গুগল এডসেন্স

 

গতপর্বে ‘অনলাইনে আয়’ কতটুকু কঠিন সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে অনেককিছু বলেছি। আজ ‘অনলাইনে আয়’ সম্পর্কিত লেখার ২য় পর্বে গুগল এ্যাডসেন্স সহ আয়ের আরো কিছু রাস্তা সম্পর্কে জানানো হবে। গতপর্বটি না পড়ে থাকলে অবশ্যই সেটি পড়ুন

এ্যাডসেন্স নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত জানুন নিচের ভিডিও থেকে।

গুগল এ্যাডসেন্স

গুগল এ্যাডসেন্স যে কোনো ব্লগারের স্বপ্ন। ব্লগ থেকে আয় করা যায়, এটা জানার পর পরই ব্লগাররা পরিচিত হয় গুগল এ্যাডসেন্স এর সাথে।

গুগল এ্যাডসেন্সে এ্যাপ্রুভমেন্ট পেয়ে গেলেই তারপর উপার্জনের প্রক্রিয়া খুব সহজ৷ সহজ কথায়, গুগল আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞাপন দেবে। সেইসব বিজ্ঞাপনে যদি কেউ ক্লিক করে, তাহলেই আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ কিছু টাকা পেয়ে যাবেন।

গুগল এ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয় করতে গেলে আপনার আয় Affiliate Marketing এর মতো বিজ্ঞাপনের পণ্য বিক্রি হওয়ার উপর নির্ভর করবে না৷ বিজ্ঞাপনটিতে কোনো ভিজিটর শুধুমাত্র ক্লিক করলেই আপনার এ্যাকাউন্টে কিছু অর্থ দিয়ে দেয়া হবে।

ভিজিটর ধরে রাখার মতো কনটেন্ট থাকলে ব্লগ থেকে আয় এর জন্য গুগল এ্যাডসেন্সের কোনো বিকল্প নেই। গুগল এ্যাডসেন্সের একটা সুবিধা হলো– তাদের দেয়া বিজ্ঞাপন ব্লগে সেট করতে কোনো খাটনী করতে হয় না৷ কোডিং সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অক্ষরজ্ঞান না থাকলেও আপনি ব্লগে বিজ্ঞাপন বসাতে পারবেন।

এ্যাডসেন্সের সবচেয়ে ভালো দিকটা হচ্ছে– মানসিক শান্তি। Affiliate Marketing করতে গেলে আপনার মাথায় অনেক টেনশন থাকবে। ভিজিটর পণ্যটা কিনবে কিনা সেটা আপনাকে ভাবাবে। ভিজিটরদের পণ্য কিনতে আগ্রহী করে তুলতে আপনাকে অনেক এক্সট্রা কাজ করতে হবে। কিন্তু গুগল এ্যাডসেন্সে এমন কোনো চিন্তা থাকে না। এজন্য আপনি আপনার ব্লগ এবং কনটেন্টের দিকে পুরোপুরি ফোকাস দিতে পারবেন।

গুগল এ্যাডসেন্স থেকে প্রতি ক্লিকে ০.০১ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যায়৷ আপনার ব্লগের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গুগল নির্দিষ্ট ক্যাটেগরির বিজ্ঞাপন দেবে। একেক ক্যাটাগরির বিজ্ঞাপনের মূল্য একেকরকম। ব্যাংকিং, সুদ, লোন ইত্যাদী সম্পর্কিত বিজ্ঞাপনগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি। আপনি কিন্তু ইচ্ছে করলেই পছন্দের ক্যাটাগরির বিজ্ঞাপন আপনার ব্লগে বসাতে পারবেন না। আপনার ব্লগ যদি ব্যাংকিং, সুদ  লোন সম্পর্কিত হয়, তবেই শুধুমাত্র আপনি ওসবের বিজ্ঞাপন পাবেন। বিজ্ঞাপন পুরোপুরিভাবে নির্ভর করবে আপনার ব্লগের বিষয়ের ওপর। গুগল এ্যাডসেন্স সম্পর্কে (বিস্তারিত জানুন এখান থেকে

ব্লগে যেভাবে গুগল এ্যাডসেন্স হতে বিজ্ঞাপন পাবেন

আপনার ব্লগে সর্বোনিম্ন ১০-১৫ টি মান সম্মত আর্টিকেল আছে কিনা যাচাই করুন।

About Us, Disclaimer, Policy and Terms, Contact Us ইত্যাদী পেইজ তৈরী করুন এবং সেগুলোতে সঠিক তথ্য দিন। অনেকে অনলাইন থেকে ফ্রীতে বানিয়ে নেয় এসব পেইজ। এ কাজ করবেন না। আপনি নিজেই এসব পেইজে লিখুন। (এগুলো পেইজে কি লিখবেন, সে বিষয়ে পরবর্তীতে এই ওয়েবসাইটে আরো আর্টিকেল ছাপা হবে। সেগুলো পেতে নিয়মিত আমাদের ব্লগে  ভিজিট করুন।)

আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইট দ্রুত লোডিং নেয় কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। মনে রাখবেন, এ্যাডসেন্সের স্ক্রিপ্ট ব্লগে বসালে সাইট তুলনামূলকভাবে ধীর গতির হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আগে থেকেই যদি আপনার ব্লগ ধীর গতির হয়ে থাকে, তবে বিজ্ঞাপন বসানোর পর অনেক বেশি ধীরগতির হয়ে যাবে।

এবার গুগল এ্যাডসেন্সের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য আবেদন করুন।

আপনার আবেদন মনজুর হয়ে গেলে গুগল এ্যাডসেন্স এর তরফ থেকে তা জানিয়ে আপনাকে একটি মেইল করা হবে। আর যদি মনজুর নাহয়, তবে কেন হলো না, সে কথাও তারা জানিয়ে দেবে।

এরপর আপনাকে বিজ্ঞাপন কোড পাঠাবে, যা আপনাকে আপনার ব্লগে প্রকাশ করতে হবে। আপনি ইচ্ছেমতো জায়গায় এটি সেট করতে পারেন। তবে এমন জায়গায় সেট করবেন, যেন ভিজিটরদের নজরে পড়ে। তাছাড়া বিজ্ঞাপনে তাদের ক্লিক পড়বে না এবং আপনিও টাকা পাবেন না। কিন্তু বেশি হিজিবিজি করে বিজ্ঞাপন বসাবেন না।

আপনি বিজ্ঞাপন কোডটি সঠিক স্থানে সেট করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গুগল এ্যাডসেন্সের পক্ষ থেকে তা আপনার ব্লগে প্রকাশ করা হবে এবং বিজ্ঞাপনটি আপনার ব্লগে দেখা যাবে।

এবার আপনার কাজ শেষ। এবার ভিজিটররা ওই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই পয়সা জমা হবে আপনার অ্যাকাউন্টে।

Sponsored Post

এই শব্দের সাথে আপনাদের অবশ্যই পরিচয় আছে। বিভিন্ন টেলিফিল্ম, নাটক কিংবা মুভিতে দেখবেন লিখা থাকে ‘স্পনসর্ড বাই অমুক তমুক। এরমানে ওই মুভিটা বানাতে অমুক তমুক প্রতিষ্ঠান মুভি মেকারকে কিছু আর্থিক সহায়তা করেছে৷ বিনিময়ে মুভিটা ঐ প্রতিষ্ঠানকে প্রমোট করছে। যেমন ধরুন, বহুক প্রচলিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদী’ কে স্পনসর করে কেয়া। ইত্যাদীর কথা মনে পড়লেই কেয়ার কথা মনে আসতে বাধ্য। এছাড়াও ভূত এফএমকে স্পন্সর করতো গ্রামীণফোন, টেনমিনিটস্কুলকে স্পনসর করে রবি।

শুধু এগুলোতেই নয়, ভালো ব্লগকেও নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো স্পনসরিং করে থাকে। আপনিও নিজের ব্লগের জন্য স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠান পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে নির্দিষ্ট একটা চুক্তি করতে হবে। তারা তাদের প্রোডাক্টের গুনগান গেয়ে পোস্ট পাবলিশ করতে বলবে। বিনিময়ে আপনি পাবেন নগদ টাকা। ব্লগে এই ধরণের পোস্টকে স্পনসর পোস্ট বলে। অনেক নামীদামী ব্লগের আয়ের উৎস এটা। স্পনসর পোস্ট করে আপনি মোটা অংকের টাকা পেতে পারেন। আপনার কাজ হবে শুধুমাত্র প্রোমোটিং টাইপের পোস্ট করা। আপনার লেখায় প্রভাবিত হয়ে ওই পণ্যটি কেউ কিনলো কিনা- সেটা এখানে বড় বিষয় নয়। তবে আপনার ব্লগ থেকে ভালো সংখ্যক ক্রেতা পেলে স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবৎ আপনার পাশে থাকবে।

তবে স্পনসর পাওয়া সহজ কথা নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান এমনি এমনি কিন্তু আপনার ব্লগকে স্পন্সর করবে না। যখন তারা দেখবে আপনার পাশে দাড়ালে তারা নিজেরা লাভ করতে পারবে, তখনই এগিয়ে আসবে। স্পনসর পেতে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ব্লগ তৈরী এবং ভিজিটরদের কাছে বিশ্বস্ততার সম্পর্ক বজার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের সাথে মিল আছে, এমন ভালো মানের ব্লগকে স্পন্সর করে থাকে। গল্প কবিতার ব্লগকে কখনোই কোনো হোস্টিং কোম্পানী স্পনসর করবে না। তাই নিজ থেকে স্পনসরশিপ পাওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট করার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন তাদের পণ্যের সাথে আপনার ব্লগের টপিকের মিল আছে কিনা এবং তাদের আকর্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত ভিজিটর আছে কিনা।

