চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম

চাকরির বাজারে আছেন আর সিভি চিনেননা এমন কাওকে পাওয়া যেমন কষ্টের ঠিক তেমনি সঠিকভাবে সিভি লিখতে পারেন এমন কাওকে খুঁজে বের করা যেন আরও কষ্টের। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে চাকরির বাজারে এসেও অনেকেই সিভি সঠিকভাবে লিখতে পারেননা। শতকরা প্রায় শতভাগ চাকুরি প্রার্থী তার জীবনের প্রথম সিভি তৈরি করেন বড় ভাইয়ের দেয়া সিভি কপি করে। চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম না জানার কারনেই হয়ত এই অপচেষ্টা করে থাকেন তারা।

অথচ একজন অভিজ্ঞ বড় ভাইয়ের সিভি আর চাকরির বাজারের নতুন অনভিজ্ঞ চাকুরি প্রার্থীর সিভি কখনই এক হতে পারেনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক চাকুরি প্রার্থীর ইন্টারভিউ নিয়েছি, অনেকের সিভি দেখেছি। বেশিরভাগ সিভিরই আসলে বিলো-স্ট্যান্ডার্ড। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই আসলে আমার এই লেখা। আশা করি আমার আজকের এই লেখাটি অভিজ্ঞ এবং অনভিজ্ঞ চাকুরি প্রার্থীদের সবারই খুব কাজে লাগবে।

আর হ্যা, আরেকটা কথা বলে রাখি, সিভি শুধু চাকুরি করার জন্যই নয় বৃত্তি অথবা কোনো সভা-সম্মেলন-ফেলোশিপে অংশগ্রহণের জন্যও এখনকার দিনে সিভি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবার আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রয়োজনেও সিভি লেখার প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে সিভির প্রয়োজন হতে পারে, তাই সিভি লেখার নিয়ম জানাটা খুবই জরুরী আর চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম জানাটা ত বলার অপেক্ষা রাখেনা।

সিভি কি, কাকে বলে?

সিভি বা কারিকুলাম ভিটা (Curriculum Vitae) হচ্ছে ২-৩ পাতার একটি ডকুমেন্ট বা কাগজ যা আপনার অনুপুস্থিতিতে আপনাকে কারও কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়। যিনি আপনার সিভিটি দেখছেন তিনি আপনার সিভি দেখেই আপনার সম্পর্কে সম্যক ধারনা পেয়ে যান এবং আপনার সাথে সরাসরি সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকেন। অল্প কথায় এর চেয়ে ভাল কিছু সিভি সম্পর্কে আর হতে পারেনা।

উপরের কথাগুলোর প্রতিফলন আপনার সিভিতে যদি আপনি দেখতে চান তাহলে আপনাকে আপনার সকল তথ্য সিভিতে উপস্থাপন করতে হবে সঠিকভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে। সিভি হতে হবে আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল। তাহলেই আপনার সিভি পূর্ণতা পাবে।

চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান যেহতু সিভি দেখেই প্রথমে শর্ট লিস্ট করে থাকেন তাই আপনার সিভি যদি তারা পছন্দ না করে থাকেন তাহলে প্রথমেই আপনি বাদ পরে যাচ্ছেন। শর্ট লিস্টে যদি আপনি উতরে যেতে পারেন, সামনা-সামনি ইন্টার্ভিউতে আপনি আপনাকে প্রমান করার আরও সুযোগ পাচ্ছেন। তাই আপনার সিভি হয়া চাই সবার চেয়ে আলাদা এবং আকর্ষণীয়। চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম না জানলে সেই সিভি আপনি কিভাবে বানাবেন, একবার ভাবুনতো।

আকর্ষণীয় সিভি কেন প্রয়োজন?

চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পজিশনের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি আহ্বান করে থাকেন। তারপর তারা সেই সিভিগুলোতে একনজর চোখ বুলিয়ে শর্ট লিষ্ট করে প্রার্থীদের ইন্টারভিউ এর জন্য ডেকে থাকেন। তাই আপনার সিভি এমন হওয়া চাই একনজরেই যেন চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে আকর্ষণীয় এবং যোগ্য মনে হয়।

আগেই বলেছি, আপনার সিভি দেখার জন্য তারা খুব বেশি সময় দেয়না বা পায়না। একনজর, শুধুমাত্র একনজর দেখেই কাকে কাকে শর্ট লিষ্ট করা হবে তারা সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তাই সিভি যদি তাদের নজর না কেড়ে নিতে না পারে তাহলে আপনি শর্ট লিষ্টে নাও থাকতে পারেন।

আপনার সিভিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পুরো লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন আশা করি লেখাটি পড়ার পর আপনি নিজেই আপনার চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম জেনে নিতে পারবেন।

একটি কমপ্লিট সিভিতে কি কি তথ্য থাকা উচিত?

