ইমেইল একাউন্ট তৈরী করে কিভাবে? ইমেইল এর কাজ কি?

ইমেইল একাউন্ট তৈরী করে কিভাবে? ইমেইল এর কাজ কি?

ডিজিটাল এই দুনিয়ায় আপনার যদি একটি ইমেইল একাউন্ট না থাকে তাহলে কিভাবে চলবে? সত্যি যদি আপনার একটি ইমেইল একাউন্ট না থেকে থাকে তাহলে আসলেই আপনি আধুনিক দিন-দুনিয়া থেকে হাজার মাইল পিছিয়ে আছেন। চুপ-চাপ আজই একটি ইমেইল একাউন্ট খুলে নিন, কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই। তা নাহলে যদি কেউ জেনে যায় আপনার ইমেইল একাউন্ট নেই, আপনি হয়ে যাবেন হাসির পাত্র। আমাদের রেডিটুরিডিং.কম এর আজকের ব্লগে আমি আপনাদের জানাব কিভাবে ইমেইল একাউন্ট তৈরী করতে হয়, ইমেইল একাউন্টের কাজ কি ইত্যাদি সহ আরও অনেক কিছুই। প্রিয় পাঠক, অন্য কোথাও না গিয়ে পড়তে থাকুন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। ইমেইল নিয়ে আপনার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পাবেন এখানেই।

আর হ্যা মনে রাখবেন, ইমেইল এড্রেস বা একাউন্ট হোলার সার্ভিস সারা দুনিয়াতেই ফ্রি। বিভিন্ন সার্ভিস প্রোভাইডারেরা ফ্রিতে এই সার্ভিস দিয়ে থাকে।

ইমেইল একাউন্ট কি?

Electronic mail এর সংক্ষিপ্ত রুপই হচ্ছে ইমেইল। এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ইলেক্ট্রনিক উপায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর নামই হল ইমেইল। এখানে ডিভাইস বলতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাব অথবা মোবাইল ফোনকে বুঝানো হয় সাধারণত।

একটি উদাহরণ দিলে আওনার জন্য আরও সহজ হবে বুঝতে। আপনি যখন কাওকে চিঠি পাঠান তখন যেমন চিঠি লিখে ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন ঠিক তেমনি ইমেইল ও পাঠাতে পারবেন ইমেইল একাউন্ট থেকে।

খামের উপর যেমন প্রেরক ও প্রাপকের নাম উল্লেখ করেন এবং ডাক বিভাগ কিংবা কুরিয়ার কোম্পানি আপনার দেয়া ঠিকানা অনুযায়ি চিঠি ডেলিভারি করে থাকে, এখানেও ঠিক তেমনি আপনার ইমেইল একাউন্ট থেকে ইমেইল সেন্ট করলে প্রাপকের ইমেইল একাউন্টে চলে যায়। এটি যেহেতু ইলেক্ট্রনিক উপায়ে যায় তাই আপনি ইমেইল পাঠানোর সাথে সাথে প্রাপকের ইমেইলে চলে যায়। যেখানে ডাক বিভাগের কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের ২/১ দিন সময় লেগে যায়।

ইমেইল এড্রেস কি?

আপনি যখন একটি ইমেইল একাউন্ট খুলবেন তখন আপনাকে একটি ইমেইল এড্রেস দেয়া হবে যা ইউনিক। অর্থাৎ, আপনার ইমেইল এড্রেসের সাথে অন্য কারও ইমেইল এড্রেসের মিল থাকবেনা। ঠিক যেমন মোবাইল নম্বর ইউনিক। দুইজনের মোবাইল নম্বর যেমন কখনও এক হতে পারেনা তেমনি দুইজনের ইমেইল এড্রেসও কখনই এক হতে পারবেনা।

ইমেইল এড্রেসগুলো সাধারণত xyz@abc.com এই ফরম্যাটের হয়ে থাকে। এখানে xyz হল আপনার ইমেইল আইডি বা ইউজার নেম আর abc.com হল আপনি সেই সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে ইমেইল এড্রেস খুলেছেন তার ডোমেইন। যেমন আপনি যদি google এর gmail এ ইমেইল একাউন্ট খুলে থাকেন তাহলে আপনার ইমেইল এড্রেস হতে পারে, mamun@gmail.com।

@ এই চিহ্নটিকে at the rate of বা সংক্ষেপে শুধু at বলা হয়। mamun@gmail.com এটিকে পড়তে হবে মামুন এট দ্য রেট অব জিমেইল ডট কম বা মামুন এট জিমেইল ডট কম।

আবার আপনি যদি আমাদের ready2reading.com এ একাউন্ট খুলে থাকেন তাহলে হবে mamun@ready2reading.com। আশা করি ব্যাপারটি পরিস্কার আপনার কাছে। এখানে mamun@gmail.com কিংবা mamun@ready2reading.com ই হল আপনার ইমেইল এড্রেস।

কোথায় ইমেইল একাউন্ট খুলবেন?

