ফেসবুক কমেন্ট- নেতাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং তার বহিঃপ্রকাশ।

ফেসবুক কমেন্ট- নেতাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং তার বহিঃপ্রকাশ।

 

শুধু নাসিম না কাদের সাবও যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছিল, মোর দ্যান ৮০% মানুষ ফেসবুকের কমেন্টবক্সে হয় তার মৃত্যু কামনা করছে কিংবা তারে লানত/অভিসাপ দিছে। ১০-১৫% মানুষকে দেখছি অন্যদের খুবই দুব্বল গলায় অনুরোধ করছে ‌ অসুস্থ্য একজন মানুষরে নিয়া এইসব বাজে মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য। খালি আম্লিগ না, বিম্পির কেও হাসপাতালে গেলেও হয়ত জনগণের একই পতিক্রিয়া হইত। এটাই নেতাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা এবং তার বহিঃপ্রকাশ।

অনেক আগে বিটিভি তে টিপু সুলতান নামে একটা জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল হইত অনেকেরই হয়ত  মনে আছে। সেখানে এক চরিত্র ছিল পন্ডিত নামে কোন এক পর্বে যার একটা ডায়লগ ছিল এইরকম- জনগনের যে রায়, ভগবানেরও সেই একই রায় । এইসব রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাপারে জনগণের রায় ফেসবুকের কমেন্টের মাধ্যমেই ফুটে উঠছে বলেই আমার বিশ্বাস। ভগবানের রায়ও তাইলে তাই।

জনগণের সেবা করার কাজে নির্বাচিত নেতারা যখন জনগণের কোটি কোটি টাকা মাইরা খায়, তাদের বউ-পোলাপানের নামে ইউরোপ আমেরিকায় বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি ফ্লাট থাকে তখন  বলতেই হবে মানুষের এইসব আভিসাপ বা কমেন্ট তাদের সারা জীবনের কামাই। ১০-১৫% দলকানা যারা চিঁচিঁ করে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন তারা সরেন ভাই। আপনেরা বড়লোক্স কিংবা রাজনিতির কোন বেনিফিট হয়তবা আপনারা পান তাই সাফাই গাইতেই পারেন, আমরা দেশের সাধারণ জনগণ আমরা ভুক্তভুগি- স্বাধীনের প্রায় ৫০ বছর হয়ে গেল, দেশ চালায়া যারা খালি নিজের পকেট ভরসে তাদের পক্ষে সাফাই গাইতে পারিনা, আমরা সাধারণ মানুষ, রাজনীতির বেনিফিট আমরা পাইনা। পাইলে আজ দেশের এই অবস্থা হইত না।

কোথাও পড়া একটি হাদিসঃ  আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন, তখন ফেরেস্তা জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাস।

তারপর জিবরিল (আঃ) তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর (জিবরিল) আকাশবাসীকে (ফেরেশতাদের) বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। অতএব তোমরা তাকে ভালোবাস। তখন আকাশের সকল ফেরেশতা তাকে ভালোবাসতে থাকেন। তারপর সে ব্যক্তির জন্য জমিনেও জনপ্রিয়তা দান করা হয়।

আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন তখন জিবরিলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করি, তুমিও তাকে ঘৃণা কর। তখন জিবরিলও তাকে ঘৃণা করেন। এরপর আকাশবাসীকে বলে দেন যে, আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, তোমরাও তাকে ঘৃণা কর। তখন আকাশবাসীরা তাকে ঘৃণা করতে থাকে। অতঃপর তার জন্য জমিনেও মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি হয়।’ (মুসলিম, মিশকাত)

একই কারনে আমিও এদেরকে ঘৃণা করি এবং তাদের আখিরাতের ফয়সালা আমি দুনিয়াতেই দেখতে পাই। অনেকে এখানে আমার সাথে দ্বিমত করতে পারেন, বলতে পারেন ভাই, ক্ষমা করার মালিক আল্লাহ, তিনি হয়ত তওবা করে মাফ পেয়ে গেছেন আপনি কি সেটা জানেন? এই টাইপের চিন্তা যার মাথায় আসছে তাকে বলতে চাই এত সোজা না ভাই। তাইলে দুনিয়ার সব মানুষ বেহস্তে চইলা যাইত চ্যালচেলাইয়া, সারা জীবন পাপ কইরা। কেও সারা জীবন নামাজ পড়ে নাই, নো ইস্যু, রোজা রাখেন নাই-নো ইস্যু আল্লাহর হক আল্লাহ ছাইড়া দিবেন তিনি মহান। কিন্তু আল্লাহ পরিস্কার বলে দিছেন বান্দার হক তিনি ক্ষমা করবেন না। কেও কারও তিল পরিমাণ হক মাইরা খাইলে তার বিচার হবে।

একারনেই একজন মুসলমান হিসাবে  জনগণের হক মেরে খাওয়া এইসব নেতা-নেত্রিদের পক্ষে আমি একটা কথাও বলতে পারিনা- এখন তারা আই সি ইউ তে থাকুক আর অপারেশনের থিয়েটারেই থাকুক, তাদের জন্য আমার কোন মায়া নাই, দয়া নাই, দোয়াও নাই। ভাল থাকবেন সবাই। ধন্যবাদ।


Leave a Reply