একটি সম্পূর্ণ সিভিতে কি কি তথ্য থাকা উচিত কিংবা কি কি তথ্য না থাকলে আপনার সিভি পরিপূর্ণতা পায়না সেব্যাপারে পর্যায়ক্রমে নিচে আলোচনা করা হলো। প্রিয় পাঠক, পড়তে থাকুন।

আপনার ছবি

সিভির শুরুতেই আপনি আপনার একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংযুক্ত করে দিবেন। সাধারণত আমরা সিভির ডান দিকের উপরের কোনায় ছবি সংযুক্ত করে দেই। ছবি দেয়ার সময় নিচের বিষয়গুলোর দিকে নজর দিবেন প্লিজঃ

ছবিটি যেন মার্জিত হয়। মানে হল ছবিটি ফরমাল হতে হবে। টাই পড়া হলে ভাল। মাথার চুল যেন অবশ্যই সুবিন্যাস্ত থাকে। ছবিটি কালার হবে। সার্ট হবে এক কালারের, ব্যাকগ্রাউন্ড হবে হালকা কালারের। ছবি আপনি চাইলে আঠা দিয়ে লাগাতে পারেন, স্ট্যাপলার পিন দিয়ে লাগালে পিন এক পাশে লাগাবেন। চেহারার উপর পিন লাগাবেন না।

ছবিটি অবশ্যই লাস্ট তিন মাসে তোলা হতে হবে। মানে রিসেন্ট ছবি যেন হয়। দুমড়ানো-মুচরানো ছবি যেন না হয়। ভাল স্টুডিও থেকে ছবি তুলবেন। এটা আপনার সিভিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে। নিচের ছবিটি খেয়াল করে দেখুন।

সিভি কিভাবে লিখবেন

আপনার নাম

সিভির শুরুতেই আপনি আপনার নাম দিবেন। নামের নিচে একটি ট্যাগ লাইন ব্যবহার করতে পারেন উপরের ছবির মত করে। উপরের নমুনা সিভিতে দেখুন নামের নিচে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনাল কথাটি লেখা হয়েছে এবং সাথে মেম্বারশীপ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবির নিচেই মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল এড্রেস লেখা রয়েছে। অল্প দুই-তিন লাইনেই চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান মোবাইল নম্বর, ইমেইল এড্রেস এবং চাকুরি প্রার্থীর প্রফেশন সম্পর্কে ধারনা পেয়ে গেলেন।

আপনার ক্যারিয়ার অব্জেক্টিভ এবং ক্যারিয়ার ওভারভিউ

নতুনেরা বা নিউ কামারেরা তাদের সিভির শুরুতে ক্যারিয়ার অব্জেক্টিভ লিখতে পারে আর অভিজ্ঞরা তাদের সিভি শুরু করতে পারে ক্যারিয়ার ওভারভিউ দিয়ে। সিভির শুরুর এই প্যারাটি পড়েই যেন চাকুরিদাতা প্রার্থী সম্পর্কে একটি সঠিক ধারনা পায়।

ক্যারিয়ার অব্জেক্টিভ লেখার সময় নতুনেরা তাদের নিজের এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে এবং নিজস্ব ক্যাপাবিলিটির উপর জোড় দিবে। নিজেকে ডাইনামিক এবং যেকোন কাজে পারদর্শী বলে পরিচয় করিয়ে দিবে। যাতে করে চাকুরিদাতা প্রার্থীর প্রতি আকর্ষণ বোধ করেন।

ক্যারিয়ার ওভারভিউ লেখার সময় প্রার্থী অবশ্য অল্প কথায় তার পুরো ক্যারিয়ারকে তুলে ধরবেন। এমনভাবে লিখতে হবে যাতে করে এই অংশটুকু পড়েই চাকুরিদাতা বুঝে যান প্রার্থীর যোগ্যাতা। নিচের ছবিতে দেখুন।

চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম

উপরের লেখাতে দেখতে পাচ্ছেন, একজন চাকুরি প্রার্থী তার ক্যারিয়ার ওভারভিউতে অল্প কথায় কত সুন্দর করে তার এক্সপেরিয়েন্স এবং একই সাথে তার ওয়ার্কিং ক্যাপাবিটি তুলে ধরেছেন- তিনি শুধু একজন ইঞ্জিনিয়ারই নন একই সাথে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার যে কিনা একজন টীমলিডার হিসেবে গোটা টীম নিয়ে একটি প্রজেক্ট সঠিক সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দিতে সক্ষম।

আশা করি ক্যারিয়ার অব্জেক্টিভ এবং ক্যারিয়ার ওভারভিউ নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আর বলার দরকার নেই। আপনি ভালই বুঝে গেছেন।

আপনার স্ট্রেন্থ, আপনার সামর্থ্য

আপনি কেন অন্যদের থেকে আলাদা। আপনাকে কেন এমপ্লোয়্যার  হায়ার করবে? কি আছে আপনার মাঝে? একটু গুছিয়ে না বলে দিলে আপনার সিভি দেখে তারা কিভাবে বুঝবেন। আপনাকে নিজের কোর স্ট্রেন্থগুলো হাইলাইট করে দিতে হবে। নিচের ছবিটি দেখুনঃ

আপনাকে কেন চাকরি দিবে?