কোথায় ইমেইল এড্রেস খুলবেন। সারা বিশ্বে অসংখ্য ইমেইল এর বিভিন্ন সার্ভিস প্রোভাইডার রয়েছে। যেমন ইয়াহু, জিমেইল, লাইভ.কম, হটমেইল, মাইক্রোসফট আউটলুক ইত্যাদি।আপনি আপনার পছন্দমত যেকোন জায়গা থেকেই ইমেইল এড্রেস খুলে নিতে পারেন।

তবে, এখনকার সময়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ইমেইল একাউন্ট খুলে জিমেইলে। জিমেইল আসলে গুগলের একটি অংশ। আপনি যদি এন্ড্রোয়েড ফোন ব্যবহারকারি হয়ে থাকেন তাহলে একটি জিমেইল একাউন্ট ছাড়া আপনার পক্ষে আপনার এন্ড্রোয়েড ফোনটি চালু করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে জিমেইল এ ইমেইল একাউন্ট খোলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আর তাই আমিও আপনাকে জিমেইল এ ইমেইল একাউন্ট তৈরী করাটাই আজকে দেখাব।

ইমেইল একাউন্ট তৈরী করে কিভাবে?

কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা ফোন যে কোন ডিভাইস ব্যবহার করেই আপনি ইমেইল একাউন্ট তৈরী করতে পারেন। পদ্ধতি একই। কম্পিউটারে ইমেইল একাউন্ট তৈরী করার জন্য প্রথমে ইন্টারনেট কানেকশন আছে এমন একটি কম্পিউটারে আসুন। তারপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

  • ১। যেকোন একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার খুলুন। গুগল ক্রোম, অপেরা, মজিলা কিংবা মাইক্রোসফট এজ যেকোনটি হলেই হবে।
  • ২। এবার ইন্টারনেট ব্রাউজারে gmail.com লিখে এন্টার চাপুন। নিচের মত একটি উইন্ডো পেয়ে যাবেন।

ইমেইল একাউন্ট তৈরী

  • ৩। Create Account এ ক্লিক করে নিন। ক্লিক করার পর For Myself বাটনে চাপুন তাহলে নিচের উইন্ডো পেয়ে যাবেন। আপনি চাইলে আপনার শিশু কিংবা অন্যকারো অথবা ব্যবসার জন্য একাউন্ট খুলতে পারেন।জিমেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম
  • ৪। এবার আপনার ফাস্ট নেইম, লাস্ট নেইম, ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে দিন। ইউজার নেম দেবার সময় মনে রাখবেন এই নামে অলরেডি কেও আপনার আগে ইমেইল এড্রেস খুলে রেখেছে আপনি চাইলেও সেই নামে আর খুলতে পারবেন না। আগেই বলেছি এটি ইউনিক। তবে, আপনি চাইলে ইউজার নেমের পরে কোন ডিজিট বসিয়ে নিতে পারেন। যেমন: mamun নামে আগেই কেও খুলে থাকলে আপনি mamun1980 দিয়ে চেষ্টা করে দেখুন। এভাবে চেষ্টা করে আপনার সুবিধামত ইউজার আইডি নিয়ে নিন।
  • ৫। পাসওয়ার্ড র সময়ও সাবধান। কমন কোন পাসওয়ার্ড দেবেন না, কিভাবে শক্ত এবং সিকিউরড পাসওয়ার্ড দিতে হয় এই ব্লগে পড়ে নিন। আপনার পাসওয়ার্ড letters, numbers, and symbols এর মিক্সড হতে হবে। তা নাহলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না।
  • ৬। পরের ধাপে গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর দিন। পরের ধাপে চলে যান।
  • ৭। আপনার মোবাইলে এসএমসের মাধ্যমে অথবা ফোন কলের মাধ্যমে যে ৬ সংখ্যার পিন দেয়া হবে সেটি লিখে ভেরিফাই বাটনে চাপুন। নিচের ছবি দেখুন।

