অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

প্রায় ৬০০ বছরের অটোম্যান সাম্রাজ্য হঠাৎ করে বা একদিনে পতন হয়নি৷ দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ও নিজেদের উদাসীনতাই ধীরে ধীরে এ সাম্রাজ্যের পতন গঠিয়েছে। আধুনিকতার নামে অশ্লীলতাকে প্রাধান্য দেয়া আবার ধর্মীয় ফতোয়া দিয়ে আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করাকেই মূলত দায়ী করা হয়এই সাম্রাজ্যের পতনের জন্য৷ গত পর্বে আমরা জেনেছি অটোম্যান দের উত্থানের ইতিহাস৷ আজ আমরা অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ আলোচনা করবো৷ আশা করি আমি আপনাদের ইতিহাস জানার পিপাসা কিছুটা হলেও মেটাতে পারব।

আরও পড়ুনঃ অটোম্যান সাম্রাজ্য- উত্থান ইতিহাস

অটোম্যান সাম্রাজ্য
অটোম্যানদের পোষাকের নমুনা

অটোম্যানদের পতনের সূচনা

রেনেঁসার বরপুত্র হিসেবে, একজন মহান তুর্কি সুলতান সুলেমান এমন মহতী ও জৌলুসভাবে জীবন-যাপন করতেন, যা সে সময়কার খ্রিস্টান পশ্চিমা সভ্যতাকেও হার মানিয়েছিল। সুলতান সুলেমানের নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেমন ছিলো অভূতপূর্ব, তেমনি অন্যদের বিচার করার ক্ষেত্রেও তাঁর নীতিবোধ ছিল ত্রূটিহীন। নিজের রাজকীয় কর্মপদে পছন্দসই প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়েছিলেন তিনি।

তাঁর প্রধান উজিরদের মাঝে অন্তত দুজন খ্রিস্টান বংশোদ্ভুত, যারা তাঁর রাজত্বকালের দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে কাজ করেছে,নিজেদের গুণাবলি দ্বারা অটোম্যান সাম্রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ইব্রাহিম পাশা একজন গ্রিক, কূটনীতিবিদ ও সামরিক নেতা হিসেবে ছিলেন অসাধারণ; অন্যদিকে রুস্তম পাশা একজন বুলগেরিয়ান, নিজের অর্থনৈতিক জ্ঞানের দক্ষতা দিয়ে অটোম্যান  খাজানাকে বৃদ্ধি করেছেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সুলতান সুলেমান নিজেই এমন দুটি ঘটনার পক্ষপাত করেছেন,যা সাম্রাজ্যের ভাগে দুর্ভাগ্যের কালি লেপন করেছে। সুলতানের মানবিক দিক হেরে গেছে সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী নির্বাচন করতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে। সুলতান নিজের বড় পুত্র  মুস্তাফা ও ছোট পুত্র বায়োজীদের মৃত্যু পরোয়ানায় সম্মতি দিয়েছিলেন। অথচ এই দুই পুত্রের সমস্ত গুণ ছিল পিতার মতোই সাম্রাজ্যের পরিচালনা ও বিস্তৃতি ঘটানোর। নিজের অন্ধদৃষ্টি ও ক্ষমার অযোগ্য কর্মের মাধ্যমে সুলতান সুলেমান অটোম্যান  রাজবংশজুড়ে চলতে থাকা ভ্রাতৃহত্যা রীতিকে আরো ভয়ংকর পথে নিয়ে গেছেন। নিজের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে গেছেন পুত্র সেলিমকে। যার মাধ্যমে রোপিত হয় অটোম্যান  সাম্রাজ্যের ধ্বংসের বীজ।

অটোম্যান সাম্রাজ্য
অটোম্যানদের নৌভ্রমনের চিত্র

কতিপয় দুর্বল সুলতান

  • সুলতান প্রথম মুস্তফা
  • সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ
  • সুলতান দ্বিতীয় সুলায়মান খান
  • সুলতান দ্বিতীয় আহমাদ
  • সুলতান দ্বিতীয় মুস্তফা
  • সুলতান চতুর্থ মুহাম্মদ
  • সুলতান তৃতীয় আহমাদ
  • সুলতান তৃতীয় উসমান
  • সুলতান তৃতীয় মুস্তফা
  • সুলতান প্রথম আবদুল হামিদ