উপরের ছবি ভালভাবে খেয়াল করে দেখুন। সিভির এই অংশে প্রার্থী তার স্ট্রং পয়েন্টগুলো কত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন এবং অল্প কথায়। সিভির প্রথম পাতা থেকেই এমপ্লোয়্যার প্রার্থী সম্পর্কে ভাল ধারনা পেয়ে যাচ্ছে। আপনিও চাইলে এভাবে আপনাকে তুলে ধরতে পারেন।

আপনার কারেন্ট জবের দায়িত্ব

অনেকেই তার সব চাকুরির রেপন্সিবিলিটি তুলে ধরেন। এতে সিভি অনেক বেশি লম্বা হয়ে যায়। এত কিছু পড়ার সময় আসলেই কারও নেই। তাই আমি মনে করি শুধুমাত্র কারেন্ট জব রেস্পন্সিবিলিটিস দিলেই তা এনাফ। এত বড় রচনা লিখে কাওকে বিরক্ত না করাই ভাল।

চাকুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে লাস্ট জব বা কারেন্ট জব রেস্পন্সিবিলিটি তুলে ধরাই শ্রেয়। বাকিগুলো লিস্ট আকারে তুলে ধরুন।তাহলেই চলবে।

আপনার অভিজ্ঞতার তালিকা

সংক্ষিপ্ত আকারে নিজের আগের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন। কত দিন কোথায় জব করেছেন এবং সেখান থেকে আপনি কি এচিভ করেছেন সেটাই হাইলাইট করে দেখান। নিচের ছবিটি দেখুনঃ

জব রেস্পন্সিবিলিটিস

প্রতিটি জবের রেস্পন্সিবিলিজ লিখতে গেলে আপনার সিভি অযথাই অনেক লম্বা হয়ে যাবে, তাই এই পদ্ধতিতে লিখলে আপনার সিভি যেমন ছোট করে নিয়ে আসতে পারবেন তেমনি অল্প কথায় আপনার সম্পর্কে সব কিছু বলা হয়ে যেতে পারে। ভেবে দেখুন।

এক্ষেত্রে আপনার চাকুরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। লেটেস্ট এক্সপেরিয়েন্স থেকে শুরু করতে ভুলবেননা।

পার্সোনাল ডিটেইলস

সিভি থাকবে আর আপনার সম্পর্কে সব ইনফরমেশন থাকবেনা তাতো আর হয়না। আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্ম তারিখ, এনআইডি/ পাসপোর্ট নম্বর, স্থায়ি-অস্থায়ী ঠিকানা, জাতিয়তা, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল এড্রেস সব একসাথে একজায়গাতে দিয়ে দিন। এতে করে এসব ইনফরমেশন খুঁজে পেতে সুবিধা হবে। নিচের মত ছক আকারে দিতে পারলে আরও ভাল হয়।

পার্সোনাল ডিটেইলস

ছক করে দিলেও আপনি চাইলে বর্ডার তুলে দিতে পারেন আপনি চাইলে, এতে আরও সুন্দর হতে পারে ব্যাপারটি।

আপনার একাডেমিক কুয়ালিফিকেশন এবং ট্রেনিং

আপনার একডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড সুন্দর করে উল্লেখ করে দিন, কোথায় থেকে কত সালে আপনি কোন ডিগ্রী অর্জন করেছেন তার উল্লেখ করুন। আপনার রেজাল্ট যদি এক্সট্রা অরডিনারি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার উল্লেখ করুন।

আপনার যদি কোন ট্রেনিং থাকে তাহলেও তা উল্লেখ করে দিন, ট্রেনিং উল্লেখ করার সময় অবশ্যই ট্রেনিং কাদের অধীনে ছিল এবং কতদিনের ট্রেনিং ছিল তা উল্লেখ করে দিন। এতে করে ট্রেনিং এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

কোথাও থেকে কোন সম্মানসূচক কোন ডিগ্রী পেয়ে থাকলে তারও উল্লেখ করবেন।

আপনার ল্যাঙ্গুয়েজ এবং কম্পিউটার স্কিল

আপনার যদি একের অধিক ভাষা জানা থাকে তার উল্লেখ রাখুন। রিডিং, রাইটিং, স্পিকিং আলাদা ভাবে উল্লেখ করে দিন। এতে আপনার সিভি স্ট্রং হবে। দেশের মধ্যেও যদি কোন লোকাল ল্যাংগুয়েজে আপনি দক্ষ হোন, বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্যই তা যুক্ত করুন। অনেক চাকুরির ক্ষেত্রে লোকাল ল্যাঙ্গগুয়েজেরও প্রাধান্য দেয়া হয়।