মোবাইল ভেরিফাই

  • ৮। এবারে যে উইন্ডো পাবেন সেখানে একটি রিকভারি ইমেইল এড্রেস দিন এবং আপনার জন্ম তারিখ ও আপনার জেন্ডার সিলেক্ট করে নেক্সট বাটনে চাপুন। নিচার ছবির মত।

জিমেইল একাউন্ট তৈরী

  • ৯।  পরবর্তী ধাপ স্কিপ করে নিতে পারেন। এরপর গুগলের টার্মস এন্ড কন্ডিশন এগ্রি করে নিন। I Agree বাটনে চাপুন।
  • ১০। আপনার ইমেইল একাউন্ট তৈরী হয়ে গিয়েছে। আপনি আপনার ইমেইলের ইনবক্সে প্রবেশ করেছেন। নিচের ছবির মত।

ইমেইল ইনবক্স

নাম, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দেবার সময় সাবধানে দিন এবং মনে রাখুন। জন্ম তারিখ যেন আপনার ন্যাশনাল আইডির সাথে মিলে, কোন কারনে একাউন্ট ব্লক করে দিলে এনআইডি ব্যবহার করে ব্লক খুলে নিতে পারবেন।

আশা করি আপনি আপনার ইমেইল একাউন্ট তৈরী করে নিয়েছেন উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে। এখন আপনি যদি একজন নতুন ব্যবহারকারি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য নিচের জিনিসগুলো (মেনু ও অন্যান্য বিষয়াদি) জানা খুব জরুরী। তা নাহলে আপনি ইমেইল ব্যবহার করতে পারবেন না।

ইমেইলের বিভিন্ন মেনুর পরিচয়

আগেই বলেছি, ইমেইলকে সঠিক কায়দায় ব্যবহার করতে চাইলে আপনার জানতে হবে এর মেনুগুলো সম্পর্কে এর কার্যকারিতা নিয়ে জানতে হবে। আসুন সংক্ষেপে জেনে নেয়ার চেষ্টা করি।

কিভাবে ইমেইল এ লগইন করবেন?

প্রথমে তো আপনাকে ইমেইলে লগইন করতে হবে। এটাকে অনেক সময় সাইন ইন (Sign In) বলা হয়। সাইন ইন আর লগইন একই কথা। gmail.com ব্রাউজারের এড্রেস বারে লিখলে প্রথম ছবির মত উইন্ডো পাবেন। সেখানে আপনি আপনার ইমেইল এড্রেসটি লিখুন তারপর নেক্সট বাটনে চাপ দিয়ে আপনার দেয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে সাবমিট করে দিন।

ব্যস, হয়ে গেল লগইন।

কিভাবে মেইল চেক করবেন?

লগইন করার পর আপনি ইনবক্সে দেখুন। আপনার সব ইমেইল ইনবক্সে থাকবে। নতুন কোন মেইল এলে এখানেই জমা হয়ে থাকে।

অনেক সময় জিমেইল কিছু ইমেইলকে জাংক ইমেইল বা স্প্যাম হিসেবে আইডেন্টিফাই করে থাকে। সেই ইমেইলগুলোকে ইনবক্সে না রেখে স্প্যাম এ জমা করে থাকে। অনেক সময় আপনার গুরুত্বপূর্ণ ইমেইলও স্প্যামে ঢুকে থাকতে পারে, তাই স্প্যাম ফোল্ডার মাঝে মাঝে চেক করুণ।

কিভাবে ইমেইল পাঠাবেন?

বাম দিকের কোনায় যেখানে Compose লিখা আছে সেখানে চাপুন। ইমেইল লিখার জন্য একটি ইউন্ডো পাবেন। নিচের ছবি দেখুন।

কিভাবে ইমেইল পাঠাবেন

To ঘরে আপনি যাকে ইমেইল পাঠাবেন, তার ইমেইল এড্রেস লিখুন। Subject এর ঘরে ইমেইল সংক্রান্ত একটি লাইন লেখুন। এবং মেইলের বডিতে আপনার যা কিছু বলার আছে লিখে দিন। কোন কিছু (ডকুমেন্ট বা ফাইল) এটাচ করতে চাইলে করে দিন। এটাচ করতে নিচের দিনে ক্লিপের মত দেখতে ছবিতে ক্লিক করে এটাচ করুন।

সব কিছু হয়ে গেলে, Send বাটনে (নিচের বাম কোনায়) ক্লিক করে ইমেইলটি পাঠিয়ে দিন।

আপনি ইমেইল পাঠিয়ে দিলে তার একটি কপি আপনার Sent Item ফোল্ডারে সংরক্ষিত থাকে। আপনি যদি ডিলেট করে না দেন তাহলে Sent Item ফোল্ডারে আপনার সকল ইমেইল থেকে যাবে।

ভুল করে কোন ইমেইল ডিলেট করে দিলে কি হবে?

