ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার কৌশল জেনে রাখুন

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার কৌশল জেনে রাখুন

হ্যাকিং! শব্দটার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। হ্যাকিং শব্দ টা শুনলে আমাদের মাথায় আসে ফেসবুক হ্যাকিং৷ কারণ ফেসবুকটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম৷ একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে প্রতি ৪ টি ফেসবুক একাউন্টের একটি হ্যাকিং এর কবলে পড়েছে, অথবা তার তথ্য চুরি করা হয়েছে, কিংবা কোন কম্পানী তার তথ্য অন্য কোন কম্পানীর কাছে ফাস করেছে, যার ফলে গোপনীয়তা রক্ষা পায়নি৷ আর সেই ৪ টির একটি একাউন্ট যাতে আপনার না হয়, সেই কারণে আপনার জন্যে রয়েছে কিছু বেসিক টিপস। যা মেনে চললে হ্যাকিং অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার কৌশল জেনে রাখাটা তাই খুবই জরুরী।

পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করুন

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। পাস ওয়ার্ড জিনিস টাকে কখনো অবজ্ঞা করা উচিৎ না। কারণ ফেসবুকের কাছে জাকারবার্গের ফেসবুক একাউন্ট আর আপনার ফেসবুক একাউন্টের সমান গুরুত্ব৷ আপনার একাউন্ট টি ফেইক হোক অথবা আসল তথ্য গোপন রাখা টাই মুখ্য ব্যাপার। আর সেই কারণেই একটি শক্তিশালী পাস ওয়ার্ড দিন৷

বিভিন্ন ছোট বড় অক্ষর, সংখ্যা, প্রিয় বাক্য, সাংকেতিক চিহ্ন এগুলো দিয়ে শক্তিশালী পাস ওয়ার্ড বানানো যায়।

যেমন : amar_acHe_waTer937@ullas (তাই বলে মনে করবেন না, এটা আমার কোন সিকিউরিটি পাস ওয়ার্ড, এটা আমি এমনি বানালাম আরকি!)

কেন হ্যাকিং হয় আর আপনার পাসওয়ার্ড আরও সিকিউরড করবেন জানতে আমাদের এই ব্লগটি পড়ে দেখুন

সঠিক পরিচয়ে একাউন্ট খুলুন

ফেসবুকে সব সময় নিজের সঠিক পরিচয় দিন। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সঠিক নাম, কর্ম স্থান এগুলো ঠিক ঠাক মতো দিতে হয়৷ পরবর্তীতে যদি একাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে ফেসবুকের কাছে ডকুমেন্ট স্বরূপ কিছু দেখাতে হয়৷ এবং সেখানে গিয়ে যদি ফেসবুকের তথ্যের সাথে ডকুমেন্টের তথ্যের কোন মিল না পাওয়া যায়, তাহলে তো মাঠে মারা গেলেন৷ আর সেই কারণে, “নীল আকাশ, “আকাশ ছোয়া প্রেম ” এই ধরনের নাম ব্যাবহার করা থেকে বিরত থাকুন৷ ফেসবুক তো আপনার আবেগ দেখবে না, আপনার বাস্তব পরিচয় দেখবে!

অকারণে কারো সাথে লাগতে যাবেন না

আপনি যদি বাস্তব জীবনে কাউকে গালিগালাজ করেন বা ধরে মারেন, এর ফলাফল যে তাত্ক্ষনিক পাবেন এই ব্যাপারে সন্ধেহ নেই। কিন্তু ফেসবুকে তেমন টা হয়। এখানে কাউকে ইচ্ছে করলে হেয় করা যায়৷ তবে অকারণে তেমন করাটা উচিৎ না৷ এটা এক দিকে অশোভন,অপর দিকে আপানার আইডির জন্যেও ক্ষতির কারণ হতে পারে। কেন বলছি?

মনে করুন যে ব্যাক্তিকে আপনি হেয় করলেন সে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে কোনো হ্যাকার কে ভাড়া করতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে সে নিজেই হ্যাকার। তখন কি হবে?

অপরিচিত সাইটে ফেসবুক আইডি দিয়ে লগইন করবেন না

না জেনে না শুনে কোনো এপ্লিকেশন বা সাইটে ফেসবুক আইডি দিয়ে সাইন ইন করবেন না। একটু কষ্ট হলেও ইমেইল দিয়ে সাইন ইন করবেন। অনেক সময় এই এপ্লিকেশন বা সাইট গুলো আপনার একাউন্টে প্রবেশ করে, এবং তথ্য চুরি করে সেগুলো বিক্রি করে দেয়।

ফিসিং সাইটের হাত থেকে দূরে থাকুন

ফিসিং সাইট সম্পর্কে আমাদের অনেকের তেমন ধারনা নেই৷ আসলে এগুলো এমন কিছু সাইট যেগুলো আপনার কাছ থেকে চালাকি করে ফেসবুকের লগ ইন ইনফরমেশন হাতিয়ে নেবে।

মনে করুন আপনি গুগলে সার্চ দিয়েছেন কি ভাবে ফ্রি ফেসবুক ফলোয়ার বা রিয়েক্ট নেব?  আপনাকে অনেক সাইট সাজেস্ট করবে৷ এখন আপনি তার ভেতর থেকে একটা সাইটে ঢুকলেন, তার পর ওরা আপনার ফেসবুকের লগইন ইনফরমেশন চাইবে। আপনি ট্রাস্টেড মনে করে সেগুলো দিয়ে দিবেন। ব্যাস!  আর কিছু করতে হবে না। আপনার একাউন্ট এর সব তথ্য ওদের কাছে চলে যাবে৷ বিনিময়ে আপনি ফ্রি লাইক, ফলোয়ার কিছুই পাবেন না৷

আমও গেল, বস্তাও গেল।

সবশেষে একটা ফ্রি টিপ

আপনার ফেসবুক একাউন্টের যদি খুব বড় একটা ডিমান্ড থাকে, তাহলে আপনি চাইলে একজন হ্যাকারকে ভাড়া করে তাকে বলবেন যে, আপনার একাউন্ট হ্যাক করতে। যদি সে পারে তাহলে আপনাকে বলে দেবে যে কোন কোন জায়গায় আপনার ভুল ছিল। এবং একাউন্টের সুরক্ষা বাড়াতে আরো কি কি করতে হবে।

ব্যস, ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখার কৌশল আপনি জেনে গেছেন, এবার আপনার একাউন্টের সুরক্ষা আপনার হাতে।


Leave a Reply