কম্পিউটার স্কিল এখনকার দিনে খুবই সাধারণ ব্যাপার। সবারই থাকা উচিত। স্পেশাল কিছু জানা থাকলে তাতো রাখবেনই সিভিতে। নরমাল বিষয়গুলোও উল্লেখ করতে ভুলবেন না।

আপনার রেফারেন্স

অনেকেই রেফারেন্সকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু প্রায় সকল মাল্টি-ন্যাশনাল কম্পানি রেফারেন্সকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে থাকে। শুধু তাইনা, রেফারেন্স হিসেবে যার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর দেয়া হয় তার সাথে তারা যোগাযোগ করে প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন।

তাই সিভিতে দেয়া রেফান্সের নাম, ঠিকানা, পদবি, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি সঠিক দিবেন। রেফারেন্স হিসেবে যাকে দিচ্ছেন তার সাথে কথা বলে রাখুন। কেও তার কাছে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে যেন তিনি সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।

আপনার শখ এবং অন্যান্য এক্টিভিটিস

বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র আপনার চাকুরি এবং একাডেমিক কুয়ালিফিকেশনকে মূল্যায়ন করে তাই নয় একই সাথে তারা আপনার শখ ও অন্যান্য এক্টিভিটিসগুলো বেশ গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করে থাকে। তাই আপনার অবশ্যই উচিত হবে আপনার কোন শখ বা অন্যান্য এক্টিভিটিস থাকলে তা সিভিতে উল্লেখ করা।

উদাহরন হিসেবে বলা যায়, শখ বা আদার এক্টিভিটিস হিসেবে আপনি বই পড়া, বাগান করা, বাড়িতে পোষা প্রানী পালন করা, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখ করতে পারেন।

আসল ব্যাপার হচ্ছে একজন মানুষের শখ বা অন্যান্য এক্টিভিটিসের মাধ্যমে একজন চাকুরি প্রার্থীর সাইকোলোজি তারা বুজতে চেষ্টা করে। যেমন কারও পত্রিকা পড়ার অভ্যাস থাকা মানেই হচ্ছে সে বর্তমান সময়ের ঘটনাবলি জানার ব্যাপারে তার উৎসাহ রয়েছে, সে কিউরিয়াস, জানার আগ্রহ তার রয়েছে। ব্যাপারটি অনেকটাই এরকম।

নোটিস পিরিয়ড উল্লেখ করুন

আপনাকে যদি সিলেক্ট করা হয় তাহলে আপনি কতদিনের মাঝে যোগদান করবেন সেই নোটিস পিরিয়ড উল্লেখ করে দিন। এতে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারবে আপনাকে তারা কতদিনের মাঝে পাচ্ছে। সাধারণত নোটিস পিরিয়ড সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে ২ মাস পর্যন্ত হতে পারে।

নোটিস পিরিয়ড মানে হল আপনি আগের চাকুরির প্রতি দায়িত্বশীল। কোন কোম্পানি চাইবেনা তার কোন এমপ্লয়ি হুট করে চলে যাক। তারা চাইবে নির্ধারিত সময় হাতে নিয়ে আরেকজনকে নিয়োগ দিয়ে তার হাতে আপনার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আপনাকে রিলিজ করে দিতে।

ডিক্লারেশন এবং সিগ্নেচার বা স্বাক্ষর

আপনার সিভির নিচে একদম নিচে ডিক্লেয়ার করুন, আপনি সিভিতে যেসব তথ্য একদম সঠিক এবং আপনি নিচে তারিখ সহ স্বাক্ষর করে দিন। অনেকসময় আমরা সিগনেচার ছাড়াই সিভি জমা দিয়ে দেই আবার সিগনেচার দিলেও তারিখ দেইনা।

এইসব বদ অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। সিভি জমা দেয়ার আগে সতর্কতার সাথে এসব তথ্য যাচাই করে নিতে ভুলবেন না।

সিভি লেখার ফরম্যাট

সিভি লেখার জন্য একটি ভাল, স্মার্ট ফরম্যাট বাছাই করুন। ফন্ট, স্টাইল, কালার, এলাইনমেন্ট ইত্যাদি দিকে অবশ্যই নজর রাখুন। এফোর সাইজের অফসেট পেপার নিন। লেখার মার্জিন ঠিক রাখবেন। H1, H2 ইত্যাদি ট্যাগ করে লেখুন। কোথাও গুরুত্ব বুঝাতে লেখা বোল্ড করে নিতে পারেন, আন্ডারলাইন করে দিতে পারেন। বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। নিচে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হলঃ

আর্টিকেল লেখার নিয়ম জানতে পড়ুন।

সিভির ভাষা

সিভির ভাষা সাধারণ ভাবে ইংরেজি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রায় সব কম্পানিতে ইংরেজি ভাষার প্রচলন থাকায় আপনিও সিভি ইংরেজিতেই তৈরি করবেন। সেটাই ভাল।

