ইট, পাটকেল ও আমার যেমন কর্ম তেমন ফল চিন্তা

ইট, পাটকেল ও আমার যেমন কর্ম তেমন ফল চিন্তা

ইংরেজিতে একটা কথা আছে টিট ফর ট্যাট; এর খাঁটি বাংলা করলে নাকি দাঁড়ায় ইটটি মারিলে পাটকেলটি খেতে হয় অনেকটা যেমন কর্ম তেমন ফল । ইটের সাথে পাটকেলের কি সম্পর্ক তা কি জানেন? অনেকেই হয়ত আমরা জানিনা।তাহলে আসুন কিছুটা জেনে নেই।

শৈশবের শপথ বাক্য নিয়ে আমার ব্লগ পড়ে দেখবেন এখানে

প্রথমেই ইট এবং পাটকেলের সম্পর্কে জেনে নেই

ইট শব্দের বাংলা অর্থ “পাকা ঘর বাড়ী ইত্যাদি তৈয়ারী করার জন্য পোড়া মাটির পিন্ড বিশেষ” এটা আমি বাংলা অভিধান থেকে বের করেছি। বাংলাদেশের ইটের স্ট্যান্ডার্ড সাইজ সাড়ে নয় ইঞ্চি বাই সাড়ে চার ইঞ্চি বাই পৌনে তিন ইঞ্চি। একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আরও কিছু তথ্য আপনাদের আমি দিয়ে রাখি। আমাদের দেশে কমবেশি ৫ পদের ইট পাওয়া যায়।

  • প্রথম শ্রেণির ইট
  • দ্বিতীয় শ্রেণির ইট
  • তৃতীয় শ্রেণির ইট
  • ঝামা ইট
  • পিকেড ইট

সাধারণত ভাল মানের ইট বলতে আমরা প্রথম শ্রেনির ইটকেই বুঝে থাকি। কাওকে ইট মারতে গেলে হয়ত আপনি প্রথম শ্রেণির ইটই মারতে চাইবেন।

এবারে আসুন জেনে নেই পাটকেল কি? সাধারণত ইটের টুকরাকেই পাটকেল বলা হয়। এটা আমি আগে জানতাম না। এই মাত্র গুগল করে জেনে নিলাম।

ইটটি মারিলে পাটকেলটি খেতে হয় মানে কি?

মানে হল, আপনি কাওকে আস্ত ছুড়ে ইট মারলেন, সেই ইট তাকে আঘাত করুক আর না করুক ইটটি আর আস্ত থাকে না, মাটিতে পরে কয়েক টুকরা হয়ে যাবে বা যেতে পারে। যাকে মারলেন তার কাছে তখন আঘাত করার মত আর কিছু না থাকলেও কয়েকটি পাটকেল ঠিকই রয়ে যাবে যা দিয়ে সে চাইলেই আপনাকে কয়েকবার আঘাত করতে পারে।

এই বাগধারার আরেকটি অর্থ হল যেমন কর্ম তেমন ফল । আমার আজকের ব্লগের বিষয় বস্তু আসলে তাই।

যেমন কর্ম তেমন ফল

আসলে এই কথটা আমরা সবাই জানি। কারণ ছাড়া যেমন কিছুই এই দুনিয়াতে কিছুই ঘটে না ঠিক তেমনি  অতীতের কর্মফলের উপরই আমাদের ভবিষ্যত প্রতিষ্ঠিত। আমি আজ যা করে যাব আগামীকাল তার ফলাফল আমাকেই ভোগ করতে হবে। এইসবের প্রেক্ষিতে মানুষের জীবনকে আমি কয়েকটি ভাগে মানে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছি। আসুন একটু জেনে নেই।

প্রথম ভাগের সময়কাল ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত

এটা আসলে আপনার জীবনের শিক্ষাকাল। শিক্ষাকাল মানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়। আমি আবারও বলছি গতানুগতিক ধারার স্কুল-কলেজের শিক্ষার কথা আমি বলছি না। আপনার পারিবারিক কিংবা আশেপাশের পরিবেশ থেকে আপনি কী শিখছেন আমি সেকথাই বলছি। ন্যায়-নীতি, ভাল-মন্দ যা কিছু আপনি আপনার জীবনে ইনপুট দিচ্ছেন তাই আপনার সংগ্রহে চলে যাচ্ছে। আপনি আপনার ভবিষ্যতের বীজ বোপন করে চলেছেন ক্রমাগত।

দ্বিতীয় ভাগের সময়কাল পরবর্তী ২৫ বছর

প্রথমভাগের সময় থেকে আপনি আপনার জীবনে যা যা ইনপুট দিয়েছেন তার কিছুটা ফলাফল আপনি এখান থেকেই ভোগ করতে শুরু করেছেন আর পরবর্তী ভাগের জন্য পাথেয় যোগাড় করে যাচ্ছেন। এই বয়সে আপনি আপনার সুকর্ম কিংবা কুকর্ম দিয়ে শুধু আপনার জীবনই নয় গোটা পৃথিবীর আরও অনেকের জীবন রাঙিয়ে দিতে পারেন অথবা বিষিয়ে তুলতে পারেন। মানে হল এই সময়কালে আপনার কর্মের দ্বারা প্রভাবিত শুধু আপনার নিজের জীবনই নয় আরো অনেকের হয়ত পৃথিবীর অনেকের।

শেষভাগ, মানে আফটার পঞ্চাশ

শেষভাগ মানে পঞ্চাশ বছরের পর থেকে আপনার জীবনের আসলে আর তেমন কিছু বাকি নাই। প্রথম দুইভাগের ফলাফল ভোগ করা ছাড়া আর কীই বা করার আছে আপনার। আপনার যৌবনের যত পাপ, অন্যায় কিংবা পুন্যের ফলাফল ভোগের সময় আসলে এটাই। কত মানুষের হক নষ্ট করেছেন কিংবা অবৈধ পথে কত টাকা জীবনে কামিয়েছেন পই পই করে তার শোধ নেয়া হবে। জীবন আপনাকে ছড়বেনা।

তাই ইটটি মারলে পাটকেলটি খাবার জন্য আপনি প্রস্তুত হোন। আর সময় থাকতে সাবধান হন।

 


Leave a Reply