পুনসংস্কার এর চেষ্টা

১৭৮৯ সালে ঠিক ফরাসি বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসে তৃতীয় সেলিম। তুর্কি রাশান যুদ্ধ শেষে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে পুনসংস্কারে মন দেয় সুলতান। সবকিছুকে আধুনিক ভাবে সাজাতে চেষ্টা করেন। সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেন সেনাবাহিনীর দিকে। তাছারা সামাজিক, অর্থনৈতিক সব দিকেই নজর দেয় সুলতান। ফরাসি বইয়ের বিশাল সংগ্রহ করে সেগুলো অনুবাদের প্রতি জোর দেন। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীলদের এই সংস্কার ভালো লাগেনি তারা মিথ্যা ও ভুল ফতোয়া জারি করে সুলতানের বিপক্ষে ষড়যন্ত্রে নামে। যার ফলাফল রুপে প্রাণ হারাতে হয় সুলতানকে। ভঙ্গুর সাম্রাজ্য যখন মাথা তুলে দাড়াতে যাবে ঠিক তখমই সুলতানের হত্যা পুনঃসংস্কার এর পথে বাধাই হয়নি শুধু সাম্রাজ্যের পতনে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

খেলাফতের বিলুপ্তি

সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের পর তাঁর ভাই দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ বাস্তবে তার হাতে কোনো ক্ষমতা ছিলো না। সালতানাতের সর্বময় ক্ষমতা ছিলো ইত্তিহাদিদের হাতে। এরা ছিলো খেলাফতের বিরুদ্ধে। স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সেকুলার দেশ গঠন ছিলো এদের মূখ্য উদ্দেশ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ফ্রান্স ও ব্রিটেন সাম্রাজ্যেটি ভাগ বাটোয়ারা শুরু করলে কামাল আতাতুর্কের সাহসি বিরোধিতায় তুর্কী রাষ্ট্রটি রক্ষা পায়৷ এর কারণে তাকে তাদের জাতির পিতা হিসেবে মান্য করা হয়ে থাকে৷ তবে তার ক্ষমতা পরবর্তী ইসলাম বিদ্বেষি কার্যক্রমের কারণে অনেক মুসলিমের কাছে সে খলনায়ক হিসেবে পরিচিত। ১৯২৩ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষমতা নিয়ে খেলাফত বিলুপ্তির ঘোষণা দেন এবং দেশকে দখলদারিত্বের হাত থেকে রক্ষা করে।

অটোম্যান সাম্রাজ্য পতনের কারণ

অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রচুর আলোচনা করতে হয়। ধর্মের পথ থেকে সরে গিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া সহ ষড়যন্ত্রের শিকার হয় অটোম্যান  এম্পায়ার। দেখে নেয়া যাক অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ গুলোর মাঝে প্রধান প্রধান কারণগুলো।

ইবাদাতের বোধজ্ঞান সীমিত হয়ে পড়া

শ্রেষ্ঠত্ব  ও ক্ষমতার যে শর্তাবলী উসমানিদের প্রথম যুগের সুলতানগণ গ্রহণ করেছিলেন, এর মধ্যে অন্যতম ছিলো ইবাদতের বোধজ্ঞানের ব্যাপকতা। তারা কুরআন সুন্নাহ, সাহাবিদের জীবনাচার থেকে এগুলো অর্জন করেছিলো৷ কিন্তু পরবর্তী সুলতানরা ইবাদত থেকে দূরে চলে আসে। তারা কুরআন সুন্নাহ বাদ দিয়ে দুনিয়াবি বিশ্বাসে নত হয়ে যায়।  দীনকে শুধু কতিপয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছিলো। জিহাদ, লেনদেন, অর্থনৈতিক সম্পর্কে দুনিয়াবি বিষয় হিসেবে গণ্য হত। ইসলামের প্রতিটি বিষয় পালন করা যে ইবাদত সেই কথা তারা ভুলে গিয়েছিলোম