কাগজের সাইজ ও প্রকার

সিভির জন্য কাগজের সাইজ অবশ্যই A4 হতে হবে। এছাড়াও অনেক সাইজের কাগজ বাজারে পাওয়া যায় যা অনেকটা A4 সাইজের কাছাকাছি। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করবেন না। আর কাগজ অফসেট হলে খুবই ভাল হয়। নরমাল কাগজ না হয়াটাই শ্রেয়।

সিভির ফন্ট, সাইজ ও কালার

মার্জিত অফিসিয়াল ফন্ট ব্যবহার করাই উচিত। অফিসিয়াল ফন্ট বলতে Calibri, Arial অথবা, Times New Roman বুঝায়। আর ফন্টের সাইজ ১০-১২ এর মধ্যে রাখবেন বডিতে। কোথাও হেডিং থাকলে সেখানে ১৪-১৬ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করবেন।

আর লেখার কালার অবশ্যই ব্লাক রাখবেন। কালো ছাড়া অন্য কোন কালার ব্যবহার করবেন না। অনেকেই সিভিতে হাইলাইট করার জন্য বিভিন্ন কালার ব্যবহার করে থাকে যা আসলে দৃষ্টি কটু।

সিভির কত বড় হবে?

সিভি আসলে কত বড় হবে? অনেকেই বুঝতে পারেননা। একটি পরিপূর্ণ সিভি কোন ভাবেই ২-৩ পাতার বেশি হওয়া উচিত নয়। এর চেয়ে বেশি হলে মানুষ বিরক্ত হয় এবং আপনার সিভি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেতে সমস্যায় পরে যায়।

বানান এবং গ্রামাটিক্যাল ভুল

কখনই আপনার সিভিতে কোন প্রকার বানান ভুল থাকা যাবেনা, গ্রামাটিক্যাল ভুলও নয়। এতে আপনার সিভি শুধু সৌন্দর্যই হারায় না, আপনার সম্পর্কে বাজে ধারনার জন্ম দেয়। তাই  আপনার সিভি বারবার চেক করে দেখুন বানান এবং গ্রামাটিক্যাল ভুল থাকলে তা কারেকশন করুন।

ওয়ার্ড নাকি পিডিএফ কোনটা ভাল

কাওকে ইমেইলে সিভি পাঠাতে হলে পিডিএফ ফরম্যাটেই সিভি পাঠানো ভাল। অনেকে সময় সার্কুলারে উল্লেখ থাকে কোন ফরম্যাটে দিতে হবে। উল্লেখ থাকলে সেই ফরম্যাটে পাঠান।

পিডিএফ ফরম্যাটে দেয়ার কিছু সুবিধা রয়েছে। ওয়ার্ড ফাইলে অনেক সময় ফন্ট ও ডিজাইন চেঞ্জ হয়ে যাবার সুযোগ থাকে, কিন্তু পিডিএফে এই সুযোগ থাকেনা। আপনার নিজস্ব ফরম্যাট প্রিন্ট করার পরেও অক্ষুন্ন থাকবে।

সিভির ডিজাইন এবং অন্যান্য কারুকাজ

আপনার সিভিতে হালকা কিছু ডিজাইন করতে পারেন যা আপনার সিভিকে আধুনিক করে তুলতে সাহায্য করবে। কিন্তু তা কখনই এমন হবে না যা দেখতে দৃষ্টি কটু হয়। সিভির চারদিকে পর্যাপ্ত মার্জিন রাখুন। বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন। আন্ডারলাইন দিতে পারেন ইত্যাদি।

নিয়মিত আপডেট করুন

আপনার সিভি নিয়মিত আপডেট করুন। আপনার কাজের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা আপনার সিভিতে দিয়ে দিন। কোন নতুন টেকনোলোজি বা টুলস সম্পর্কে জানলে বা শিখলে তা সিভিতে নিয়ে আসুন।

অনেকেই আমরা সিভি দেয়ার সময় পুরানো সিভি দিয়ে দেই। সবসময় আপডেটেড সিভি দিন, কোথাও তারিখ থাকলে বিশেষ করে স্বাক্ষরের নিচে তা চেক করে দেখুন।

কিভাবে সিভি তৈরি করবেন

কিভাবে সিভি লিখবেন? সিভি লেখার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। এর মাঝে সবচেয়ে সহজ উপায়গুলো আপনাকে জানিয়ে দিচ্ছি।

এমএস ওয়ার্ড (MS Word)