আপনার ইনবক্সের কোন ইমেইল যদি আপনি ভুল করে ডিলেট করে দিয়ে থাকেন তাহলে আসলে ঘাব্রাবার কিছু নেই। ডিলেট করা সকল ইমেইল রিসাইকেল বিনে সংরক্ষিত থাকে। সেখান থেকে আবার নিয়ে আসতে পারবেন।

তবে রিসাইকেল বিন থেকে মুছে ফেললে আর কিছুই করার এই। আপনার ইমেইল পারমানেন্টলি ডিলেট হয়ে গেছে। যে পাঠিয়েছে তাকে বলুন আবার পাঠাতে।

পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও অন্যান্য

আপনার ইমেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও অন্যান্য সেটিংস পরিবর্তন করতে চাইলে আপনি সেটিংসে গিয়ে তা করতে পারবেন। শুধু পাসওয়ার্ডই নয় এছাড়া আপনার ইনবক্সের সেটিংস, থিম, ইমেইল সিগনেচার ইত্যাদির জন্য সেটিং এ চলে যান।

ইমেইল একাউন্ট কি কাজে লাগে?

ভাই, ইন্টারনেটের জগতে আপনি ইমেইল এড্রেস ছাড়া আপনি অচল। যেকোন কাজেই আপনার প্রথম যেটা দরকার হয় তা হল আপনার ইমেইল এড্রেস। অনলাইনে এটাই আপনার প্রথম পরিচয়। এই মুহূর্তে আমার ইমেইলের যেসব ব্যবহার মনে পরছে তার একটি তালিকা আপনাদের দিচ্ছি।

  • কোথায় একাউন্ট খুলতে বা সাইন আপ করতে আপনার ইমেইল এড্রেস লাগবে।
  • কাওকে ইমেইল করতে বা কারও কাছে থেকে ইমেইল পাতে হলে আপনার ইমেইল এড্রেস লাগবে।
  • জরুরী কোন ডকুমেন্ট পাঠাতে ইমেইল এড্রেস দরকার।
  • অন্য কোন সাইটের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে তা রিকভারি করার মাধ্যম আপনার ইমেইল এড্রেস।
  • এন্ড্রোয়েড মোবাইল সাইন আপ করার জন্য জিমেইলের ইমেইল এড্রেস মাস্ট।
  • জরুরী কোন ডকুমেন্ট সংরক্ষনের জন্য অনেকেই ইমেইল এর Sent Item এ সংরক্ষণ করে থাকেন।
  • ইমেইলের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং করতে পারেন বিনা খরচে।

জিমেইল ইমেইলের সাথে কি কি সার্ভিস পাচ্ছেন

আগেই বলেছি জিমেইল হল গুগলের একটি প্রোডাক্ট। একটি জিমেইল একাউন্ট খোলার সাথে সাথে আপনি  ফ্রি ফ্রি আপনি অনেকগুলো সার্ভিস পাচ্ছেন, যার কয়েকটি আমি এখানে উল্লেখ করে দিচ্ছি। দেখে নিন কোন সার্ভিস আপনার কজে লেগে যায় কিনা।

গুগল ড্রাইভ

এটির কথা না বললেই নয়। গুগল ড্রাইভ হল গুগলের ক্লাউড বেজড একটি সার্ভিস। জিমেইলে একাউন্ট খোলা মাত্রই গুগল আপনার ইমেইল একাউন্তের বিপরীতে আপনাকে ১৫ জিবি স্টোরেজ সুবিধা আপনার জন্য বরাদ্দ করে দেয়। এখানে আপনি আপনার ইচ্ছে মত ফাইল, ছবি, ডকুমেন্ট বা মুভি রাখতে পারবেন।

কোন কিছুই হারিয়ে যাবার কোন ভয় নেই। গুগল ড্রাইভ আপনি আপনি কম্পিউটার/ল্যাপ্টপ অথবা মোবাইল ফোনে ইন্সটল করে নিতে পারেন। ১৫ জিবির চেয়ে বেশি ডাটা রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই টাকা পেমেন্ট করতে হবে।

এতা সিকিউরড এবং আপনার হার্ড ড্রাইভের সাথে সিংক্রোনাইজ করা থাকে। এক জায়গায় কোন পরিবর্তন করলে অটোমেটিক সব জায়গায় তার প্রতিফলন ঘটে। ফ্রিতে আনলিমিটেড গুগল স্টোরেজের জন্য এখানে দেখুন।