শিরক বিদআত এর প্রসার- অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

উসমানি সালতানাত তাদের শাসনামলে শেষ  দুই শতাব্দীতে শিরক -বিদআতসহ বিভিন্ন প্রকার ভ্রষ্টাচারে ডুবে গিয়েছিল। আল্লহর তাওহিদ থেকে অনেক অনেক দুরে সরে পড়েছিল।আল্লাহর একত্ববাদের আকিদায় যেন অন্ধকার এবং মূর্খতার  ধুলো ছড়িয়ে পড়েছিল।ফলে দীনের বাস্তবতা তাদের চোখের সামনে থেকে উধাও হতে থাকে।দেশব্যাপী তাওহীদের আলো ম্লান হয়ে পড়েছিল।ইসলামি বিশ্ব যেন সিরাতে মুস্তাকিম থেকে দুরে সরে পড়েছিল।

বিভ্রান্ত সুফিগণ-অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

ওসমানি শেষ যুগে সবচেয়ে বড় যে বিভ্রান্তিটা দেখা দিয়েছিল সেটা ছিল  সুফিদের বিভ্রান্তি, যা তাদের সমাজে এক বিশৃঙ্খলা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। এমন এক সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল, যার আকিদা-বিশ্বাস ছিল কুরআন -সুন্নাহ থেকে দূরে আলাদা চিন্তা-চেতনার ধারক। তাদের শক্তি ক্রমশ বেড়ে চলছিল। উসমানি সালতানাতের শেষদিকে তাদের শক্তি অনেকটা বেড়ে যায়।

দীনদার নেতৃত্ব হারিয়ে যাওয়া-অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

দীনদার নেতৃত্ব ছাড়া উম্মাহ গঠন ও উম্মাহর উন্নতি সম্ভব নয়৷ উম্মাহ কেবল এই পদ্ধতিতেই উন্নতি করতে পারে। যেকোনো উম্মাহর জন্য সঠিক নেতৃত্ব এতই জরুরি, যেভাবে শরীরের জন্য ধমনী আর শাহরগের জন্য মাথা।  নেতা দীনদার না হলে তার সমাজে দ্বীন থাকে না। আর সমাজে দ্বীন না থাকলে সেখানে আল্লাহর রহমত থাকে না। আর আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো ভালো কিছু টিকিয়ে রাখা সম্ভব না৷ যার প্রমাণ ছিলো অটোম্যান  এম্পায়ার।

দেশে অত্যাচার বৃদ্ধি -অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

মানুষের জন্য রোগ যেমন ধ্বংসাত্মক, তেমনি অত্যাচার অনাচার একটি রাষ্ট্রের বিনাশ হওয়ার কারণ। রোগী যেমন তার নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর চিরনিদ্রায় শুয়ে পড়ে, রাষ্ট্রও এভাবে তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। মিসর, শাম, হিজাজে মুহাম্মদ আলি পাশার অত্যাচারের স্টিমরোলার চালানো হয়৷ ইবরাহিম পাশা যেখানেই গিয়েছে অভিযোগকারীদের নির্মূল করেছেন।

রাশিয়ার সঙ্গে ধ্বংসাত্মক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জার শাসিত রাশিয়াতেও মুসলিমরা বসবাস করত। পারিপার্শ্বিক রাজনীতির পরিবেশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেকালে রাশিয়ান সাম্রাজ্যকে অটোম্যান  সুলতানরা নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতেন। অধ্যাপক রেইনল্ডও এই ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। দুই সাম্রাজ্যের মধ্যকার লড়াই ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম লক্ষণীয় বিষয়। উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলেও প্রকৃতপক্ষে রাশিয়া কিছুটা হলেও বিপাকে পড়েছিল।

কারণ অটোম্যান রা চাইলেই ইউরোপ থেকে সকল প্রকার সরবরাহ পথ বন্ধ করে দিতে পারতো। তারা কৃষ্ণ সাগরে অবরোধ গড়ে তোলে এবং রাশিয়াকে পরাজিত করতে উঠে-পড়ে লাগে। অতঃপর কাঙ্ক্ষিত পরাজয় বুঝতে পেরে তৎকালীন জার দ্বিতীয় নিকোলাস তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে অটোম্যান দের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে সম্মত হন। কোনো কোনো ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে রাশিয়া নিজেদের সাম্রাজ্য রক্ষা করতে পেরেছিল।