এটিই সিভি লেখার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাধ্যম বলে বিবেচিত। এমএস ওয়ার্ড এ সিভি তৈরি করা জন্য আপনি নিজেই নিজের পছন্দমত সিভির ফরম্যাট তৈরি করে নিতে পারেন আবার এমএস ওয়ার্ড এ কিছু বিল্ট ইন ফরম্যাট রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন। অনলাইনে গুগল সার্চ করেও এমএস ওয়ার্ড এর বিভিন্ন ফরম্যাট পেয়ে যেতে পারেন সেগুলো ব্যবহার করে নিতে পারেন।

পাওয়ার পয়েন্ট এ সিভি তৈরি

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টে আপনি সিভি তৈরি করতে পারেন। সেখানেও অনেক টুলস রয়েছে যা আপনার সিভিকে পাওয়ারফুল করে দিতে পারে। তবে পাওয়ার পয়েন্টে সিভি তৈরি করার সময় সাবধান থাকবেন অতিরিক্ত ডিজাইন আপনার সিভিকে দৃষ্টি কটু যেন না করে দেয়।

মোবাইলে সিভি তৈরি

এন্ড্রোয়েড বা আইফোন দু অপারেটিং সিস্টেমেই কিছু এপ্স রয়েছে যা আপনাকে সিভি তৈরি করতে সাহায্য করবে। আপনার ফোনের প্লে স্টোর বা এপ স্টোরে একটু খুঁজে দেখুন।

ওয়েবসাইট থেকে সিভি তৈরি

বিভিন্ন ওয়েবসাইটও সিভি তৈরি করার সুবিধা দেয়। যেমন বিডিজবস এর মত ওয়েব সাইটে আপনি আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ রুপে ফিল করলে তারা আপনার সিভি সাজিয়ে দিবে। ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিলেই চলবে। এতে আপনার কষ্ট কমে যাবে অনেকটাই। আর এই সার্ভিস তারা ফ্রিতেই দিয়ে থাকে।

সিভি কিভাবে জমা দিবেন?

সিভি কিভাবে জমা দেবেন? আমাদের দেশে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সাধারণত কয়েকটি উপায়ে সিভি চেয়ে থাকেন।

  • ইমেইলের মাধ্যমে
  • বাই পোষ্ট বা কুরিয়ারের মাধ্যমে
  • অনলাইন প্রোফাইল আপডেট

ইমেইলের মাধ্যমে সিভি প্রেরণ

ইমেইলে অনেক প্রতিষ্ঠান সিভি চেয়ে থাকে। আপনি যদি এমন কোন প্রতিষ্ঠানকে সিভি পাঠাতে চান তাহলে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর দিবেন। আপনার সিভিটি পিডিএফ করে দিবেন।ইমেইলের বডিতে একটি কাভার লেটার লিখে দিবেন। আপনি কেন নিজেকে ঐ পদের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করেন তা উল্লেখ করবেন।

ইমেইলের সাব্জেক্ট লাইনে পদের নাম উল্লেখ করে দিতে ভুলবেন না। আপনি কিভাবে বা কোথা থেকে চাকুরির সার্কুলার পেয়েছেন তা উল্লেখ করতে ভুলবেন না। চাকুরিটির প্রতি আপনার আন্তরিকতা প্রকাশ করতে ভুলবেন না।

সার্কুলারে যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কোন ডকুমেন্ট দিতে বলা হয় তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো ইমেইলের সাথে এটাচমেন্ট হিসেবে দিয়ে দিবেন।

বাই পোষ্ট বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিভি প্রেরণ

বাই পোষ্ট বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে করতে হলে একইভাবে একটি কাভার লেটার লিখে ফেলুন। এফোর সাইজের অফসেট পেপারে সুন্দর ভাবে প্রিন্ট করে নিন। সিভি এবং কাভার লেটারে সঠিক জায়গায় তারিখ সহ সিগনেচার করে দিন।

খামের উপর পরিস্কারভাবে পদের নাম উল্লেখ করুন যেভাবে ইন্সট্রাকশন দেয়া আছে। প্রেরকের নাম এবং প্রাপকের নাম পরিস্কারভাবে উল্লেখ করে দিন। প্রেরক এবং প্রাপকের মোবাইল নম্বর দিতে ভুলবেন না।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিভি পাঠালে অবশ্যই অফিস ডেলিভারি যেন হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন।

অনলাইন প্রোফাইল আপডেট

বড় বড় কোম্পানির নিজস্ব জব/ক্যারিয়ার পোর্টাল থাকে যেখানে আপনি আপনার প্রোফাইল আপডেট করে দিতে পারেন। আপনার বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য সেখানে বিভিন্ন অপশন থাকবে, একটু সময় দিলেই আপনি নিজেই বুজতে পারবেন।

একাডেমিক কুয়ালিফিকেশন এবং আপনার আগের চাকুরির অভিজ্ঞতাগুলো সঠিকভাবে পূরন করে দিন। কোন অংশ ইনকমপ্লিট রেখে কখনই সিভি সাবমিট করবেন না। কোন কিছু না বুঝে থাকলে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিন।