গ্রামীনফোনের স্পনসরশীপ  আর Exo Hosting এর স্পনসরশীপ

মেম্বারশিপ বিক্রি

ভালো কনটেন্টের মাধ্যমে ভিজিটরদের বিশ্বস্ততা এবং আগ্রহ তৈরী করতে পারলে মেম্বারশিপ বিক্রি ব্লগ থেকে আয়ের সবচেয়ে সহজ একটা মাধ্যম হতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো ব্লগে সবার জন্য উন্মুক্ত কনটেন্টের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত কনটেন্ট লুকিয়ে রাখা হয়। এই লুকানো কনটেন্টগুলো ঐ ব্লগের মেম্বার হওয়ার পরই শুধুমাত্র দেখার সুযোগ থাকে।

সবার জন্য উন্মুক্ত কনটেন্টগুলো দেখে ভালো লাগলে ভিজিটররা বাকি অতিরিক্তটুকুও দেখার চেষ্টা করে৷ এজন্য ঐ ব্লগের মেম্বার হতে চায়।

কিছু কিছু ব্লগ এই মেম্বারশিপ যাকে তাকে দেয় না। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে তারা এই মেম্বারশিপ বিক্রি করে। এর মাধ্যমে খুব ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব। অনেক বড় বড় ব্লগাররা এভাবেই ব্লগ থেকে আয় করে আসছে। এই পদ্ধতিতে স্বাধিনতার পাশাপাশি রয়েছে ভালো পরিমাণে আয়ের সুযোগ।

সার্ভিস

কনটেন্টের পাশাপাশি সার্ভিস প্রদান করেও ব্লগ থেকে আয় করা যায়। যাদের ব্লগ প্রযুক্তি সম্পর্কিত, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকর। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের উপর কনটেন্টের পাশাপাশি একজন ব্লগার তার ভিজিটরদের যে কোনো সমস্যা টাকার বিনিময়ে সমাধান করে দেয়ার অফার করে।

সহজ কথায়, মনে করুন আপনি আপনার ব্লগে ওয়েবসাইট তৈরী কিভাবে করতে হয়, তা নিয়ে বিশাল একটা টিউটোরিয়াল লিখলেন। টিউটোরিয়ালের নিচে জানিয়ে দিলেন, যদি কেউ আপনার কাছ থেকে ওয়েবসাইট তৈরী করিয়ে নেয়, তবে অনেক কম দামে তা বানিয়ে দেবেন।

এক্ষেত্রে আপনি কিন্তু কৌশলে নিজের সার্ভিস মার্কেটিং করছেন। সরাসরি ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয়ার অফার দিলে হয়তো মানুষ তেমন পাত্তা দিতো না। কিন্তু প্রথমে ওয়েবসাইট বানানো সম্পর্কে আপনার ব্লগে লিখালিখি করে আপনি ভিজিটরদের বিশ্বস্ততা অর্জন করে ফেলেছেন। এরপর লেখার নিচে বা ওয়েবসাইটের অন্য কোথাও নিজে বানিয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করলে ভিজিটরদের কাছ থেকে রিকোয়েস্ট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এভাবেও আপনি ব্লগ থেকে আয় করতে পারেন।

Product Review

ব্যক্তিগতভাবে এই কাজটা আমার খুব পছন্দের।

প্রোডাক্ট রিভিউ হলো ব্লগ থেকে আয় এর এমন একটি উপায়, যার মাধ্যমে খুব সহজে টাকা পাওয়া যায়। এরজন্য তেমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়না।

প্রোডাক্ট রিভিউ এর ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানি তাদের নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের স্যাম্পল পাঠাবে আপনার কাছে এবং সেই প্রোডাক্টের একটা ইতিবাচক রিভিউ ব্লগে শেয়ার করতে বলবে।

ইউটিউবে সাধারণত এরকম রিভিউ দেখে আমরা অভ্যস্ত। এই পদ্ধতিটা ব্লগ থেকে আয় এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে সোজা মাধ্যম। তবে কোনো কোম্পানিই কিন্তু এমনি এমনি আপনাকে রিভিউ এর জন্য প্রোডাক্ট দেবে না। অবশ্যই এর জন্য আপনাকে খাটতে হবে। ব্লগে ভিজিটর বাড়াতে হবে।

পরিশেষে

ব্লগ থেকে আয় খুব সহজ নয়, আবার খুব কঠিনও নয়। এটা নির্ভর করবে আপনার প্রচেষ্টার উপর। আপনি যতটুকু সময় ও মেধা ইনভেস্ট করবেন, ব্লগ আপনাকে ততটুকুই প্রতিদান ফেরত দেবে। তাই সিরিয়াসলি ব্লগিং শুরু করুন। আর অর্থ উপার্জনকে যদি টার্গেট করেন, তবে অবশ্যই অবশ্যই ভিজিটরদের সুবিধা অসুবিধার কথা মাথায় রেখে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ ভিজিটরই আপনার ব্লগের প্রাণ। ভিজিটর ছাড়া ব্লগ থেকে আয় কোনোভাবেই সম্ভব না।

Previous articleহযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর চোখে দুনিয়া পর্ব-০১
Next articleকথা বলুন মাত্র ৩০ পয়সা প্রতি মিনিট সাথে ১০টাকা বোনাস !!
একজন আবিষ্কারক– যে নিজেকে প্রতিদিন হাজারবার নতুন করে আবিষ্কার করে....