ।

যদি আপনি ধূমপায়ী হন, তবে তা পরিহার করাই উত্তম। যত শিগগির আপনি তা পরিহার করবেন, তত বেশি আপনার জন্য ভালো।

মদপানের ক্ষতি সম্পর্কে জানুন

অতিমাত্রায় মদ্যপান ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুমাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। এর সাথে যদি আপনি ধূমপায়ীও হয়ে থাকেন, তবে ক্যান্সারের ঝুঁকি আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। মদপানে যকৃত, খাদ্যনালী, কণ্ঠ, গলনালী ও ফুসফুসের ক্যান্সারও হয়ে থাকে। সুতরাং, মদপান পরিহার করুন।

সক্রিয় থাকুন

নিয়মিত হালকা পরিশ্রম আপনার ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটা কমাতে পারে।নিয়মিত বা সপ্তাহে ২-৫ দিন ৩০ মিঃ হাটার অভ্যাস করুন। হালকা কিছু শারীরিক ব্যায়াম করতে পারেন।যেমনঃচাইকেল চালানো,সাতার কাটা ইত্যাদি করে নিজেক সক্রিয় রাখুন।

৪.খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত সুষম এবং পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল রাখুন এবং প্রক্রিয়াজাত ও অধিক চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। প্রচুর পরিমাণে (দৈনিক ৮-১০ গ্লাস) পানি পান করতে হবে।

সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন

অতিমাত্রায় সূর্যরশ্মি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, যা কিনা মেলানোমা এবং ত্বকের (স্কিন) ক্যান্সারের সৃষি করে। গ্রীষ্মকালে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকুন অথবা এ সময় ছাতা, সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

ওজন কমান

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কেবল হৃৎপিণ্ডের অসুখ নয়, ডায়াবেটিস এমনকি ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ওজন স্তনের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। অতএব, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন।

নিয়মিত ক্যান্সার স্ক্রিনিং

নিয়মিত স্ক্রিনিং টেস্ট করুন।এর ফলে প্রাথমিক অবস্থায় শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এত্র চিকিৎসাপদ্ধতি সহজ ও ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়।

 স্বাস্থ্য পরীক্ষা

৫০ ঊর্ধ হলে নিয়মিত ডাক্তারের কাছে দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।

মোবাইল ফোন ব্যাবহারের সর্তক হোন

অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যাবহার ক্যান্সার  সৃষ্টির কারণ হতে পারে।কেননা মোবাইল থেকে যে রেডিয়েশন নিঃসৃত হয় তা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারে সচেতন হতে হবে

অনেক প্রসাধনী ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে যা শেষ পর্যন্ত ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

প্রতি বছর একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন, প্রতি মাসে নিজেই নিজের স্তন, মুখের ভেতর ও শরীর পরীক্ষা করতে পারেন। দ্রুত ব্রেস্ট ক্যান্সার,জরায়ু ক্যান্সার, জরায়ুর মুখে ক্যান্সার,প্রস্টেট ক্যান্সার,কোলন ক্যান্সার ও পলিপ ক্যান্সার শনাক্তের জন্য আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি কিছু  নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো ফলো করা।

মনে রাখবেন,

  • এক-তৃতীয়াংশ ক্যান্সারই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • এক-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য ক্যান্সার।

সঠিক নিয়মে জীবনযাপন করুন, ক্ষতিকর জিনিস বা পদার্থ থেকে নিজকে দূরে রাখুন সুস্থ থাকুন।

আশা করি এই নিবন্ধটি পরে ক্যান্সার কি? ক্যান্সারের কারণ সর্ম্পকে কিছু ধারণা দিতে পেরেছি যেগুলো আপনাদের সুস্থ থাকতে কাজে দিবে।

Previous articleভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার কোনটি ব্যবহার করবেন?
Next articleকিভাবে আমি জীবনে প্রথম ২০০ ডলার অনলাইনে আয় করলাম।
যে ব্যর্থ সে অজুহাত দেখায়, যে সফল সে গল্প শোনায়। আমি অজুহাত নয় গল্প শোনাতে ভালবাসি। আসুন কিছু গল্প শুনি, নিজের গল্প অন্যকে শুনাই।