এসব ক্যারিয়ার পোর্টালে অনেক সময় কিছু ইনফরমেশন লিটারেচার স্টাইলে চেয়ে থাকে। এই লিটারেচার অংশে আপনার রাইটিং স্কিলের পরিচয় যেন ভালভাবে প্রকাশ পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

সবশেষে আপনার সিভিটি সাবমিট করে দিন।

সিভিতে যে ভুলগুলো অবশ্যই করবেননা

সিভিতে আমরা কিছু কমন ভুল করে থাকি, যেকারনে অনেক সময় আমাদের যোগ্যতা থাকা সত্তেও আমরা ইন্টারভিউ কল পাইনা। নিচে বেশ কিছু সাধারণ ভুল উল্লেখ করা হলঃ

  • অনেক সময় আমরা সিভিতে মাত্রাতিরিক্ত চাকচিক্য করে ফেলি যা মোটেই কাম্য নয়।
  • বানান ও ব্যকরনগত ভুল করে থাকি, যা করা মোটেই উচিত নয়।
  • বিভিন্ন সাইজের ফন্ট ব্যবহার করি, যা পরিত্যাগ করা উচিত।
  • ছবি দেয়ার ব্যাপারে কার্পণ্য করে থাকি।
  • সিগনেচার বা স্বাক্ষর করিনা তারিখ সহ।
  • কাওকে সিভি দেয়ার সময় খাম ব্যবহার করিনা।
  • ইমেইল এড্রেস মার্জিত এবং নামের সাথে মিল রেখে করিনা।
  • নানা রকম ভুল তথ্য দিয়ে পরে নিজে বিব্রত হই।
  • রেফারেন্সে দেয়া ব্যক্তির তথ্য আপডেট করিনা।
  • অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিবেন না।

সিভি দেখেই দক্ষ প্রার্থী বিচার

মনে রাখবেন, আগে দর্শন তারপর গুন বিচার। যেহেতু নিয়োগকর্তা আপনাকে দেখতে পাচ্ছেন না, তিনি দেখছেন আপনার সিভি। তাই তিনি তার সিভি দেখেই আপনাকে বিচার করবেন।

আপনার সিভি তাই এমন হওয়া উচিত যা আপনাকে সম্পূর্ণ রুপে তার সামনে তুলে ধরতে পারে। তাই চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম জেনে নিয়ম মেনে ভালমত সিভি তৈরি করুন, সফল হতে পারবেন।

চাকরির ধরন অনুযায়ি সিভি এডিট করুন

মনে রাখবেন, একজন ডাক্তারের, একজন ইঞ্জিনিয়ারের কিংবা একজন শিক্ষকের সিভি সম্পূর্ণ আলাদা। চাকুরির ধরন অনুযায়ি আপনার সিভি তৈরি করতে হবে।

অনেক সময় এমন হয়, সার্কুলারে জব রেস্পন্সিবিলিটি উল্লেখ করা থাকে। আপনি ইযদি সেই কাজগুলো করতে সক্ষম হন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার কারেন্ট এবং আগের চাকুরির রেস্পন্সিবিলিটি সাজিয়ে গুছিয়ে এমনভাবে লিখবেন যাতে করে নিয়োগকারি প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে আপনি তাদের রেস্পন্সিবিলিটিগুলো পালন করতে সক্ষম।

সিভির সাথে LinkedIn প্রোফাইল

যুগ এখন ডিজিটাল। সিভির সাথে তাই LinkedIn প্রোফাইল তাই দেয়াই যেতে পারে। LinkedIn প্রোফাইল সংযুক্ত করা হলে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার LinkedIn প্রোফাইল যেন আপডেট থাকে। আমাদের দেশে LinkedIn প্রোফাইল কম প্রচলিত হলেও বিশ্বের অনেক দেশে চাকুরির বাজার মানেই LinkedIn।

আপনার নিজের নামে একটি ডোমেইন কিনতে পারেন যেখানে আপনি আপনার প্রোফাইল বা পোর্টফলিও দিয়ে রাখতে পারেন। এটা এখন সময়ের দাবি। চেষ্টা করেই দেখুন না। এসইও করে আপনার প্রোফাইল যদি গুগল সার্চে এগিয়ে রাখতে পারেন, আপনার চাকরির অভাব হবেনা।

সিভির সাথে আর কি জমা দিবেন

সাধারণত সিভির সাথে আর কি কি ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে তা উল্লেখ করে দেয়া হয়। সাধারণত সিভির সাথে নিচের ডকুমেন্টগুলো চাওয়া হয়ে থাকেঃ

  • একাডেমিক সার্টিফিকেট সমূহ
  • ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি
  • জন্ম সনদপত্র
  • চারিত্রিক সনদপত্র
  • এক্সপেরিয়েন্স সারটিফিকেটস (যদি থাকে)
  • সদ্য তোলা  পাসপোর্ট সাইজের ছবি