গুগল ফটোস

এটিও চমৎকার একটি সার্ভিস। আপনি আপনার ফোনে কোন ছবি বা ভিডিও করলে তা অটোমেটিক আপনার গুগল ফটোজে আপলোড হয়ে যায়। তাই ছবি হারনোর কোন ভয় নেই।

গুগল ভয়েস

গুগল ভয়েস আসলে আপনার ইমেইল একাউন্টের বিপরীতে একটি ফোন নাম্বার যা ইউএস বেজড। সব দেশের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশে আপনি এই সার্ভিস পাবেন না।

গুগল ভয়েস থাকলে আপনি একটি মোবাইল নম্বর পেয়ে যাবেন যা দিয়ে আপনি বিভিন্ন দেশে ফোন কল করতে পারবেন। ইউএস আর কানাডাতে ফ্রি ফোন করতে পারবেন।

গুগল প্লে স্টোর

আপনার এন্ড্রোয়েড ফোন হলে আপনি আপনার প্লে স্টোর একাউন্ট থেকে ফ্রিতে এন্ড্রোয়েড এপ্স ডাউনলোড করে নিয়ে তা আপনার মোবাইলে ব্যবহার করতে পারবেন। পেইড এপ্সের ক্ষেত্রে আপনাকে পেমেন্ট করতে হতে পারে।

তবে, আপনার যা যা বেসিক প্রয়োজন তা আপনিও ফ্রিতেই পেয়ে যাবেন।

গুগল ম্যাপ এবং গুগল আর্থ

গুগল আর্থ এবং গুগল ম্যাপ গুগলের অন্যতম একটি সার্ভিস যা না হলে আমাদের চলেই না। নতুন কোন জায়গায় যাওয়া কিংবা কোন অজানা ঠিকানা খোজার জন্য গুগল ম্যাপ অসাধারণ কার্যকর।

গুগল আর্থ শুধু ভিন্ন ভিন্ন দেশ নয় সারা পৃথিবী এবং চাঁদ কিংবা মঙ্গলের ম্যাপও তার ব্যবহারকারীদের জন্য উম্মুক্ত করে দিয়েছে।

গুগল ব্লগার

এটি একটি মজার সার্ভিস। আপনার যদি ব্লগিং এর শখ থাকে। বিনা খরচের আপনার সেই শখ মেটাবে গুগল ব্লগার। এটি ব্লগস্পট নামেই পরিচিত। কোন ডোমেইন না কিনেই আপ্নি প্রফেশনাল মানের ব্লগিং সাইট করতে পারবেন এখানে। এফিলিয়েশন বা ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারবেন অনলাইনে।

গুগল মাই এক্টিভিটি

আপনার গুগল মাই এক্টিভিটি এনেবল করা থাকলে এবং আপনার মোবাইলের লোকেশন অন থাকলে আপনি কবে কোথায় গিয়েছেন তা সুন্দরভাবে তারিখ অনুযায়ি সংরক্ষণ করে গুগল। আপনার যদি কোন তারিখে কোথায় না গিয়েছেন তা মনে না থাকে তাহলে অবশ্যই এই সার্ভিস নিতে পারেন একদন ফ্রিতে।

গুগল আজ তথ্যের দৈত্য। আপনার নিজের চেয়েও গুগল আপনাকে বেশি জানে। গুগল আপনার সম্পর্কে কি কি জানে তা জানতে এই ব্লগ পড়ে দেখুন।

আর কি আছে

এছাড়াও রয়েছে গুগল সিট, গুগল ক্লাসরুম, ভিডিও কলের জন্য ডুয়ো, গুগল নিউজ, গুগল কন্টাক্ট, গুগল ফিন্যান্স, গুগল ফর্ম, গুগল ওয়ান, গুগল বিজনেস ইত্যাদি নানা সার্ভিস আপনি পাবেন ফ্রিতে। গুগল প্রোডাক্টের একাংশ নিচে দেয়া হল।

গুগল প্রোডাক্ট

আশা করি আজকের ব্লগটি পড়ে আপনি জানতে পেরেছেন কিভাবে একটি ইমেইল একাউন্ট তৈরী করবেন। একই সাথে জানতে পেরেছেন জিমেইল এর ফ্রি সারভিসগুলো নিয়েও। আপনার ডিজিটাল লাইফ আনন্দের হোক। ভাল থাকবেন সবাই। ধন্যবাদ।


Leave a Reply