ভোগবিলাস ও প্রবৃত্তিপরায়ণতা

ভোগবিলাস ও প্রবৃত্তিপরায়ণতা মানুষের নৈতিকতা নষ্ট করে ফেলে৷ ভোগবিলাসে মত্ত ব্যক্তি নিজের দিক ব্যতিত অন্যকিছুর দিকে মনোযোগ দিতে পারে না৷ পতনের আগে অটোম্যান  সম্রাজ্যে ভোগবিলাসের যেন প্রতিযোগিতা চলছিলো। ৯৯০ হিজরি সনে সুলতান মুরাদ বিন সালিম তার পুত্রেএ খতনা উপলক্ষে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গকরে জাঁকজমকপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষকে দাওয়াত দেয়া হয়। আন্দন সংগীতের পাশাপাশি খেলতামাশার আয়োজন করা হয়। ৪৫ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান করা হয়৷ দুই হাতে সমানে অর্থ বিলিয়ে দেন৷ অথচ মুহাম্মদ আল ফাতিহ তাঁর যুবরাজকে অসিয় করে বলেছিলেন বাইতুল মালের সম্পদ নষ্ট না করতে৷

দ্বন্দ্ব ও দালালি-অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ

পারস্পরিক জাতিগত দ্বন্দ্ব মানুষের ধ্বংস নিয়ে আসে। আল্লাহ নিজে একে ধ্বংসের কারণ বলেছেন। তাছাড়া নবি স. বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে তোমাদের পূর্ববর্তীরা পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছিল, ফলস্বরূপ তারা ধ্বংস হয়েছে।’

ধ্বংসাত্মক মতভিন্নতা যা নিন্দনীয় ও ক্ষতিক,  তা জাতির পতনের মূল কারণ। পতনকালে অটোম্যান  সাম্রাজ্য এ ধরনের মতানৈক্য আর বিদ্বেষের শিকার হয়েছিলো। সুলতানের সাথে আঞ্চলিক নেতাদের দ্বন্দ্ব ছিলো। তারা স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে মত দিচ্ছিলো। যেমনঃ ইরাকের মামলুকরা, শামে আলে আজম, মিসরে মুহাম্মদ আলি ইত্যাদি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়

বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে অটোম্যান  সুলতান জার্মানির সঙ্গে একটি গোপন চুক্তি করেন। এতে করে যুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ সময় ধরে জার্মানির পক্ষে ছিল তারা। ১৯১৫ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত মিত্রবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) শহরকে রক্ষা করতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যায় অটোম্যান  সেনারা। এতে করে অটোম্যান দের প্রায় ৫ লক্ষ সেনা নিহত হয় এবং ৩.৮ মিলিয়ন সেনা আহত হয়। অতঃপর ১৯১৮ সালে গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে একটি অস্ত্র চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি নেয় অটোম্যানরা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরেও সাম্রাজ্যের অনেক দেশ চেয়েছিল অটোম্যান রা শাসনকার্য চালিয়ে যাক। তবে যুদ্ধের পূর্বে ফেডারেল সরকার প্রতিষ্ঠা করে সাম্রাজ্য পরিচালনার প্রবল সম্ভাবনাও ছিল। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বযুদ্ধই এই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অটোম্যান রা পরাজিত হওয়ায় জয়ী অংশের বেশিরভাগই বিভক্তির পক্ষে রায় দেয়। এতে করে ফেডারেল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়। সেই সাথে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অটোম্যান  সাম্রাজ্য ছোট ছোট ভাগ হয়ে একেবারে ধ্বংস হয়ে যায়।

পরিশেষে

এই ছিলো অটোম্যান দের পতনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। ৬০০ বছরের এই সাম্রাজ্যের ইতিহাস লিখতে বসলে আসলে হাজার হাজার পাতা লেখা সম্ভব। কিন্তু পড়তে প্রয়োজন ধৈর্য ও সময়। তাই খুব সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আপনাদের সামনে নিয়ে আশার ছোট চেষ্টা।

আশা করি সবার ভালো লাগবে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।


2 responses to “অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ”

  1. সুন্দর লিখেছেন। আপনার কাছ থেকে এরকম আরও ঐতিহাসিক পোস্ট আশা করি আমরা পাঠকেরা। ধন্যবাদ

    • ধন্যবাদ ভাই৷ দোয়া করবেন৷ ইন-শা-আল্লাহ লেখার চেষ্টা করবো

Leave a Reply