আধুনিক অফিসগুলোতে প্রাথমিকভাবে সাধারণত সিভিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। প্রাথমিক ইন্টারভিউ এর পর এইসব ডকুমেন্ট চাওয়া হয়ে থাকে। তাই সার্কুলারে উল্লেখ না থাকলে সিভির সাথে আর কোন ডকুমেন্ট না দেয়াই ভাল। তবে সিভির সাথে কাভার লেটার এবং ছবি থাকাটা বাধ্যতামূলক।

পরিশেষে

অনেকেই সিভিতে তার আগের কাজের দায়িত্বগুলো দিয়ে সিভি ভরিয়ে ফেলেন। আসলে আগের কাজের রেস্পন্সিবিলিটির চেয়ে আগের চাকুরি থেকে আপনি কি কি শিখেছেন এবং কি কি এচিভ করেছেন সেগুলো দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম জানুন।

এখনকার দিনে বেশিরভাগ চাকুরিই টার্গেট বেজড। আপনি টার্গেট এচিভ করতে কেমন পারদর্শী সেবিষয়ে লিখুন।

আমার আজকের ব্লগে আমি চেষ্টা করেছি একজন কিভাবে তৈরি করবে, চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম, সাধারণ ভুলগুলো কি হতে পারে, সিভির ফরম্যাট কিরকম হবে ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে। আপনি যদি পুরো ব্লগটি সময় নিয়ে ভালমত পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই একটি সুন্দর সিভি তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে অনলাইন ভিত্তিক, যারা টাকার বিনিময়ে আপনার সিভি অথবা কাভার লেটার লিখে দেয়। তাদের সহায়তা নিয়ে দেখতে পারেন।

আর আমি তো আছি। আপনি চাইলে আমি আপনার সিভি রিভিউ করে দিতে পারব বিনামূল্যে। আমার সাথে যোগাযোগ করুন, ইমেইলে সিভি পাঠান আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করব। তবে হ্যা, মনে রাখবেন, আমি আপনার সিভি লিখে বা তৈরি করে দিতে পারবনা। হয়ত দেখে দিতে পারব। ধন্যবাদ সবাইকে। আপনার চাকুরি জীবন সুন্দর হোক।

Frequently Asked Question (FAQ)

১. সিভিতে কি কাভার লেটার দিতে হয়?

উত্তরঃ অবশ্যই সিভির সাথে কাভার লেটার সংযুক্ত করবেন। কাভার লেটারে যে পজিশনের জন্য আবেদন করেছেন তার উল্লেখ করে কেন আপনি ঐ পজিশনের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করছেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরতে ভুলবেন না।

২. সিভির সাথে কয় কপি ছবি সংযুক্ত করতে হয়?

উত্তরঃ যদি উল্লেখ না করা থাকে তাহলে সিভির সাথে এক কপি কালার পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংযুক্ত করে দিবেন। আর যদি উল্লেখ থাকে কত কপি তাহলে ইন্সট্রাকশন অনুযায়ি ছবি সংযুক্ত করে দিবেন।

৩. সিভির সাথে কি আর কোন ডকুমেন্ট যেমন একাডেমিক সার্টিফিকেট, এনআইডি বা অন্য কিছু দিব কি?

উত্তরঃ সার্কুলারে যদি উল্লেখ করা না থাকে তাহলে অন্য কোন ডকুমেন্ট দেয়ার দরকার নাই।

৪. ইমেইলে সিভি জমা দিতে হলে তার ফাইল ফরম্যাট কি হবে?

উত্তরঃ সিভি যদি ইমেইলের মাধ্যমে জমা দিতে হয় তাহলে অনেক সময় ফাইলের ফরম্যাট উল্লেখ করা থাকে। তবে যদি উল্লেখ করা না থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই পিডিএফ ফরম্যাটে সিভি জমা দিবেন। এমএস ওয়ার্ড ফাইল ফরম্যাটে সিভি জমা দিলে অনেক সময় লেখার ফরম্যাট বা সাজানো নষ্ট হয়ে যাবার সংকা থাকে তাই এমএস ওয়ার্ড ফাইল ফরম্যাটে সিভি জমা না দেয়াই ভাল।

৫. সফট কপি জমা দিলে সেখানে কি সিগ্নেচারের প্রয়োজন আছে?

উত্তরঃ অবশ্যই সিগনেচার করে দিবেন। আপনার সিগনেচার স্ক্যান করে জায়গা মত বসিয়ে দিন।

Previous articleইউটিউব ভিডিও বানাতে কি কি লাগে জেনে নিন
Next articleইমেইল একাউন্ট তৈরী করে কিভাবে? ইমেইল এর কাজ কি?
যে ব্যর্থ সে অজুহাত দেখায়, যে সফল সে গল্প শোনায়। আমি অজুহাত নয় গল্প শোনাতে ভালবাসি। আসুন কিছু গল্প শুনি, নিজের গল্প অন্যকে শুনাই।